ঢাকা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হবিগঞ্জে চুনারুঘাটে ৬১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৪ Logo ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর যুবদলের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত Logo সাবেক স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সৈয়দ গাজিউর রহমানের দাফন সম্পন্ন Logo নাব্য সংকটে সুতাং নদী এখন মরা খাল শিল্পবর্জ্যের দূষণে বিষাক্ত পানি Logo সৌদি আরবে প্রাইভেট কারের চাপায় শায়েস্তাগঞ্জের যুবক নিহত, পরিবারে মাতম Logo ‘অভাব তো বয়স বোঝে না, পেট তো খাবার চায়’ Logo আজমিরীগঞ্জে ২১ ঘণ্টা পর নদীতে ভাসল নিখোঁজ গৃহবধূর মরদেহ Logo শায়েস্তাগঞ্জে জয়ন্তিকা ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন, যাত্রীদের দুর্ভোগ Logo ‘পেনশন নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন না’— পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে হবিগঞ্জের মাধবপুরে ছাত্রলীগ নেতার হুঁশিয়ারি Logo হবিগঞ্জে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি

ভিটামিন ডি পেতে কখন কতক্ষণ গায়ে রোদ লাগাতে হবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক

সূর্যের আলোয় থাকে আলট্রাভায়োলেট বা অতিবেগুনি রশ্মি, যা ভিটামিন ডি তৈরি করতে কাজে লাগে। কিন্তু ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ বেশি থাকলে ভিটামিন ডি কম উৎপন্ন হয়। মেলানিন হলো প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন, যা অতিবেগুনি রশ্মি থেকে আমাদের রক্ষা করে। বর্মের মতো কাজ করে। সাদা চামড়ার চেয়ে কালো চামড়ায় (ডার্ক স্ক্রিন) যেহেতু মেলানিন বেশি থাকে, সে কারণে কালো চামড়ায় ভিটামিন ডি উৎপাদন কম হবে।

ভিটামিন ডির আরেক নাম ‘সানশাইন ভিটামিন’। সূর্যের আলো যখন আমাদের গায়ে এসে লাগে, ত্বকে জমে থাকা কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন ডি আপনা–আপনি উৎপন্ন হয়। এরপর সেটি রক্তে মিশে লিভার আর কিডনিতে গিয়ে অ্যাকটিভ ভিটামিন ডিতে পরিণত হয়। অর্থাৎ আরও শক্তিশালী হয়। শরীরে এর কাজ হলো রক্তের ক্যালসিয়াম শোষণ করে এর পরিমাণ ঠিক রাখা, হাড় শক্ত ও মজবুত রাখা, পেশির শক্তি বজায় রাখা, কিছু কিছু রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা ইত্যাদি। একধরনের ভিটামিন হলেও নানাবিধ বিপাকীয় প্রভাবের জন্য ডিকে এখন একটি হরমোন বলা হয়।

কীভাবে পাবেন ভিটামিন ডি: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের মতে, সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টার মধ্যে সপ্তাহে কমপক্ষে তিন দিন ১০ থেকে ৩০ মিনিট সারা গায়ে রোদ লাগিয়ে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব। শরীর ঢেকে রাখলে, সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে এই ভিটামিন ডি উৎপাদন কম হবে। শিশু ও বয়স্কদের ভিটামিন ডি একটু বেশি লাগে, অন্যদের প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৮০০ ইউনিট দরকার।

ভিটামিন ডি কমলে শিশুদের এক ধরনের হাড়ের রোগ। এতে শিশুর হাত-পা বেঁকে যায়। ভিটামিন ডির অভাবে এই রোগ হয়। বড়দের হয় অস্টিওম্যালেসিয়া। এই রোগীদের গা, হাত-পা, হাড়ে ব্যথা হতে দেখা যায়। ভিটামিন ডির অভাব থাকলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ভঙ্গুর হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। অল্প আঘাতেই হাড় ভেঙে যেতে পারে। ভিটামিন ডির ঘাটতি থেকে হাড়ের এসব সমস্যা ও রোগ ছাড়া আরও নানা রকমের জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন হার্টের সমস্যা, নানা ধরনের ক্যানসার, মেটাবলিক সিনড্রোম, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া। সংক্রমণ ও অটোইমিউন রোগের ঝুঁকি ও প্রকোপ বাড়াতে ভূমিকা রাখে ভিটামিন ডির ঘাটতি। যাঁদের পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি ছিল, তাঁদের কোভিড-১৯ সংক্রমণের প্রকোপ ও জটিলতা যে কম হয়েছে, তা গবেষণানির্ভর সত্য।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:৩৩:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৫
৩৭৩ বার পড়া হয়েছে

ভিটামিন ডি পেতে কখন কতক্ষণ গায়ে রোদ লাগাতে হবে

আপডেট সময় ০৮:৩৩:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৫

সূর্যের আলোয় থাকে আলট্রাভায়োলেট বা অতিবেগুনি রশ্মি, যা ভিটামিন ডি তৈরি করতে কাজে লাগে। কিন্তু ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ বেশি থাকলে ভিটামিন ডি কম উৎপন্ন হয়। মেলানিন হলো প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন, যা অতিবেগুনি রশ্মি থেকে আমাদের রক্ষা করে। বর্মের মতো কাজ করে। সাদা চামড়ার চেয়ে কালো চামড়ায় (ডার্ক স্ক্রিন) যেহেতু মেলানিন বেশি থাকে, সে কারণে কালো চামড়ায় ভিটামিন ডি উৎপাদন কম হবে।

ভিটামিন ডির আরেক নাম ‘সানশাইন ভিটামিন’। সূর্যের আলো যখন আমাদের গায়ে এসে লাগে, ত্বকে জমে থাকা কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন ডি আপনা–আপনি উৎপন্ন হয়। এরপর সেটি রক্তে মিশে লিভার আর কিডনিতে গিয়ে অ্যাকটিভ ভিটামিন ডিতে পরিণত হয়। অর্থাৎ আরও শক্তিশালী হয়। শরীরে এর কাজ হলো রক্তের ক্যালসিয়াম শোষণ করে এর পরিমাণ ঠিক রাখা, হাড় শক্ত ও মজবুত রাখা, পেশির শক্তি বজায় রাখা, কিছু কিছু রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা ইত্যাদি। একধরনের ভিটামিন হলেও নানাবিধ বিপাকীয় প্রভাবের জন্য ডিকে এখন একটি হরমোন বলা হয়।

কীভাবে পাবেন ভিটামিন ডি: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের মতে, সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টার মধ্যে সপ্তাহে কমপক্ষে তিন দিন ১০ থেকে ৩০ মিনিট সারা গায়ে রোদ লাগিয়ে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব। শরীর ঢেকে রাখলে, সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে এই ভিটামিন ডি উৎপাদন কম হবে। শিশু ও বয়স্কদের ভিটামিন ডি একটু বেশি লাগে, অন্যদের প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৮০০ ইউনিট দরকার।

ভিটামিন ডি কমলে শিশুদের এক ধরনের হাড়ের রোগ। এতে শিশুর হাত-পা বেঁকে যায়। ভিটামিন ডির অভাবে এই রোগ হয়। বড়দের হয় অস্টিওম্যালেসিয়া। এই রোগীদের গা, হাত-পা, হাড়ে ব্যথা হতে দেখা যায়। ভিটামিন ডির অভাব থাকলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ভঙ্গুর হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। অল্প আঘাতেই হাড় ভেঙে যেতে পারে। ভিটামিন ডির ঘাটতি থেকে হাড়ের এসব সমস্যা ও রোগ ছাড়া আরও নানা রকমের জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন হার্টের সমস্যা, নানা ধরনের ক্যানসার, মেটাবলিক সিনড্রোম, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া। সংক্রমণ ও অটোইমিউন রোগের ঝুঁকি ও প্রকোপ বাড়াতে ভূমিকা রাখে ভিটামিন ডির ঘাটতি। যাঁদের পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি ছিল, তাঁদের কোভিড-১৯ সংক্রমণের প্রকোপ ও জটিলতা যে কম হয়েছে, তা গবেষণানির্ভর সত্য।