ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাহুবল ফল প্রকাশের আগেরদিন মৃত্যু, সেই রেজা এসএসসিতে পেয়েছে ৪.১১ Logo হবিগঞ্জে ফল বিক্রেতার মোবাইল চুরির অভিযোগে এসআই ক্লোজড Logo জুলাই যোদ্ধাদের চাকুরির নিয়োগপত্র প্রদান সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী Logo একটি চক্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে: ‍প্রধানমন্ত্রী Logo জুলাই অভ্যুত্থানের মহানায়ক কোনো ব্যক্তি বা দল নয়, গণতন্ত্রকামী জনগণ : প্রধানমন্ত্রী Logo শায়েস্তাগঞ্জে আগস্টের বিজয় Logo হবিগঞ্জে এনসিপির মামলা: ছাত্রদল নেতা রিংগনসহ ১১ জনের জামিন Logo হবিগঞ্জে এক বছরে পানিতে ডুবে ২৭ শিশুর মৃত্যু Logo লাখাইয়ে হোমিওপ্যাথিক তরল পানে দম্পতিসহ ৫ জনের মৃত্যু Logo হবিগঞ্জে পাটোয়ারী-সারজিসসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা

বানিয়াচংয়ে সড়ক বেহাল জনদুর্ভোগে নিত্যদিনের যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা

বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

বানিয়াচং উপজেলা সদরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গ্যানিংগঞ্জ বাজার থেকে পাঁচ/ছয় নং বাজারের সুফিয়া মতিন মহিলা কলেজ ও সুফিয়া মতিন টেকনিক্যাল স্কুল পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে এখন পরিণত হয়েছে দুর্ভোগের যাত্রাপথ।

প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, প্রসূতি মা, বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানিতে সড়কের চেহারা এমন হয় যে, চলাচল রীতিমতো যুদ্ধসম।সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো সড়কজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গর্ত, খানাখন্দ আর জমে থাকা পানিতে পথ যেন পথ নয়, একেকটা কষ্টের ধাঁধা। ছোট যানবাহন—ভ্যান, মিশুক, সিএনজি, অটোরিকশা ও ইজিবাইক—ভীষণ কষ্ট করে যাতায়াত করলেও প্রায়ই সেগুলো গর্তে আটকে যায় বা উল্টে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানমুখী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন পায়ে হেঁটে চলতে হয় এই ভাঙা পথে। অনেক সময় হোঁচট খেয়ে পড়ে তারা আহত হচ্ছেন; ইউনিফর্ম ভিজে যাচ্ছে কাদায়। নষ্ট হচ্ছে বই খাতাও অন্যান্য উপকরণ।স্থানীয়দের ভাষ্যে উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের উপেক্ষার প্রতিচ্ছবি। তাদের অভিযোগ—শুধু বর্ষা নয়, বছরের অন্য সময়েও সড়কটির অবস্থা একই রকম খারাপ থাকে। পথের বুকে অসংখ্য গর্ত, ইটসলিংয়ের ভেঙে যাওয়ায় খানাখন্দে আর কর্দমাক্ত পরিবেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

যাত্রীবাহী গাড়িগুলো প্রায়ই উল্টে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় যানবাহন ও যাত্রী। যদিও চালকদের জন্য বিকল্প রাস্তা রয়েছে, তবে পায়ে হেঁটে চলা সাধারণ মানুষ ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য সে সুযোগ নেই।

স্থানীয় ইজিবাইক চালক আ. ছামাদ রাফি বলেন, “এই রাস্তায় চলা মানে যেন প্রতিদিন মৃত্যুর আশঙ্কা বুকে নিয়ে যাত্রা করা। গর্ত আর পানিতে গাড়ি কখন আটকে পড়ে, বলা মুশকিল।”

পথচারীরা জানান, রাস্তার করুণ দশার কারণে গুরুতর রোগী, বিশেষ করে প্রসূতি মায়েদের সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। ঝাঁকুনিতে রোগীরা কষ্ট পায়, কখনো কখনো আরও গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি হয়।

মিশুক চালক আলমগীর মিয়া বলেন, “এই ভাঙাচোরা রাস্তায় প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে চলাফেরা করাটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে প্রসূতি রোগীদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার সময় ঝাঁকুনিতে তারা ভোগান্তির শিকার হন। এমনকি রাস্তায় সন্তান প্রসব হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

বৃদ্ধ যাত্রীরা ঝাঁকুনির কারণে কোমরে ব্যথাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় পড়েন। এছাড়া প্রতিনিয়ত মিশুক ও অন্যান্য যানবাহন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ফলে আমাদের অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় হচ্ছে মেরামতে। এক কথায়, এই রাস্তায় চলাচল এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী সাহেল মিয়া জানান, “রাস্তাঘাট ভাঙা থাকায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, এতে বিক্রিতে প্রভাব পড়ছে। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের। রোজ সকালে কাদা ভাঙিয়ে স্কুলে পৌঁছানো তাদের নিত্যদিনের লড়াই।”

একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের স্কুলে যাওয়া মানেই যেন প্রতিদিন যুদ্ধ করা। রাস্তায় একটু অসতর্ক হলেই পড়ে যাই। আমরা চাই, অবিলম্বে এই রাস্তা সংস্কার হোক।”

এ বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা প্রকৌশলী মো. সোহেল হোসাইন বলেন, “গ্যানিংগঞ্জ বাজার থেকে সুফিয়া মতিন মহিলা কলেজ পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:১০:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫
১৫৯ বার পড়া হয়েছে

বানিয়াচংয়ে সড়ক বেহাল জনদুর্ভোগে নিত্যদিনের যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় ০১:১০:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫

বানিয়াচং উপজেলা সদরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গ্যানিংগঞ্জ বাজার থেকে পাঁচ/ছয় নং বাজারের সুফিয়া মতিন মহিলা কলেজ ও সুফিয়া মতিন টেকনিক্যাল স্কুল পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে এখন পরিণত হয়েছে দুর্ভোগের যাত্রাপথ।

প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, প্রসূতি মা, বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানিতে সড়কের চেহারা এমন হয় যে, চলাচল রীতিমতো যুদ্ধসম।সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো সড়কজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গর্ত, খানাখন্দ আর জমে থাকা পানিতে পথ যেন পথ নয়, একেকটা কষ্টের ধাঁধা। ছোট যানবাহন—ভ্যান, মিশুক, সিএনজি, অটোরিকশা ও ইজিবাইক—ভীষণ কষ্ট করে যাতায়াত করলেও প্রায়ই সেগুলো গর্তে আটকে যায় বা উল্টে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানমুখী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন পায়ে হেঁটে চলতে হয় এই ভাঙা পথে। অনেক সময় হোঁচট খেয়ে পড়ে তারা আহত হচ্ছেন; ইউনিফর্ম ভিজে যাচ্ছে কাদায়। নষ্ট হচ্ছে বই খাতাও অন্যান্য উপকরণ।স্থানীয়দের ভাষ্যে উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের উপেক্ষার প্রতিচ্ছবি। তাদের অভিযোগ—শুধু বর্ষা নয়, বছরের অন্য সময়েও সড়কটির অবস্থা একই রকম খারাপ থাকে। পথের বুকে অসংখ্য গর্ত, ইটসলিংয়ের ভেঙে যাওয়ায় খানাখন্দে আর কর্দমাক্ত পরিবেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

যাত্রীবাহী গাড়িগুলো প্রায়ই উল্টে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় যানবাহন ও যাত্রী। যদিও চালকদের জন্য বিকল্প রাস্তা রয়েছে, তবে পায়ে হেঁটে চলা সাধারণ মানুষ ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য সে সুযোগ নেই।

স্থানীয় ইজিবাইক চালক আ. ছামাদ রাফি বলেন, “এই রাস্তায় চলা মানে যেন প্রতিদিন মৃত্যুর আশঙ্কা বুকে নিয়ে যাত্রা করা। গর্ত আর পানিতে গাড়ি কখন আটকে পড়ে, বলা মুশকিল।”

পথচারীরা জানান, রাস্তার করুণ দশার কারণে গুরুতর রোগী, বিশেষ করে প্রসূতি মায়েদের সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। ঝাঁকুনিতে রোগীরা কষ্ট পায়, কখনো কখনো আরও গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি হয়।

মিশুক চালক আলমগীর মিয়া বলেন, “এই ভাঙাচোরা রাস্তায় প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে চলাফেরা করাটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে প্রসূতি রোগীদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার সময় ঝাঁকুনিতে তারা ভোগান্তির শিকার হন। এমনকি রাস্তায় সন্তান প্রসব হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

বৃদ্ধ যাত্রীরা ঝাঁকুনির কারণে কোমরে ব্যথাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় পড়েন। এছাড়া প্রতিনিয়ত মিশুক ও অন্যান্য যানবাহন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ফলে আমাদের অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় হচ্ছে মেরামতে। এক কথায়, এই রাস্তায় চলাচল এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী সাহেল মিয়া জানান, “রাস্তাঘাট ভাঙা থাকায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, এতে বিক্রিতে প্রভাব পড়ছে। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের। রোজ সকালে কাদা ভাঙিয়ে স্কুলে পৌঁছানো তাদের নিত্যদিনের লড়াই।”

একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের স্কুলে যাওয়া মানেই যেন প্রতিদিন যুদ্ধ করা। রাস্তায় একটু অসতর্ক হলেই পড়ে যাই। আমরা চাই, অবিলম্বে এই রাস্তা সংস্কার হোক।”

এ বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা প্রকৌশলী মো. সোহেল হোসাইন বলেন, “গ্যানিংগঞ্জ বাজার থেকে সুফিয়া মতিন মহিলা কলেজ পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”