ঢাকা ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশকালে যুবক আটক Logo গেজেটে শায়েস্তাগঞ্জ, ভোটার তালিকায় হবিগঞ্জে Logo শায়েস্তাগঞ্জের দুই গুণীশিল্পী পেলেন ‘শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা’ পদক Logo হবিগঞ্জে ‘শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা’ পদক পেলেন ২৯ গুণীশিল্পী Logo হবিগঞ্জে যুবককে কুপিয়ে হত্যা Logo শায়েস্তাগঞ্জে নজরুল জয়ন্তী ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ Logo হবিগঞ্জে ধর্ষণের পর তরুণী হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড Logo তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রভাব চা শিল্পে, উৎপাদনে ভাটা Logo হবিগঞ্জে বালুবাহী ট্রাকে মিলল ভারতীয় কসমেটিকস-শাড়িসহ কোটি টাকার পণ্য Logo হবিগঞ্জে হামে ২১ জনের মৃত্যু, বাড়ছে আক্রান্ত হাসপাতালে তীব্র শয্যা সংকট

পাথরঘাটায় ঝুঁকিপূর্ণ ১৬টি সেতু, আতঙ্কে এলাকাবাসী

বরগুনা প্রতিনিধিঃ

বরগুনার পাথরঘাটায় ১৬ টি সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন প্রায় কয়েক লাখ মানুষ। সংস্কারের অভাবে পাথরঘাটার বিভিন্ন এলাকায় নির্মিত ৫০ টি লোহার সেতু ও ১৫ টি পাকা সেতু। এর মধ্যে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে রয়েছে লোহার ১৬ টি সেতু। এর মধ্যে বেশকিছু সেতু ভেঙে খালে পড়ে আছে। এসব এলাকা দিয়ে চলাচল করতে ভোগান্তিতে পড়ছে পথচারীরা।

পাথরঘাটা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটা উপজেলার মধ্যে লোহা ও পাকা মোট সেতু রয়েছে ৬৫ টি। এর মধ্যে সেতুগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না করার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে রয়েছে ১৬ টি সেতু। তাদের তথ্য অনুসারে এই সকল সেতু ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানায়, যেকোনো সময় এই সকল ব্রিজে বরগুনার হলদিয়া হাট ব্রিজের মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে । গত ২২ জুন হলদিয়া হাট আয়রন ব্রিজ ধসে মাইক্রোবাসসহ খালে পড়ে ৯ জন মারা যায়। এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সেজন্য আতঙ্ক বিরাজ করছে তাদের মধ্যে। এই সকল সেতু দ্রুত নির্মাণের দাবি জানান তারা ।

স্থানীয়রা আরও জানায়, অধিকাংশ সেতুতে নেই ঝুঁকিপূর্ণ লেখা নোটিশ বোর্ড ।

কাঠালতলীর ইয়াসিন বলেন, নির্মাণের পর থেকে একবারের জন্যও সংস্কার করা হয়নি সেতুটি। এ কারণে সেতুটির একপাশ ডেবে যাওয়ার পাশাপাশি মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে লোহার অ্যাঙ্গেল। বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে লোহার খুঁটিও। যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষ হাঁটলেও ঝাঁকুনি দেয় সেতুটিতে। তারপরও বিকল্প পথ না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই সেতু পার হচ্ছে মানুষ ও যানবাহন।

চরদুয়ানীর জামান বলেন, এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে রোগী পার করতে আমাদের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, হয় সেতুটি সরিয়ে ফেলুক আর না হয় দ্রুত সংস্কার করুক। এই সকল সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা পারাপার হয়। এই সকল সেতু চলাচলের জন্য উপজেলা নির্বাচনের সময় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা কাঠ দিয়ে মেরামত করে দিয়েছে কিন্তু অতি বৃষ্টি হওয়ার কারণে আবার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, এ পর্যন্ত উপজেলায় ১৬ টি ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর তালিকা করা হয়েছে। এগুলো নির্মাণের জন্য বাজেট আকারে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরপর বরাদ্দ পেলে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পুনর্নির্মাণ করা হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে সতর্কীকরণ নোটিশ দেয়া আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ সেতু গুলোতে সতর্কীকরণ নোটিশ দেয়া হয়েছে অনেক আগে থেকেই। যে সকল নোটিশ বোর্ড নষ্ট হয়ে গেছে সেগুলো পুনরায় লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:০১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪
২৮৪ বার পড়া হয়েছে

পাথরঘাটায় ঝুঁকিপূর্ণ ১৬টি সেতু, আতঙ্কে এলাকাবাসী

আপডেট সময় ০৯:০১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪

বরগুনার পাথরঘাটায় ১৬ টি সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন প্রায় কয়েক লাখ মানুষ। সংস্কারের অভাবে পাথরঘাটার বিভিন্ন এলাকায় নির্মিত ৫০ টি লোহার সেতু ও ১৫ টি পাকা সেতু। এর মধ্যে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে রয়েছে লোহার ১৬ টি সেতু। এর মধ্যে বেশকিছু সেতু ভেঙে খালে পড়ে আছে। এসব এলাকা দিয়ে চলাচল করতে ভোগান্তিতে পড়ছে পথচারীরা।

পাথরঘাটা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটা উপজেলার মধ্যে লোহা ও পাকা মোট সেতু রয়েছে ৬৫ টি। এর মধ্যে সেতুগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না করার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে রয়েছে ১৬ টি সেতু। তাদের তথ্য অনুসারে এই সকল সেতু ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানায়, যেকোনো সময় এই সকল ব্রিজে বরগুনার হলদিয়া হাট ব্রিজের মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে । গত ২২ জুন হলদিয়া হাট আয়রন ব্রিজ ধসে মাইক্রোবাসসহ খালে পড়ে ৯ জন মারা যায়। এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সেজন্য আতঙ্ক বিরাজ করছে তাদের মধ্যে। এই সকল সেতু দ্রুত নির্মাণের দাবি জানান তারা ।

স্থানীয়রা আরও জানায়, অধিকাংশ সেতুতে নেই ঝুঁকিপূর্ণ লেখা নোটিশ বোর্ড ।

কাঠালতলীর ইয়াসিন বলেন, নির্মাণের পর থেকে একবারের জন্যও সংস্কার করা হয়নি সেতুটি। এ কারণে সেতুটির একপাশ ডেবে যাওয়ার পাশাপাশি মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে লোহার অ্যাঙ্গেল। বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে লোহার খুঁটিও। যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষ হাঁটলেও ঝাঁকুনি দেয় সেতুটিতে। তারপরও বিকল্প পথ না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই সেতু পার হচ্ছে মানুষ ও যানবাহন।

চরদুয়ানীর জামান বলেন, এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে রোগী পার করতে আমাদের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, হয় সেতুটি সরিয়ে ফেলুক আর না হয় দ্রুত সংস্কার করুক। এই সকল সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা পারাপার হয়। এই সকল সেতু চলাচলের জন্য উপজেলা নির্বাচনের সময় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা কাঠ দিয়ে মেরামত করে দিয়েছে কিন্তু অতি বৃষ্টি হওয়ার কারণে আবার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, এ পর্যন্ত উপজেলায় ১৬ টি ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর তালিকা করা হয়েছে। এগুলো নির্মাণের জন্য বাজেট আকারে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরপর বরাদ্দ পেলে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পুনর্নির্মাণ করা হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে সতর্কীকরণ নোটিশ দেয়া আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ সেতু গুলোতে সতর্কীকরণ নোটিশ দেয়া হয়েছে অনেক আগে থেকেই। যে সকল নোটিশ বোর্ড নষ্ট হয়ে গেছে সেগুলো পুনরায় লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে।