ঢাকা ১২:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পরকীয়ার জেরে’ শাশুড়িকে ‘হত্যা’, পুত্রবধূ গ্রেপ্তার হত্যার ‘দায় স্বীকার’ তামান্নার Logo বর্ষা নামতেই সুতাং নদীর ক্ষতচিহ্ন উন্মোচিত মরছে মাছ, ছড়াচ্ছে বিষাক্ত দুর্গন্ধ Logo কে. আলী-শামছুন্নাহার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শায়েস্তাগঞ্জে সুধীজন ও সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিল Logo বানিয়াচংয়ে পানি সংকটে বোরো ধান চাষ নিয়ে সংঙ্কায় প্রায় ১০ হাজার কৃষক Logo জ্বালানি তেলের পাচার ঠেকাতে হবিগঞ্জ সীমান্তে সতর্ক বিজিবি Logo ৪ বছর পর শাহজীবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল Logo বাহুবলে সংরক্ষিত বনে গাছ কাটতে বাধা, ফরেস্ট গার্ডকে কুপিয়ে জখম Logo মাধবপুরে রঘুনন্দন ছড়া থেকে বালু লোপাট Logo বাহুবলে খরস্রোতা করাঙ্গী নদী এখন মরা খাল, দিশাহারা কৃষক Logo কর্মকর্তাদের শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত থাকার তাগিদ এমপি গউছের

মেলায় বাঘাইড় মাছের দাম আড়াই লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল গ্রামে ৩ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা শুরু হয়েছে। পৌষ সংক্রান্তিতে এই মেলার আয়োজন এখানে দীর্ঘদিনের রেওয়াজ। প্রতি বছরের মতো এবারও পইল গ্রামের ঈদগাহের পাশে বসেছে মেলা। এখানে ছোট থেকে বড় ব্যতিক্রম মাছেরও দেখা মিলছে। সচরাচর দেখা যায় না এমন মাছও এসেছে মেলায়। এটি স্থানীয়দের কাছে প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে।
মেলার আসা সবচেয়ে বড় মাছ বাঘাইড় মাছের দাম হাঁকা হচ্ছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০৭ বছর ধরে চলা মাছের মেলার প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে ছোট বড় সব ধরনের দেশি প্রজাতির মাছ।

এছাড়া শিশুদের খেলনা, কৃষি উপকরণ, শাক-সবজিও মেলায় স্থান পায়। শিশুদের বিনোদনের জন্য মেলায় রাখা হয় নাগরদোলা, ট্রেনসহ নানান খেলার উপকরণ। তবে এবার বাহারি ধরনের মাছ ও হাজারো দর্শক ক্রেতার ভিড়ে পইলের মাছের মেলা সেজেছে নতুন রূপে।
মেলায় এ বছর প্রায় দেড়মণ ওজনের সবচেয়ে বড় বাঘাইর মাছটি নিয়ে এসেছেন জেলার বাহুবল উপজেলার ভেড়াখাল গ্রামের বাসিন্দা মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ। তিনি জানান, মাছটি তিনি কুশিয়ারা নদী থেকে ধরেছেন। মাছের দাম হাঁকাচ্ছেন ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে যদি উপযুক্ত দাম না পান তবে তিনি মাছটি বিক্রি করবেন না। ইতোমধ্যে মাছটির দাম এক লাখ টাকার উপরে অনেকে বলেছেন।

মাছ বিক্রেতা ফজল মিয়া বলেন, এবার বড় আকারের দুটি বোয়াল মাছ নিয়ে এসেছি। মাছগুলোর দাম চেয়েছি ৭০ হাজার টাকা।
মুদ্দত আলী নামে অপর মাছ বিক্রেতা বলেন, হাওর থেকে জীবিত বোয়াল ও বাঘাইড় মাছ এনেছি। বিক্রির জন্য বসে আছি। ক্রেতারা এসে দামদর করছেন।

মেলার আয়োজক কমিটির উপদেষ্টা মহরম আলী জানান, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে তাদের। চাঁদাবাজি ও কোনো ধরনের খারাপ কাজ যেন এখানে স্থান না পায় সে জন্য সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য এ মাছের মেলা দেখে খুশি দর্শনার্থীরাও।

তিনি বলেন, এখানে বোয়াল, বাঘাইড়, পাবদা, রুই, কাতল, চিতল, কালীবাউস, টাকি, পুটি, মাগুরসহ শতাধিক প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। বেশিরভাগ মাছ হাওড় ও বিল থেকে সংগ্রহ করা। হবিগঞ্জ ছাড়াও মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, এমনকি ঢাকা থেকেও এখানে লোকরা আসেন মাছ কিনতে। এ মেলা আমাদের ঐতিহ্য। মেলাকে ঘিরে আমাদের গ্রামে প্রতিটি বাড়িতে উৎসবের আমেজ দেখা দেয়। বিভিন্ন স্থান থেকে আত্মীয় স্বজনরা আসেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন আসেন মেলায় মাছ কিনতে। লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বাগ্মী নেতা বিপিন পালের জন্মভূমি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল গ্রাম। এখানে প্রায় ২০৭ বছর ধরে চলে আসছে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তিতে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবছর দিনব্যাপী এ মেলা হলেও গত কয়েক বছর ধরে তা ৩ দিনব্যাপী হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:৩৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
৩৯ বার পড়া হয়েছে

মেলায় বাঘাইড় মাছের দাম আড়াই লাখ টাকা

আপডেট সময় ০৯:৩৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল গ্রামে ৩ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা শুরু হয়েছে। পৌষ সংক্রান্তিতে এই মেলার আয়োজন এখানে দীর্ঘদিনের রেওয়াজ। প্রতি বছরের মতো এবারও পইল গ্রামের ঈদগাহের পাশে বসেছে মেলা। এখানে ছোট থেকে বড় ব্যতিক্রম মাছেরও দেখা মিলছে। সচরাচর দেখা যায় না এমন মাছও এসেছে মেলায়। এটি স্থানীয়দের কাছে প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে।
মেলার আসা সবচেয়ে বড় মাছ বাঘাইড় মাছের দাম হাঁকা হচ্ছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০৭ বছর ধরে চলা মাছের মেলার প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে ছোট বড় সব ধরনের দেশি প্রজাতির মাছ।

এছাড়া শিশুদের খেলনা, কৃষি উপকরণ, শাক-সবজিও মেলায় স্থান পায়। শিশুদের বিনোদনের জন্য মেলায় রাখা হয় নাগরদোলা, ট্রেনসহ নানান খেলার উপকরণ। তবে এবার বাহারি ধরনের মাছ ও হাজারো দর্শক ক্রেতার ভিড়ে পইলের মাছের মেলা সেজেছে নতুন রূপে।
মেলায় এ বছর প্রায় দেড়মণ ওজনের সবচেয়ে বড় বাঘাইর মাছটি নিয়ে এসেছেন জেলার বাহুবল উপজেলার ভেড়াখাল গ্রামের বাসিন্দা মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ। তিনি জানান, মাছটি তিনি কুশিয়ারা নদী থেকে ধরেছেন। মাছের দাম হাঁকাচ্ছেন ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে যদি উপযুক্ত দাম না পান তবে তিনি মাছটি বিক্রি করবেন না। ইতোমধ্যে মাছটির দাম এক লাখ টাকার উপরে অনেকে বলেছেন।

মাছ বিক্রেতা ফজল মিয়া বলেন, এবার বড় আকারের দুটি বোয়াল মাছ নিয়ে এসেছি। মাছগুলোর দাম চেয়েছি ৭০ হাজার টাকা।
মুদ্দত আলী নামে অপর মাছ বিক্রেতা বলেন, হাওর থেকে জীবিত বোয়াল ও বাঘাইড় মাছ এনেছি। বিক্রির জন্য বসে আছি। ক্রেতারা এসে দামদর করছেন।

মেলার আয়োজক কমিটির উপদেষ্টা মহরম আলী জানান, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে তাদের। চাঁদাবাজি ও কোনো ধরনের খারাপ কাজ যেন এখানে স্থান না পায় সে জন্য সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য এ মাছের মেলা দেখে খুশি দর্শনার্থীরাও।

তিনি বলেন, এখানে বোয়াল, বাঘাইড়, পাবদা, রুই, কাতল, চিতল, কালীবাউস, টাকি, পুটি, মাগুরসহ শতাধিক প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। বেশিরভাগ মাছ হাওড় ও বিল থেকে সংগ্রহ করা। হবিগঞ্জ ছাড়াও মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, এমনকি ঢাকা থেকেও এখানে লোকরা আসেন মাছ কিনতে। এ মেলা আমাদের ঐতিহ্য। মেলাকে ঘিরে আমাদের গ্রামে প্রতিটি বাড়িতে উৎসবের আমেজ দেখা দেয়। বিভিন্ন স্থান থেকে আত্মীয় স্বজনরা আসেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন আসেন মেলায় মাছ কিনতে। লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বাগ্মী নেতা বিপিন পালের জন্মভূমি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল গ্রাম। এখানে প্রায় ২০৭ বছর ধরে চলে আসছে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তিতে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবছর দিনব্যাপী এ মেলা হলেও গত কয়েক বছর ধরে তা ৩ দিনব্যাপী হচ্ছে।