ঢাকা ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পরকীয়ার জেরে’ শাশুড়িকে ‘হত্যা’, পুত্রবধূ গ্রেপ্তার হত্যার ‘দায় স্বীকার’ তামান্নার Logo বর্ষা নামতেই সুতাং নদীর ক্ষতচিহ্ন উন্মোচিত মরছে মাছ, ছড়াচ্ছে বিষাক্ত দুর্গন্ধ Logo কে. আলী-শামছুন্নাহার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শায়েস্তাগঞ্জে সুধীজন ও সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিল Logo বানিয়াচংয়ে পানি সংকটে বোরো ধান চাষ নিয়ে সংঙ্কায় প্রায় ১০ হাজার কৃষক Logo জ্বালানি তেলের পাচার ঠেকাতে হবিগঞ্জ সীমান্তে সতর্ক বিজিবি Logo ৪ বছর পর শাহজীবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল Logo বাহুবলে সংরক্ষিত বনে গাছ কাটতে বাধা, ফরেস্ট গার্ডকে কুপিয়ে জখম Logo মাধবপুরে রঘুনন্দন ছড়া থেকে বালু লোপাট Logo বাহুবলে খরস্রোতা করাঙ্গী নদী এখন মরা খাল, দিশাহারা কৃষক Logo কর্মকর্তাদের শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত থাকার তাগিদ এমপি গউছের

হবিগঞ্জ পৌরসভার কোটি টাকার অব্যবহৃত যানে গজিয়েছে গাছ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:-

হবিগঞ্জ পৌরসভার কোটি টাকা মূল্যের চারটি ট্রাক, চারটি রোড রোলার ও একটি ট্রাক্টর বহুদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে। অচল থাকায় যানবাহনগুলো আগাছার নিচে চাপা পড়েছে। এমনকি গাড়িগুলোর যন্ত্রাংশও নেই জায়গামতো।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার কিবরিয়া মিলনায়তন প্রাঙ্গণে তিনটি ট্রাক, দুইটি রোড রোলার ও একটি ট্রাক্টর অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যানবাহনগুলোর গায়ে জং ধরেছে। যন্ত্রাংশ ও বডির পাতের অনেক অংশ কে বা কারা খুলে নিয়ে গেছে। টায়ার মাটির নিচে ঢুকে গাড়িগুলো এখন রিংয়ের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

পুরাতন পৌরসভা এলাকার একটি পরিত্যক্ত স্থানে একটি ট্রাক লতাপাতার নিচে ঢাকা পড়ে আছে। শুধু চালকের আসন ও স্টিয়ারিং ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। ওই স্থানে থাকা দুইটি বড় রোড রোলারে গাছ গজিয়ে উঠেছে, চাকা খুলে পাশের পরিত্যক্ত জলাশয়ে পড়ে আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার একজন শ্রমিক জানান, তিনি কয়েকদিন ধরেই যানবাহন ও যন্ত্রপাতি পাহারা দিচ্ছেন। বেশিরভাগ যানবাহন দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা হয়নি দেখলেই তা বুঝা যায়।

পুরাতন পৌরসভা এলাকায় জহুর আলী রেস্তোরাঁর মালিক আবিদুর রহমান রাকিব বলেন, “রোড রোলার ও ট্রাকগুলো বহু বছর ধরে এখানে পড়ে রয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ এগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করছে না এবং ভাড়াও দিচ্ছে না। জনগণের সম্পদ নষ্ট হওয়া উচিত নয়। এগুলো মেরামত করে উপযুক্ত কাজে লাগানোর দাবি করছি।”

হবিগঞ্জ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. শামছুল হুদা বলেন, “পৌরসভার জনবল ও উপকরণের সীমাবদ্ধতার কারণে শহরের রাস্তার খানাখন্দ ঠিক করা যাচ্ছে না এবং বিভিন্ন স্থানে ময়লার ভাগাড় জমে আছে। অথচ কোটি টাকার যানবাহন বছরের পর বছর অকেজো পড়ে রয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারের সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। আমরা এসব যানবাহন ব্যবহার করে পৌরভার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের ব্যবস্থা নিতে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”

হবিগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী আব্দুল কদ্দুস শামীম বলেন, “কয়েকটি গাড়ি ও নির্মাণযন্ত্র অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। শিগগির এগুলো মেরামত করে কাজে লাগানো হবে।”

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:২৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
৯৭ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জ পৌরসভার কোটি টাকার অব্যবহৃত যানে গজিয়েছে গাছ

আপডেট সময় ০৫:২৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

হবিগঞ্জ পৌরসভার কোটি টাকা মূল্যের চারটি ট্রাক, চারটি রোড রোলার ও একটি ট্রাক্টর বহুদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে। অচল থাকায় যানবাহনগুলো আগাছার নিচে চাপা পড়েছে। এমনকি গাড়িগুলোর যন্ত্রাংশও নেই জায়গামতো।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার কিবরিয়া মিলনায়তন প্রাঙ্গণে তিনটি ট্রাক, দুইটি রোড রোলার ও একটি ট্রাক্টর অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যানবাহনগুলোর গায়ে জং ধরেছে। যন্ত্রাংশ ও বডির পাতের অনেক অংশ কে বা কারা খুলে নিয়ে গেছে। টায়ার মাটির নিচে ঢুকে গাড়িগুলো এখন রিংয়ের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

পুরাতন পৌরসভা এলাকার একটি পরিত্যক্ত স্থানে একটি ট্রাক লতাপাতার নিচে ঢাকা পড়ে আছে। শুধু চালকের আসন ও স্টিয়ারিং ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। ওই স্থানে থাকা দুইটি বড় রোড রোলারে গাছ গজিয়ে উঠেছে, চাকা খুলে পাশের পরিত্যক্ত জলাশয়ে পড়ে আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার একজন শ্রমিক জানান, তিনি কয়েকদিন ধরেই যানবাহন ও যন্ত্রপাতি পাহারা দিচ্ছেন। বেশিরভাগ যানবাহন দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা হয়নি দেখলেই তা বুঝা যায়।

পুরাতন পৌরসভা এলাকায় জহুর আলী রেস্তোরাঁর মালিক আবিদুর রহমান রাকিব বলেন, “রোড রোলার ও ট্রাকগুলো বহু বছর ধরে এখানে পড়ে রয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ এগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করছে না এবং ভাড়াও দিচ্ছে না। জনগণের সম্পদ নষ্ট হওয়া উচিত নয়। এগুলো মেরামত করে উপযুক্ত কাজে লাগানোর দাবি করছি।”

হবিগঞ্জ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. শামছুল হুদা বলেন, “পৌরসভার জনবল ও উপকরণের সীমাবদ্ধতার কারণে শহরের রাস্তার খানাখন্দ ঠিক করা যাচ্ছে না এবং বিভিন্ন স্থানে ময়লার ভাগাড় জমে আছে। অথচ কোটি টাকার যানবাহন বছরের পর বছর অকেজো পড়ে রয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারের সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। আমরা এসব যানবাহন ব্যবহার করে পৌরভার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের ব্যবস্থা নিতে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”

হবিগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী আব্দুল কদ্দুস শামীম বলেন, “কয়েকটি গাড়ি ও নির্মাণযন্ত্র অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। শিগগির এগুলো মেরামত করে কাজে লাগানো হবে।”