ঢাকা ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo শায়েস্তাগঞ্জে পিকআপ-ট্রাকের সংঘর্ষে চালক নিহত Logo চুনারুঘাট উপজেলার চন্ডিছড়া চা বাগানে ভার্চুয়ালি ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo হবিগঞ্জে দুপক্ষের সংঘর্ষে ২ জন নিহত,আহত ৪০ Logo শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নিজস্ব কোনো ভবন নেই দাপ্তরিক কাজ হচ্ছে ভাড়া বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে। Logo শায়েস্তাগঞ্জে ভয়াবহ যানজট-দেখার যেন কেউ নেই Logo মাধবপুর পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি Logo চুনারুঘাটে খোয়াই নদীতে গোসল করতে গিয়ে বৃদ্ধ নিখোঁজ Logo শায়েস্তাগঞ্জে বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলর আব্দুল আহাদকে প্রেসক্লাবের সংবর্ধনা Logo ‘বাজেট বুঝি না, শুধু দুবেলা খাবার চাই’ Logo ‘চা শ্রমিকের কোনো পরিবর্তন নেই’প্রতিদিন ১৮৭ টাকা মজুরি নিয়ে দুর্দশার জীবন কাটাছে

হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন খালেদা জিয়া

শায়েস্তাগঞ্জের বাণী ডেস্ক ,

চিকিৎসা শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন। মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসা ফিরোজার উদ্দেশে রওনা হয় তার গাড়িবহর।

খালেদা জিয়া যখন বাসায় পৌঁছান, তখন সেখানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গত ২১ জুন দিবাগত রাতে গুলশানের বাসা ফিরোজায় খালেদা জিয়া হঠাৎ ‘অসুস্থ’ হয়ে পড়লে রাত সাড়ে ৩টায় অ্যাম্বুলেন্সে করে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।এরপর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী, অধ্যাপক শামসুল আরেফিন, অধ্যাপক একিউএম মহসিনসহ মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা কয়েক দফা বৈঠকে বসে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করেন। মেডিকেল বোর্ডের এসব সভায় লন্ডন থেকে ডা. জোবায়েদা রহমানসহ যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

২২ জুন রাতে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরদিন বিকালে খালেদা জিয়ার হার্টে (হৃদযন্ত্র) পেসমেকার (হৃদস্পন্দন তৈরির যন্ত্র) স্থাপন করা হয়। হাসপাতালের চতুর্থ তলায় ক্যাথল্যাবে এই যন্ত্র বসানো হয়।
পর্তুগাল আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন’ ২৪ উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) হৃদরোগের সমস্যা আগে থেকেই ছিল। হার্টে ব্লক ছিল, একটা স্টেন্টও (রিং) লাগানো ছিল। সব কিছু পর্যালোচনা করে মেডিকেল বোর্ড ম্যাডামের হার্টে পেসমেকার বসানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরে বিশেষায়িত কক্ষে (ক্যাথল্যাবে) নিয়ে পেসমেকার স্থাপন করা হয়।

দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছর দণ্ডিত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেলেও বিদেশে তার চিকিৎসা করা যাচ্ছে না। বিদেশে যাবেন না, এমন শর্তে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ ছয় মাসের জন্য মুক্তি পান বিএনপি নেত্রী। এরপর থেকে প্রতি ছয় মাস অন্তর খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে তার মুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে যাচ্ছে সরকার।

খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে সপ্তমবার বর্ধিত মুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি অষ্টমবারের মতো বিএনপি চেয়ারপারসনের সাজা স্থগিত করে আগের দুটি শর্তেই মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়। মুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী শর্ত দুটি হলো- খালেদা জিয়া আগের মতোই ঢাকার নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন এবং এই সময় তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

এরমধ্যেই খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করার জন্য সরকারের কাছে আবেদনও করেছে তার পরিবার। কিন্তু সেটি নাকচ করা হয়েছে। সরকার বলছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী এখন বিদেশে যেতে চাইলে খালেদা জিয়াকে কারাগারে গিয়ে আবেদন করতে হবে।

২০০৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজার পর খালেদা জিয়া কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি হন। গত বছর ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। কারাগার থেকে অসুস্থতা নিয়ে মুক্তির পর এ পর্যন্ত ছয় দফা এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন খালেদা জিয়া।

৭৮ বছর বয়সি সাবেক প্রধানমন্ত্রী আথ্রাইটিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:৩৯:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০২৪
১৭২ বার পড়া হয়েছে

হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন খালেদা জিয়া

আপডেট সময় ০৮:৩৯:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০২৪

চিকিৎসা শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন। মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসা ফিরোজার উদ্দেশে রওনা হয় তার গাড়িবহর।

খালেদা জিয়া যখন বাসায় পৌঁছান, তখন সেখানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গত ২১ জুন দিবাগত রাতে গুলশানের বাসা ফিরোজায় খালেদা জিয়া হঠাৎ ‘অসুস্থ’ হয়ে পড়লে রাত সাড়ে ৩টায় অ্যাম্বুলেন্সে করে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।এরপর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী, অধ্যাপক শামসুল আরেফিন, অধ্যাপক একিউএম মহসিনসহ মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা কয়েক দফা বৈঠকে বসে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করেন। মেডিকেল বোর্ডের এসব সভায় লন্ডন থেকে ডা. জোবায়েদা রহমানসহ যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

২২ জুন রাতে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরদিন বিকালে খালেদা জিয়ার হার্টে (হৃদযন্ত্র) পেসমেকার (হৃদস্পন্দন তৈরির যন্ত্র) স্থাপন করা হয়। হাসপাতালের চতুর্থ তলায় ক্যাথল্যাবে এই যন্ত্র বসানো হয়।
পর্তুগাল আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন’ ২৪ উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) হৃদরোগের সমস্যা আগে থেকেই ছিল। হার্টে ব্লক ছিল, একটা স্টেন্টও (রিং) লাগানো ছিল। সব কিছু পর্যালোচনা করে মেডিকেল বোর্ড ম্যাডামের হার্টে পেসমেকার বসানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরে বিশেষায়িত কক্ষে (ক্যাথল্যাবে) নিয়ে পেসমেকার স্থাপন করা হয়।

দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছর দণ্ডিত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেলেও বিদেশে তার চিকিৎসা করা যাচ্ছে না। বিদেশে যাবেন না, এমন শর্তে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ ছয় মাসের জন্য মুক্তি পান বিএনপি নেত্রী। এরপর থেকে প্রতি ছয় মাস অন্তর খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে তার মুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে যাচ্ছে সরকার।

খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে সপ্তমবার বর্ধিত মুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি অষ্টমবারের মতো বিএনপি চেয়ারপারসনের সাজা স্থগিত করে আগের দুটি শর্তেই মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়। মুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী শর্ত দুটি হলো- খালেদা জিয়া আগের মতোই ঢাকার নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন এবং এই সময় তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

এরমধ্যেই খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করার জন্য সরকারের কাছে আবেদনও করেছে তার পরিবার। কিন্তু সেটি নাকচ করা হয়েছে। সরকার বলছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী এখন বিদেশে যেতে চাইলে খালেদা জিয়াকে কারাগারে গিয়ে আবেদন করতে হবে।

২০০৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজার পর খালেদা জিয়া কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি হন। গত বছর ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। কারাগার থেকে অসুস্থতা নিয়ে মুক্তির পর এ পর্যন্ত ছয় দফা এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন খালেদা জিয়া।

৭৮ বছর বয়সি সাবেক প্রধানমন্ত্রী আথ্রাইটিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।