ঢাকা ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo গণভোটকে অস্বীকার করে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বিএনপি: মামুনুল হক Logo শায়েস্তাগঞ্জে দেশ নাট্যগোষ্ঠীর ৩৩ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন Logo হবিগঞ্জে প্রতিমায় শেষ তুলির আঁচড়, অপেক্ষা উৎসবের Logo হবিগঞ্জের সেই সমন্বয়ক মাহদী হাসানকে বিদেশ যেতে দেওয়া হয়নি Logo চুনারুঘাট বাঁশঝাড়ে মিলল বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি Logo ১২ দিনের ব্যবধানে হবিগঞ্জের এক থানার ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার Logo ঘুষ নেওয়াকে যৌক্তিক দাবি করা চুনারুঘাটে সেই এএসআই প্রত্যাহার Logo সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশকালে যুবক আটক Logo গেজেটে শায়েস্তাগঞ্জ, ভোটার তালিকায় হবিগঞ্জে Logo শায়েস্তাগঞ্জের দুই গুণীশিল্পী পেলেন ‘শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা’ পদক

দখল-দূষণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে হবিগঞ্জের নদ-নদী

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:-

দখল, দূষণ ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে হবিগঞ্জ জেলার নদ-নদী। একসময়ের খরস্রোতা নদীগুলো এখন পানিশূন্য সরু খালে পরিণত হয়েছে। কোথাও কোথাও নদীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। জেলাজুড়ে অনেকগুলো নদ-নদী রয়েছে; যার মধ্যে কালনী-কুশিয়ারা (ভেড়ামোহনা), মরা কুশিয়ারা, মরা বিবিয়ানা, হাওয়াই, সুটকী, ঝিংড়ী, ঘরদাইর, রত্না, শাখাবরাক, করাঙ্গী, বিজনা, সুতাং, সোনাই, বছিরা ও হাঙ্গরভাঙা অন্যতম।

নদী গবেষক ও পরিবেশকর্মীরা বলছেন, নদীগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজিং না করা, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন, দুই পাড় দখল করে অবকাঠামো নির্মাণ এবং কল-কারখানার বর্জ্য ফেলার কারণে নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও কৃষিজ জীবনধারা।

বিশেষভাবে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে খোয়াই, সুতাং ও পুরাতন খোয়াই নদী। ভারত থেকে আগত খোয়াইয়ের প্রবাহ সীমিত হয়ে পড়ায় নদীটি বর্তমানে ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে সুতাং নদী দূষণের কারণে হয়ে উঠেছে কালো পানির এক বিষাক্ত জলাধারে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুর এলাকায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন শিল্প-কারখানা, যেমনÑপ্রাণ-আরএফএল, স্কয়ার ডেনিম, তাফহিদ কটন মিলস, সিপি বাংলাদেশ, আরএকে পেইন্ট প্রভৃতি তাদের বর্জ্য ফেলে দিচ্ছে সুতাং নদীতে। একসময় যে নদীতে নৌকা চলত, যেখানকার পানি ব্যবহার হতো কৃষিকাজ ও মাছ চাষে, এখন সেই নদী পানযোগ্য তো দূরের কথা, ছোঁয়াও যায় না।

অন্যদিকে জেলা শহরের খোয়াই নদীর দুই পাড় এবং মূল প্রবাহ দখল করে তৈরি করা হয়েছে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। বাঁশ ও কাঠের মাচা তৈরি করে নদীতে মাছ চাষের ক্ষেত্র গড়ে তোলা হয়েছে। এতে পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল বলেন, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে এবং সময়মতো নদী খননের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে। এখনকার নদীগুলো আর নদী নেই, এগুলো প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। বিশেষ করে খোয়াই, সুতাং, সোনাই, শাখা বরাক ও পুরাতন নদীর ওপর ভয়াবহ অত্যাচার চলছে।

পরিবেশবিদদের মতে, নদী বাঁচাতে না পারলে হবিগঞ্জের হাওর ও কৃষিনির্ভর জনজীবন ভয়াবহ সংকটে পড়বে। এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের; নইলে অদূর ভবিষ্যতে মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে এ অঞ্চলের নদ-নদী।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৩:৩২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
১৬৪ বার পড়া হয়েছে

দখল-দূষণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে হবিগঞ্জের নদ-নদী

আপডেট সময় ০৩:৩২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দখল, দূষণ ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে হবিগঞ্জ জেলার নদ-নদী। একসময়ের খরস্রোতা নদীগুলো এখন পানিশূন্য সরু খালে পরিণত হয়েছে। কোথাও কোথাও নদীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। জেলাজুড়ে অনেকগুলো নদ-নদী রয়েছে; যার মধ্যে কালনী-কুশিয়ারা (ভেড়ামোহনা), মরা কুশিয়ারা, মরা বিবিয়ানা, হাওয়াই, সুটকী, ঝিংড়ী, ঘরদাইর, রত্না, শাখাবরাক, করাঙ্গী, বিজনা, সুতাং, সোনাই, বছিরা ও হাঙ্গরভাঙা অন্যতম।

নদী গবেষক ও পরিবেশকর্মীরা বলছেন, নদীগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজিং না করা, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন, দুই পাড় দখল করে অবকাঠামো নির্মাণ এবং কল-কারখানার বর্জ্য ফেলার কারণে নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও কৃষিজ জীবনধারা।

বিশেষভাবে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে খোয়াই, সুতাং ও পুরাতন খোয়াই নদী। ভারত থেকে আগত খোয়াইয়ের প্রবাহ সীমিত হয়ে পড়ায় নদীটি বর্তমানে ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে সুতাং নদী দূষণের কারণে হয়ে উঠেছে কালো পানির এক বিষাক্ত জলাধারে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুর এলাকায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন শিল্প-কারখানা, যেমনÑপ্রাণ-আরএফএল, স্কয়ার ডেনিম, তাফহিদ কটন মিলস, সিপি বাংলাদেশ, আরএকে পেইন্ট প্রভৃতি তাদের বর্জ্য ফেলে দিচ্ছে সুতাং নদীতে। একসময় যে নদীতে নৌকা চলত, যেখানকার পানি ব্যবহার হতো কৃষিকাজ ও মাছ চাষে, এখন সেই নদী পানযোগ্য তো দূরের কথা, ছোঁয়াও যায় না।

অন্যদিকে জেলা শহরের খোয়াই নদীর দুই পাড় এবং মূল প্রবাহ দখল করে তৈরি করা হয়েছে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। বাঁশ ও কাঠের মাচা তৈরি করে নদীতে মাছ চাষের ক্ষেত্র গড়ে তোলা হয়েছে। এতে পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল বলেন, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে এবং সময়মতো নদী খননের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে। এখনকার নদীগুলো আর নদী নেই, এগুলো প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। বিশেষ করে খোয়াই, সুতাং, সোনাই, শাখা বরাক ও পুরাতন নদীর ওপর ভয়াবহ অত্যাচার চলছে।

পরিবেশবিদদের মতে, নদী বাঁচাতে না পারলে হবিগঞ্জের হাওর ও কৃষিনির্ভর জনজীবন ভয়াবহ সংকটে পড়বে। এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের; নইলে অদূর ভবিষ্যতে মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে এ অঞ্চলের নদ-নদী।