ঢাকা ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কে. আলী-শামছুন্নাহার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শায়েস্তাগঞ্জে সুধীজন ও সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিল Logo বানিয়াচংয়ে পানি সংকটে বোরো ধান চাষ নিয়ে সংঙ্কায় প্রায় ১০ হাজার কৃষক Logo জ্বালানি তেলের পাচার ঠেকাতে হবিগঞ্জ সীমান্তে সতর্ক বিজিবি Logo ৪ বছর পর শাহজীবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল Logo বাহুবলে সংরক্ষিত বনে গাছ কাটতে বাধা, ফরেস্ট গার্ডকে কুপিয়ে জখম Logo মাধবপুরে রঘুনন্দন ছড়া থেকে বালু লোপাট Logo বাহুবলে খরস্রোতা করাঙ্গী নদী এখন মরা খাল, দিশাহারা কৃষক Logo কর্মকর্তাদের শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত থাকার তাগিদ এমপি গউছের Logo হবিগঞ্জে বিএনপি সভাপতিকে আটকের পর মহাসড়ক অবরোধ Logo ওসিকে গালিগালাজ করা হবিগঞ্জে উপজেলা বিএনপির সেই সভাপতি আটক

পানি বাড়লেই ঘর ছাড়তে হয় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের

অলি আহমদ মাহিন, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের মনু নদে পানি বাড়লেই ঘর ছাড়তে হয় সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের মাইজপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মনু নদে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকের ঘরেই হাঁটুসমান পানি প্রবেশ করেছে। চলতি বর্ষায় আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদেরকে তিনবার ঘর ছাড়তে হয়েছে। এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৮৭টি পরিবারের বসবাস।

৩ জুলাই (বুধবার) সকালে মাইজপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, মনু নদের পাড় ঘেঁষে গড়ে তোলা এই প্রকল্পের প্রায় সব ঘরেই কমবেশি পানি উঠেছে।

সকালবেলা ঘরছাড়া অনেকে মনু নদির প্রতিরক্ষা বাঁধের ওপর বসে আছেন। পানিতে ডুবে আছে সবার ঘর। কয়েক জনকে দেখা গেল, পানি ভেঙে ঘর থেকে কিছু জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসছেন। এ রকম অনেকেই যা পেরেছেন, ঘর থেকে বের করে নিয়ে এসেছেন। অনেকে ঘর ছাড়তে চাননি। শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছেন ঘরে থাকার।

কয়েকজন ভুক্তভোগীরা জানান, এ নিয়ে আমাদের দুইবার ঘর ছাড়তে হয়েছে, ঘরে বুকপানি। আমাদের প্রত্যেকটি পরিবারের পাচ থেকে ছয়জন করে আছি। লেপ-তোশক নষ্ট হয়েছে। হোটেল থেকে ক্রয় করে খেতে হচ্ছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক বাসিন্দা আফজল বলেন, আমাদেরকে নদীর পাড়ে আবাসন দেওয়া হয়েছে। এটা কোন সুরক্ষিত জায়গা না, নদীর পানি বাড়লেই ঘরের ভেতর চলে আসে। আরেকটু উঁচু জায়গায় বানিয়ে দিলে ভালো হতো।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন চৌধুরী বলেন, এই বন্যায় তো কিছু সম্ভব না। শুষ্ক মৌসুমে সমস্যা সমাধানে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মৌলভীবাজার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মনু ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিভিন্ন স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার দুপুর ১২টার তথ্য অনুযায়ী, মনু নদ রেলওয়ে ব্রিজের কাছে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ও চাঁদনীঘাটে ৫০ সেন্টিমিটার এবং কুশিয়ারা নদী শেরপুরে বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

পাউবো মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, পানি নামছে। উজানে নতুন করে পানি ঢুকছে না। তবে চাঁদনীঘাটে একটু বাড়বে, যেহেতু এদিক দিয়ে পানি যাবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:৪২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০২৪
১৬০ বার পড়া হয়েছে

পানি বাড়লেই ঘর ছাড়তে হয় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের

আপডেট সময় ০৯:৪২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০২৪

মৌলভীবাজারের মনু নদে পানি বাড়লেই ঘর ছাড়তে হয় সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের মাইজপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মনু নদে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকের ঘরেই হাঁটুসমান পানি প্রবেশ করেছে। চলতি বর্ষায় আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদেরকে তিনবার ঘর ছাড়তে হয়েছে। এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৮৭টি পরিবারের বসবাস।

৩ জুলাই (বুধবার) সকালে মাইজপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, মনু নদের পাড় ঘেঁষে গড়ে তোলা এই প্রকল্পের প্রায় সব ঘরেই কমবেশি পানি উঠেছে।

সকালবেলা ঘরছাড়া অনেকে মনু নদির প্রতিরক্ষা বাঁধের ওপর বসে আছেন। পানিতে ডুবে আছে সবার ঘর। কয়েক জনকে দেখা গেল, পানি ভেঙে ঘর থেকে কিছু জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসছেন। এ রকম অনেকেই যা পেরেছেন, ঘর থেকে বের করে নিয়ে এসেছেন। অনেকে ঘর ছাড়তে চাননি। শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছেন ঘরে থাকার।

কয়েকজন ভুক্তভোগীরা জানান, এ নিয়ে আমাদের দুইবার ঘর ছাড়তে হয়েছে, ঘরে বুকপানি। আমাদের প্রত্যেকটি পরিবারের পাচ থেকে ছয়জন করে আছি। লেপ-তোশক নষ্ট হয়েছে। হোটেল থেকে ক্রয় করে খেতে হচ্ছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক বাসিন্দা আফজল বলেন, আমাদেরকে নদীর পাড়ে আবাসন দেওয়া হয়েছে। এটা কোন সুরক্ষিত জায়গা না, নদীর পানি বাড়লেই ঘরের ভেতর চলে আসে। আরেকটু উঁচু জায়গায় বানিয়ে দিলে ভালো হতো।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন চৌধুরী বলেন, এই বন্যায় তো কিছু সম্ভব না। শুষ্ক মৌসুমে সমস্যা সমাধানে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মৌলভীবাজার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মনু ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিভিন্ন স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার দুপুর ১২টার তথ্য অনুযায়ী, মনু নদ রেলওয়ে ব্রিজের কাছে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ও চাঁদনীঘাটে ৫০ সেন্টিমিটার এবং কুশিয়ারা নদী শেরপুরে বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

পাউবো মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, পানি নামছে। উজানে নতুন করে পানি ঢুকছে না। তবে চাঁদনীঘাটে একটু বাড়বে, যেহেতু এদিক দিয়ে পানি যাবে।