শায়েস্তাগঞ্জে মামলার জেরে দুই পরিবারকে সমাজচ্যুতের অভিযোগ
গ্রাম্য মাতবরদের সুযোগ না দিয়ে মামলা দায়ের করায় শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পুটিয়া গ্রামের ২টি পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে। আইন অনুযায়ী সমাজচ্যুত করার কোনো বিধান না থাকলেও এসব পরিবারের সদস্যদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে গ্রামের মানুষদের কোনো ধরনের লেনদেন, ওঠাবসা, কথা বলা নিষেধ করা হয়েছে। এমনকি তাদের পরিবারের কাউকে গাড়িতে না উঠানোর জন্য গ্রামের টমটম চালকদেরকে বারণ করেছেন প্রভাবশালী সালিশকারীরা।
জানা যায়, গত ৬ আগস্ট শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নের শৈলজুরা গ্রামের আবু তাহের মিয়ার বাড়ি থেকে সজল মিয়া নামে একব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের পরিবার দাবী করে, সুদের টাকা দিতে না পারায় সজল মিয়াকে জুবেল মিয়া ও তার গ্রামের আরো কয়েকজন ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাকে আবু তাহের মিয়ার বাড়িতে একটি রুমে আটকে রেখে নির্যাতন করে। ফলে তার মৃত্যু হয়, এসময় অপর পক্ষ আত্মহত্যা করেছে বলে দাবী করে। এঘটনায় সজল মিয়ার বোন বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এলাকার কতিপয় মাতবর।
গত ২৫ আগস্ট সাবেক ইউপি মেম্বার পুটিয়া গ্রামের মুরুব্বী ছোয়াব মিয়া তালুকদারের সভাপতিত্বে স্থানীয় মসজিদের প্রাঙ্গণে গ্রামের বৈঠক বসে। সেখানে নিহত সজল মিয়ার চাচা জিলু মিয়া মুহুরী ও আব্দুল আলীর পরিবারকে একঘরে করে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সালিশে উপস্থিত ছিলেন ছায়েদ মিয়া, আজিজ মিয়া, বুলু মিয়া, মকছুদ মিয়া সহ স্থানীয় মাতবররা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য নুরজাহান আক্তার বলেন, আমি প্রত্যেকদিন টমটম দিয়ে ওলিপুরে আমার কর্মস্থলে যাই কিন্তু আজকে টমটমে উঠতে গেলে ড্রাইভার আমাকে উঠতে দেয়নি। পরে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানালে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন আমাদেরকে নাকি সমাজচ্যুত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরেক সদস্য আব্দুল আলী বলেন, স্থানীয় মাতব্বররা আমার ভাতিজা হত্যার বিষয়টিকে তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। সেটি না করে মামলা করায় সাবেক মেম্বার ছোয়াব তালুকদারের নেতৃত্বে আমাদের পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউপি মেম্বার রাতুল বলেন, আব্দুল আলীর বোন নুরজাহানকে টমটমে না তোলার বিষয়ে টমটম চালক জাহাঙ্গীরকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায় তাকে নাকি গ্রামের কয়েকজন মাতবর জিলু মিয়া এবং আব্দুল আলী পরিবারের সদস্যদের কে টমটমে তুলতে নিষেধ করেছেন। একই সাথে ওই পরিবারের সদস্যদের টমটমে উঠালে ৫০০ টাকা করে জরিমান করা হবে বলেও তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। এসময় তিনি আরো বলেন, বিষয়টি আমি জানার পর তাৎক্ষণিক ইউপি চেয়ারম্যান এবং শায়েস্তাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে অবগত করেছি। এ সময় তিনি ওই পরিবারকে সমাজচ্যুত করার মতো ন্যাক্কারজনক কর্মকাÐের জন্য সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান।
পুটিয়া গ্রামের সাবেক মেম্বার ছোয়াব মিয়া তালুকদার সমাজচ্যুতের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে তাদের কোনো কাজে আমরা থাকবো না এবং আমাদের কোনো কাজে তাদের প্রয়োজন নেই মর্মে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি দিলীপ কান্ত নাথ বলেন, মেম্বারের মাধ্যমে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি তারা লিখিত অভিযোগ করলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।