ঢাকা ০৫:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বিএনপির ভূমিধ্বস বিজয়ে জিকে গউছের অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা Logo হবিগঞ্জে জামানত হারাচ্ছেন ১৬ প্রার্থী Logo হবিগঞ্জের ৪ টি আসনেই বিএনপি প্রার্থীর জয় Logo ‘নির্বাচন এলে প্রার্থীরা দিদি-মাসি বলে ভোট চায়, ভোটের পর পাওয়া যায় না’ Logo ‘হ্যাঁ’ ভোট রাজনীতির চিত্র পাল্টাবে: জামায়াতের আমির Logo ‘ভোটে আমাদের নয়, আমাদের ভোটে নির্বাচিতদের জীবনে পরিবর্তন আসে Logo ভোটের সমীকরণ: হবিগঞ্জ-১ বিএনপির দলীয় প্রার্থী রেজার ‘গলার কাঁটা’ বিদ্রোহী সুজাত Logo হবিগঞ্জে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে বিজিবির কঠোর নিরাপত্তা Logo ৮৪ বছর ধরে পড়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ Logo শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ৯২টি সিসার পিলেটসহ ৩টি এয়ারগান উদ্ধার

শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

লাইফস্টাইল ডেস্ক

নিউমোনিয়া ফুসফুসের সংক্রমণ। ফুসফুস হচ্ছে একটি উল্টানো ‘গাছ’, যা শাখাপ্রশাখায় বিভাজিত হয়ে পাতায় শেষ হয়। পাতার অংশকে বলে অ্যালভিওলাই। এই অ্যালভিওলাই ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত হলে শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়।

নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ: নিউমোনিয়া হলে শিশুর জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও দ্রুত শ্বাস হয় এবং বুক দেবে যায়। শিশু খেতে ও ঘুমাতে পারে না; খুব কান্নাকাটি করে। প্রতি মিনিটে শ্বাস হয় ৪০ থেকে ৬০ বার বা এর বেশি। চিকিৎসক বুকে স্টেথিসকোপ দিয়ে বিশেষ আওয়াজ শুনতে পান।

নিউমোনিয়া রোগ নির্ণয়: রক্ত পরীক্ষা করালে শ্বেতকণিকার আধিক্য দেখা যাবে, সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন (সিআরপি) বেড়ে যাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বুকের এক্স–রে, যেখানে ফুসফুসের কিছু অংশ বা অনেক অংশ সাদা হয়েছে বলে মনে হবে।

নিউমোনিয়া রোগের চিকিৎসা বা প্রতিকার: সঠিক রোগনির্ণয় ও দ্রুত চিকিৎসায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু সাত দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। শিশু খেতে পারলে মুখে অ্যামক্সিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে বাড়িতে চিকিৎসা দেওয়া যায়। বেশি অসুস্থ মনে হলে, খেতে না পারলে, বেশি শ্বাসকষ্ট হলে বা রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ৯২ শতাংশের নিচে নামলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।

নিউমোনিয়া রোগ প্রতিরোধ: শিশুকে বুকের দুধ ও সুষম খাবার দিলে; শিশুর সামনে ধূমপান বা রান্না না করলে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক টিকা যেমন নিউমোনিয়া ও ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা দিলে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা কমে যায়।

শিশুর নিউমোনিয়া প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে

নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কিওলাইটিস: ছোট্ট শিশুদের শ্বাসকষ্টের আরেকটি প্রধান কারণ ব্রঙ্কিওলাইটিস। এর লক্ষণও প্রায় নিউমোনিয়ার মতো। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বুকের এক্স-রে করালে ফুসফুস বেশি কালো ও বড় মনে হয়। রক্তের শ্বেতকণিকার মাত্রা স্বাভাবিক থাকে। শীতে ব্রঙ্কিওলাইটিসের প্রাদুর্ভাব হয়।

ব্রঙ্কিওলাইটিস কয়েকবার হতে পারে; কিন্তু নিউমোনিয়া সাধারণত একবার হয়, যদি শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা ভালো থাকে। আমাদের সচেতন থাকতে হবে যাতে আমরা ভুলবশত ব্রঙ্কিওলাইটিসকে নিউমোনিয়া ভেবে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা না করি। কারণ, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:১৮:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪
১১৮ বার পড়া হয়েছে

শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

আপডেট সময় ০৮:১৮:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪

নিউমোনিয়া ফুসফুসের সংক্রমণ। ফুসফুস হচ্ছে একটি উল্টানো ‘গাছ’, যা শাখাপ্রশাখায় বিভাজিত হয়ে পাতায় শেষ হয়। পাতার অংশকে বলে অ্যালভিওলাই। এই অ্যালভিওলাই ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত হলে শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়।

নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ: নিউমোনিয়া হলে শিশুর জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও দ্রুত শ্বাস হয় এবং বুক দেবে যায়। শিশু খেতে ও ঘুমাতে পারে না; খুব কান্নাকাটি করে। প্রতি মিনিটে শ্বাস হয় ৪০ থেকে ৬০ বার বা এর বেশি। চিকিৎসক বুকে স্টেথিসকোপ দিয়ে বিশেষ আওয়াজ শুনতে পান।

নিউমোনিয়া রোগ নির্ণয়: রক্ত পরীক্ষা করালে শ্বেতকণিকার আধিক্য দেখা যাবে, সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন (সিআরপি) বেড়ে যাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বুকের এক্স–রে, যেখানে ফুসফুসের কিছু অংশ বা অনেক অংশ সাদা হয়েছে বলে মনে হবে।

নিউমোনিয়া রোগের চিকিৎসা বা প্রতিকার: সঠিক রোগনির্ণয় ও দ্রুত চিকিৎসায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু সাত দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। শিশু খেতে পারলে মুখে অ্যামক্সিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে বাড়িতে চিকিৎসা দেওয়া যায়। বেশি অসুস্থ মনে হলে, খেতে না পারলে, বেশি শ্বাসকষ্ট হলে বা রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ৯২ শতাংশের নিচে নামলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।

নিউমোনিয়া রোগ প্রতিরোধ: শিশুকে বুকের দুধ ও সুষম খাবার দিলে; শিশুর সামনে ধূমপান বা রান্না না করলে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক টিকা যেমন নিউমোনিয়া ও ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা দিলে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা কমে যায়।

শিশুর নিউমোনিয়া প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে

নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কিওলাইটিস: ছোট্ট শিশুদের শ্বাসকষ্টের আরেকটি প্রধান কারণ ব্রঙ্কিওলাইটিস। এর লক্ষণও প্রায় নিউমোনিয়ার মতো। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বুকের এক্স-রে করালে ফুসফুস বেশি কালো ও বড় মনে হয়। রক্তের শ্বেতকণিকার মাত্রা স্বাভাবিক থাকে। শীতে ব্রঙ্কিওলাইটিসের প্রাদুর্ভাব হয়।

ব্রঙ্কিওলাইটিস কয়েকবার হতে পারে; কিন্তু নিউমোনিয়া সাধারণত একবার হয়, যদি শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা ভালো থাকে। আমাদের সচেতন থাকতে হবে যাতে আমরা ভুলবশত ব্রঙ্কিওলাইটিসকে নিউমোনিয়া ভেবে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা না করি। কারণ, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।