ঢাকা ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হবিগঞ্জে ধর্ষণের পর তরুণী হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড Logo তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রভাব চা শিল্পে, উৎপাদনে ভাটা Logo হবিগঞ্জে বালুবাহী ট্রাকে মিলল ভারতীয় কসমেটিকস-শাড়িসহ কোটি টাকার পণ্য Logo হবিগঞ্জে হামে ২১ জনের মৃত্যু, বাড়ছে আক্রান্ত হাসপাতালে তীব্র শয্যা সংকট Logo চুনারুঘাটে মদ খেয়ে মাকে মারধর, ছেলের ৬ মাসের জেল Logo চুনারুঘাটে সড়কে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর Logo চুনারুঘাট রেমা-কালেঙ্গার গহিন বনে বিশালাকৃতির কাঠবিড়ালি Logo শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে নেই নলকূপ, তৃষ্ণার্ত যাত্রীদের হাহাকার Logo শায়েস্তাগঞ্জে মাদক সেবনের অভিযোগে দুই বৃদ্ধের কারাদন্ড Logo শায়েস্তাগঞ্জে টমটম মালিক-শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে আলোচনা সভা

লাখাইয়ে হোমিওপ্যাথিক তরল পানে দম্পতিসহ ৫ জনের মৃত্যু

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:-

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় নেশার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হোমিওপ্যাথিক অ্যালকোহলজাতীয় তরল পান করার পর দম্পতিসহ পাঁচজনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার তাদের মৃত্যু হয়। পুলিশ তিনজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করলেও বাকি দুজনের বিষয়ে থানায় কোনো তথ্য নেই। তবে স্থানীয়রা তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় এক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- লাখাই উপজেলার মোড়াকড়ি গ্রামের মনোরঞ্জন দাস (৬০), সুজিত দাস (৩৫), ভাদিকাড়া গ্রামের নন্দলাল রবিদাস (৫২), তার স্ত্রী সুবি রবিদাস (৪০) এবং হবিগঞ্জ শহরের রঞ্জিত কুড়ি (৩৬)।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মনোরঞ্জন, সুজিত ও রঞ্জিত মোড়াকড়ি বাজারের ‘হ্যানিম্যান হোমিও হল’-এর মালিক সজল দাসের কাছ থেকে অ্যালকোহলজাতীয় তরল কিনে নিয়মিত নেশার উদ্দেশ্যে সেবন করতেন। গত মঙ্গলবার রাতে ওই তরল সেবনের পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মনোরঞ্জনকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে, সুজিতকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। রঞ্জিত মারা যান ঢাকায় নেওয়ার পথে।

মোড়াকড়ি বাজারের জয় বাবা লোকনাথ মাছের আড়তের মালিক প্রদীপ দাস বলেন, নিহতরা নিয়মিত হোমিওপ্যাথিক দোকান থেকে অ্যালকোহলজাতীয় তরল কিনে নেশা করতেন। ওই তরল সেবনের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

একইভাবে নন্দলাল রবিদাস ও তার স্ত্রী সুবি রবিদাস স্থানীয় বাজারের একটি দোকান থেকে অ্যালকোহলজাতীয় তরল কিনে সেবনের পর বাড়িতেই মারা যান বলে দাবি করেছেন বামৈ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কেএম জিয়া। পরে তাদের মরদেহ দাহ করা হয়।

হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক দেবাশীষ দাস বলেন, কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বলা সম্ভব নয়। তবে ঘটনাপ্রবাহ সত্য হলে নেশার উদ্দেশ্যে সেবন করা কোনো অ্যালকোহলজাতীয় পদার্থের বিষক্রিয়ায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এটি কেবল একটি সম্ভাবনা। নিশ্চিত হতে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার বিকল্প নেই।

লাখাই থানার ওসি শরীফ আহমেদ বলেন, আমরা তিনজনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছি। একজনকে সমাহিত করার সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। আরো দুজনকে পুলিশকে না জানিয়েই দাহ করা হয়েছে। অন্য দুজনের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সজল দাসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:৩৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
৪৩ বার পড়া হয়েছে

লাখাইয়ে হোমিওপ্যাথিক তরল পানে দম্পতিসহ ৫ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় ০৫:৩৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় নেশার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হোমিওপ্যাথিক অ্যালকোহলজাতীয় তরল পান করার পর দম্পতিসহ পাঁচজনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার তাদের মৃত্যু হয়। পুলিশ তিনজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করলেও বাকি দুজনের বিষয়ে থানায় কোনো তথ্য নেই। তবে স্থানীয়রা তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় এক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- লাখাই উপজেলার মোড়াকড়ি গ্রামের মনোরঞ্জন দাস (৬০), সুজিত দাস (৩৫), ভাদিকাড়া গ্রামের নন্দলাল রবিদাস (৫২), তার স্ত্রী সুবি রবিদাস (৪০) এবং হবিগঞ্জ শহরের রঞ্জিত কুড়ি (৩৬)।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মনোরঞ্জন, সুজিত ও রঞ্জিত মোড়াকড়ি বাজারের ‘হ্যানিম্যান হোমিও হল’-এর মালিক সজল দাসের কাছ থেকে অ্যালকোহলজাতীয় তরল কিনে নিয়মিত নেশার উদ্দেশ্যে সেবন করতেন। গত মঙ্গলবার রাতে ওই তরল সেবনের পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মনোরঞ্জনকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে, সুজিতকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। রঞ্জিত মারা যান ঢাকায় নেওয়ার পথে।

মোড়াকড়ি বাজারের জয় বাবা লোকনাথ মাছের আড়তের মালিক প্রদীপ দাস বলেন, নিহতরা নিয়মিত হোমিওপ্যাথিক দোকান থেকে অ্যালকোহলজাতীয় তরল কিনে নেশা করতেন। ওই তরল সেবনের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

একইভাবে নন্দলাল রবিদাস ও তার স্ত্রী সুবি রবিদাস স্থানীয় বাজারের একটি দোকান থেকে অ্যালকোহলজাতীয় তরল কিনে সেবনের পর বাড়িতেই মারা যান বলে দাবি করেছেন বামৈ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কেএম জিয়া। পরে তাদের মরদেহ দাহ করা হয়।

হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক দেবাশীষ দাস বলেন, কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বলা সম্ভব নয়। তবে ঘটনাপ্রবাহ সত্য হলে নেশার উদ্দেশ্যে সেবন করা কোনো অ্যালকোহলজাতীয় পদার্থের বিষক্রিয়ায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এটি কেবল একটি সম্ভাবনা। নিশ্চিত হতে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার বিকল্প নেই।

লাখাই থানার ওসি শরীফ আহমেদ বলেন, আমরা তিনজনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছি। একজনকে সমাহিত করার সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। আরো দুজনকে পুলিশকে না জানিয়েই দাহ করা হয়েছে। অন্য দুজনের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সজল দাসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।