ঢাকা ১২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ভোটের সমীকরণ: হবিগঞ্জ-১ বিএনপির দলীয় প্রার্থী রেজার ‘গলার কাঁটা’ বিদ্রোহী সুজাত Logo হবিগঞ্জে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে বিজিবির কঠোর নিরাপত্তা Logo ৮৪ বছর ধরে পড়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ Logo শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ৯২টি সিসার পিলেটসহ ৩টি এয়ারগান উদ্ধার Logo তারেক রহমানকে বরণ করতে প্রস্তুত হবিগঞ্জবাসী Logo হবিগঞ্জ ট্রাকভর্তি ধানের তুষের নিচ থেকে ভারতীয় কসমেটিকস ও গাঁজা জব্দ Logo মেলায় বাঘাইড় মাছের দাম আড়াই লাখ টাকা Logo হবিগঞ্জের বালুভর্তি ট্রাকে পাচারকালে দেড় কোটি টাকার ভারতীয় কসমেটিকস ও শাড়ীর চালান জব্দ Logo শায়েস্তাগঞ্জে ৮৮ বস্তা অবৈধ জিরার চালানসহ গ্রেপ্তার ১ Logo নিখোঁজের ৩দিন পর নদীর পাড়ে মিলল মাদরাসাছাত্রের লাশ

ভোটের সমীকরণ: হবিগঞ্জ-১ বিএনপির দলীয় প্রার্থী রেজার ‘গলার কাঁটা’ বিদ্রোহী সুজাত

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:-

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ জেলায় সবচেয়ে আলোচিত আসন হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল-নবীগঞ্জ)। বিএনপিতে সদ্য যোগ দেওয়া ও দলীয় প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার মুখোমুখি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া। দলের নির্দেশ অমান্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও নির্বাচনের মাঠে তাঁর রয়েছে শক্ত অবস্থান।

প্রবাসী অধ্যুষিত এ আসনে নির্বাচনে লড়ছেন পাঁচজন প্রার্থী। বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও বিদ্রোহী শেখ সুজাত ছাড়াও নির্বাচনী মাঠে আলোচনায় রয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম।

এছাড়াও আছেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ বদরুর রেজা ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদ।

তবে এই আসনে বিএনপি মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। ফলে জেলার ৪টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে হবিগঞ্জ-১ আসনকে ঘিরে।

এদিকে, প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারনায় সম্প্রতি সরগরম হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠ। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে আসনটিতে তত উত্তাপ বাড়ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সভা-সমাবেশ ও গংসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন প্রার্থীরা। তবে বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী দুইজন নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

পদ হারানোর ভয়ে অনেক নেতা মাঠে রেজার সঙ্গে থাকলেও অনেক কর্মীদের আবার দেখা গেছে সুজাতের সঙ্গেও। যে কারণে আসনটিতে রেজা ও সুজাতের জমজমাট এক লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

তবে স্থানীয় ভোটাররা মনে করছেন, ধানের শীষের প্রার্থীর বিপরীতে অন্য কোন দলের হেভিওয়েট প্রার্থী না থাকলেও নিজ দলের সুজাতই এখন গলার কাটা।

প্রথম দিকে তারেক রহমানের নির্দেশে শেখ সুজাত মিয়া নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার গুঞ্জন ওঠেছিল শেখ সুজাতের। কিন্তু শেষ মুহুর্তে জামায়াতের শক্ত প্রার্থী শাহজাহান আলী নির্বাচন থেকে সরে যাওযায় প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেননি তিনি।

অনেকের ধারণা জামায়াতের কিছু ভোটও পেতে পারেন শেখ সুজাত। যার কারণে এ আসনে সুজাতের অবস্থান বেশ ভালো বলে মনে করছেন ভোটাররা।

জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার এবং ২০১১ সালে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শেখ সুজাত মিয়া। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।

প্রথমদিকে মনোনয়নপত্র দাখিলকালে সুজাতকে নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা ও প্রার্থীতা প্রত্যাহার নিয়ে গুঞ্জন ওঠলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠেই রয়ে যান তিনি। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ সুজাতকে নিয়ে বৈঠকে বসলেও সুরাহা হয়নি। দীর্ঘদিনের রাজনীতিতে ত্যাগের বিনিময়ে এবার সংসদ সদস্য হতে চান সুজাত। ফলে নির্বাচনী মাঠের দখল ছাড়ছেন না তিনি।

অন্যদিকে, সদ্য বিএনপিতে যোগ দিয়েই বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ড. রেজা কিবরিয়া। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ওই আসন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের (গণফোরাম) প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া তার পিতা সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার পরিচয়ে এলাকায় বেশ জনপ্রিয় তিনি। ফলে তারা দু’জনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।

উল্লেখ্য, হবিগঞ্জ-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯২১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৪০ ও পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭৬ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৫ জন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:১৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১ বার পড়া হয়েছে

ভোটের সমীকরণ: হবিগঞ্জ-১ বিএনপির দলীয় প্রার্থী রেজার ‘গলার কাঁটা’ বিদ্রোহী সুজাত

আপডেট সময় ১২:১৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ জেলায় সবচেয়ে আলোচিত আসন হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল-নবীগঞ্জ)। বিএনপিতে সদ্য যোগ দেওয়া ও দলীয় প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার মুখোমুখি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া। দলের নির্দেশ অমান্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও নির্বাচনের মাঠে তাঁর রয়েছে শক্ত অবস্থান।

প্রবাসী অধ্যুষিত এ আসনে নির্বাচনে লড়ছেন পাঁচজন প্রার্থী। বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও বিদ্রোহী শেখ সুজাত ছাড়াও নির্বাচনী মাঠে আলোচনায় রয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম।

এছাড়াও আছেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ বদরুর রেজা ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদ।

তবে এই আসনে বিএনপি মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। ফলে জেলার ৪টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে হবিগঞ্জ-১ আসনকে ঘিরে।

এদিকে, প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারনায় সম্প্রতি সরগরম হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠ। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে আসনটিতে তত উত্তাপ বাড়ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সভা-সমাবেশ ও গংসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন প্রার্থীরা। তবে বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী দুইজন নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

পদ হারানোর ভয়ে অনেক নেতা মাঠে রেজার সঙ্গে থাকলেও অনেক কর্মীদের আবার দেখা গেছে সুজাতের সঙ্গেও। যে কারণে আসনটিতে রেজা ও সুজাতের জমজমাট এক লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

তবে স্থানীয় ভোটাররা মনে করছেন, ধানের শীষের প্রার্থীর বিপরীতে অন্য কোন দলের হেভিওয়েট প্রার্থী না থাকলেও নিজ দলের সুজাতই এখন গলার কাটা।

প্রথম দিকে তারেক রহমানের নির্দেশে শেখ সুজাত মিয়া নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার গুঞ্জন ওঠেছিল শেখ সুজাতের। কিন্তু শেষ মুহুর্তে জামায়াতের শক্ত প্রার্থী শাহজাহান আলী নির্বাচন থেকে সরে যাওযায় প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেননি তিনি।

অনেকের ধারণা জামায়াতের কিছু ভোটও পেতে পারেন শেখ সুজাত। যার কারণে এ আসনে সুজাতের অবস্থান বেশ ভালো বলে মনে করছেন ভোটাররা।

জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার এবং ২০১১ সালে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শেখ সুজাত মিয়া। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।

প্রথমদিকে মনোনয়নপত্র দাখিলকালে সুজাতকে নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা ও প্রার্থীতা প্রত্যাহার নিয়ে গুঞ্জন ওঠলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠেই রয়ে যান তিনি। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ সুজাতকে নিয়ে বৈঠকে বসলেও সুরাহা হয়নি। দীর্ঘদিনের রাজনীতিতে ত্যাগের বিনিময়ে এবার সংসদ সদস্য হতে চান সুজাত। ফলে নির্বাচনী মাঠের দখল ছাড়ছেন না তিনি।

অন্যদিকে, সদ্য বিএনপিতে যোগ দিয়েই বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ড. রেজা কিবরিয়া। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ওই আসন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের (গণফোরাম) প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া তার পিতা সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার পরিচয়ে এলাকায় বেশ জনপ্রিয় তিনি। ফলে তারা দু’জনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।

উল্লেখ্য, হবিগঞ্জ-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯২১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৪০ ও পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭৬ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৫ জন।