ঢাকা ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাহুবলে পিকআপ-কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে শ্রমিক নিহত, আহত ৪ Logo ট্রেনের শেষ বগীর পেছনেই ৩৫ বছরের জীবন Logo চুনারুঘাটে কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে গরু দিয়ে জমি চাষ Logo চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩২ পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ১২ চিকিৎসক, Logo হবিগঞ্জে চুনারুঘাটে ৬১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৪ Logo ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর যুবদলের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত Logo সাবেক স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সৈয়দ গাজিউর রহমানের দাফন সম্পন্ন Logo নাব্য সংকটে সুতাং নদী এখন মরা খাল শিল্পবর্জ্যের দূষণে বিষাক্ত পানি Logo সৌদি আরবে প্রাইভেট কারের চাপায় শায়েস্তাগঞ্জের যুবক নিহত, পরিবারে মাতম Logo ‘অভাব তো বয়স বোঝে না, পেট তো খাবার চায়’

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ‘ছিকর’ যাচ্ছে ইউরোপে

শায়েস্তাগঞ্জের বাণী ডেস্ক ,

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘ছিকর’ একদিকে স্থানীয় সংস্কৃতির অংশ, অন্যদিকে প্রবাসী সিলেটিদের নস্টালজিয়ার প্রতীক। মাটি দিয়ে তৈরি বিস্কুটের মতো দেখতে এই খাবারটি দেশে-বিদেশে সমান জনপ্রিয়। সিলেটের চাঁদনীঘাটসহ কিছু নির্দিষ্ট স্থানে ছিকর বিক্রি হয়।

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা থেকে বদরুল আলম চাঁদনীঘাটে এসেছেন ছিকর কিনতে। তার চাচি যুক্তরাজ্যে থাকেন এবং তাকে বিশেষ এই খাবার পাঠাতে বলেছেন।

বদরুল বলেন, ‘আমার চাচি অনেক দিন ধরে ছিকর পাঠাতে বলছেন। তাই বিয়ানীবাজার থেকে এখানে এলাম। এক কেজি কিনেছি, আত্মীয়ের মাধ্যমে লন্ডনে পাঠাব।’

কেন ছিকর খাওয়া হয়, এ নিয়ে স্থানীয়দের নানা মত। অনেকে মনে করেন, এটি রক্তস্বল্পতা দূর করে, শক্তি বাড়ায় এবং খনিজ উপাদানের ঘাটতি পূরণ করে।

সিলেটের মদিনা মার্কেট এলাকার লাইলী বেগম বলেন, ‘গর্ভাবস্থায় এটি খাওয়ার ইচ্ছা হতো। মুরব্বিরাও খেতে বলতেন। তবে এতে উপকার হয়েছে কিনা জানি না।’

তার স্বামী মুরাদ আহমদ বলেন, ‘এটি খেতে মিষ্টি মিষ্টি লাগে। একবার খেলে আবার খাওয়ার ইচ্ছা হয়।’

দক্ষিণ সুরমার রেখা রানী দাস বলেন, ‘আগে ওষুধের অভাব ছিল। তখন রক্তস্বল্পতা দূর করতে ও শক্তি বাড়াতে গর্ভবতী নারীরা ছিকর খেতেন।’

তবে সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত বলেন, ‘ছিকরের কোনো বৈজ্ঞানিক উপকারিতা নেই। বরং এতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া এটি খাওয়া উচিত নয়।’

ছিকর মূলত সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ এবং মৌলভীবাজারের কিছু এলাকায় তৈরি হয়। বিশেষত, লালাবাজার, ছাতক, বানিয়াচং, বাহুবল ও মাধবপুরে এটি তৈরি হয়। মাটি সংগ্রহের পর তা ভিজিয়ে মন্ড বানানো হয়। এরপর রোদে শুকিয়ে মাটির চুলায় পোড়ানো হয়। কখনো কখনো সুগন্ধি মিশিয়ে ছিকর আরও আকর্ষণীয় করা হয়।

লালাবাজারের ছিকর কারিগর সজিব মালাকার বলেন, ‘আমরা পাহাড়ের এঁটেল মাটি দিয়ে এটি তৈরি করি। বিদেশি ক্রেতারাই আমাদের প্রধান গ্রাহক। বিশেষত যুক্তরাজ্যে এর চাহিদা অনেক।’

ছিকরের উৎপত্তি নিয়ে জানা যায়, এটি প্রথম হবিগঞ্জে তৈরি হয়। ‘ছিকর’ শব্দটি এসেছে ফারসি ‘ছিয়া’ (কালো) এবং ‘কর’ (মাটি) থেকে। অর্থাৎ ‘কালো মাটি’র খাবার। স্থানীয় দরিদ্র মানুষ একসময় খাবারের বিকল্প হিসেবে এটি খেতেন।

বর্তমানে সিলেট অঞ্চলে ছিকর খাওয়ার প্রচলন কমলেও বিদেশে থাকা সিলেটিদের কাছে এটি একধরনের নস্টালজিক খাবার।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:১৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪
২৩৬ বার পড়া হয়েছে

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ‘ছিকর’ যাচ্ছে ইউরোপে

আপডেট সময় ০৭:১৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘ছিকর’ একদিকে স্থানীয় সংস্কৃতির অংশ, অন্যদিকে প্রবাসী সিলেটিদের নস্টালজিয়ার প্রতীক। মাটি দিয়ে তৈরি বিস্কুটের মতো দেখতে এই খাবারটি দেশে-বিদেশে সমান জনপ্রিয়। সিলেটের চাঁদনীঘাটসহ কিছু নির্দিষ্ট স্থানে ছিকর বিক্রি হয়।

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা থেকে বদরুল আলম চাঁদনীঘাটে এসেছেন ছিকর কিনতে। তার চাচি যুক্তরাজ্যে থাকেন এবং তাকে বিশেষ এই খাবার পাঠাতে বলেছেন।

বদরুল বলেন, ‘আমার চাচি অনেক দিন ধরে ছিকর পাঠাতে বলছেন। তাই বিয়ানীবাজার থেকে এখানে এলাম। এক কেজি কিনেছি, আত্মীয়ের মাধ্যমে লন্ডনে পাঠাব।’

কেন ছিকর খাওয়া হয়, এ নিয়ে স্থানীয়দের নানা মত। অনেকে মনে করেন, এটি রক্তস্বল্পতা দূর করে, শক্তি বাড়ায় এবং খনিজ উপাদানের ঘাটতি পূরণ করে।

সিলেটের মদিনা মার্কেট এলাকার লাইলী বেগম বলেন, ‘গর্ভাবস্থায় এটি খাওয়ার ইচ্ছা হতো। মুরব্বিরাও খেতে বলতেন। তবে এতে উপকার হয়েছে কিনা জানি না।’

তার স্বামী মুরাদ আহমদ বলেন, ‘এটি খেতে মিষ্টি মিষ্টি লাগে। একবার খেলে আবার খাওয়ার ইচ্ছা হয়।’

দক্ষিণ সুরমার রেখা রানী দাস বলেন, ‘আগে ওষুধের অভাব ছিল। তখন রক্তস্বল্পতা দূর করতে ও শক্তি বাড়াতে গর্ভবতী নারীরা ছিকর খেতেন।’

তবে সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত বলেন, ‘ছিকরের কোনো বৈজ্ঞানিক উপকারিতা নেই। বরং এতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া এটি খাওয়া উচিত নয়।’

ছিকর মূলত সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ এবং মৌলভীবাজারের কিছু এলাকায় তৈরি হয়। বিশেষত, লালাবাজার, ছাতক, বানিয়াচং, বাহুবল ও মাধবপুরে এটি তৈরি হয়। মাটি সংগ্রহের পর তা ভিজিয়ে মন্ড বানানো হয়। এরপর রোদে শুকিয়ে মাটির চুলায় পোড়ানো হয়। কখনো কখনো সুগন্ধি মিশিয়ে ছিকর আরও আকর্ষণীয় করা হয়।

লালাবাজারের ছিকর কারিগর সজিব মালাকার বলেন, ‘আমরা পাহাড়ের এঁটেল মাটি দিয়ে এটি তৈরি করি। বিদেশি ক্রেতারাই আমাদের প্রধান গ্রাহক। বিশেষত যুক্তরাজ্যে এর চাহিদা অনেক।’

ছিকরের উৎপত্তি নিয়ে জানা যায়, এটি প্রথম হবিগঞ্জে তৈরি হয়। ‘ছিকর’ শব্দটি এসেছে ফারসি ‘ছিয়া’ (কালো) এবং ‘কর’ (মাটি) থেকে। অর্থাৎ ‘কালো মাটি’র খাবার। স্থানীয় দরিদ্র মানুষ একসময় খাবারের বিকল্প হিসেবে এটি খেতেন।

বর্তমানে সিলেট অঞ্চলে ছিকর খাওয়ার প্রচলন কমলেও বিদেশে থাকা সিলেটিদের কাছে এটি একধরনের নস্টালজিক খাবার।