ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর ব্রীজ থেকে পানিতে পরে নারীর মৃত্যু Logo শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের প্রধান সড়কের বেহালদশা Logo হবিগঞ্জে দুই বোনের বিষপানে এক বোনের মৃত্যু Logo তেলিয়াপাড়া দিবসে হবিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সমাবেশ অনুষ্ঠিত‘মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ মুজিব বন্দি হয়ে পাকিস্তান চলে গিয়েছিলেন’ Logo শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে বাড়ছে মোবাইল চুরির ঘটনা Logo ১৮ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক Logo শায়েস্তাগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতির ৫০তম জন্মদিন উদযাপন, কেক কাটা ও দোয়া মাহফিল Logo এখনও উদ্ধার হয়নি মাধবপুরে লাইনচ্যুত বগি, তেল লুট ঠেকাতে বিজিবি মোতায়েন Logo হবিগঞ্জ জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক আহমেদ আলী মুকিব Logo হবিগঞ্জে আবাসিক হোটেল থেকে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার

শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের প্রধান সড়কের বেহালদশা

নিজস্ব প্রতিবেদক

হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের প্রধান সড়কের বেহালদশা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এক বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়ে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনা ও ভেঙে পড়া নালা-নর্দমার কারণে পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই, ফলে পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত একেকটি ছোট পুকুরে পরিণত হয়। এতে পথচারীরা যেমন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন, তেমনি যানবাহন চলাচলেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ আহত হচ্ছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক চৌধুরী জানান, বছরের পর বছর ধরে এই সড়কটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। বারবার সংস্কারের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া, মাছুম মিয়া, পারভীন আক্তার বলেন, বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকা পানিতে ডুবে যায়। শিশুদের স্কুলে যেতে কষ্ট হয়, বৃদ্ধ ও রোগীদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আমরা যেন এক প্রকার বন্দি জীবন যাপন করছি।

স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেশি। প্রতিদিন কাদা-পানি মাড়িয়ে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়, যা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় জামাকাপড় নষ্ট হওয়ায় তারা বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়।

এলাকাবাসী আরও জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নালা-নর্দমাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পানি জমে থাকে এবং অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। অনেক জায়গায় ড্রেন ভেঙে পড়েছে বা মাটি দিয়ে ভরাট হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত সড়ক সংস্কার এবং আধুনিক ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

অতিসত্বর সড়ক সংস্কার, নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবিতে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা আশা করছেন, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মোঃ নাহিদ হোসেন বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। বরাদ্দক্রমে সড়ক ও ড্রেনের নির্মাণ করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৪:১৬:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
২ বার পড়া হয়েছে

শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের প্রধান সড়কের বেহালদশা

আপডেট সময় ০৪:১৬:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের প্রধান সড়কের বেহালদশা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এক বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়ে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনা ও ভেঙে পড়া নালা-নর্দমার কারণে পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই, ফলে পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত একেকটি ছোট পুকুরে পরিণত হয়। এতে পথচারীরা যেমন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন, তেমনি যানবাহন চলাচলেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ আহত হচ্ছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক চৌধুরী জানান, বছরের পর বছর ধরে এই সড়কটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। বারবার সংস্কারের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া, মাছুম মিয়া, পারভীন আক্তার বলেন, বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকা পানিতে ডুবে যায়। শিশুদের স্কুলে যেতে কষ্ট হয়, বৃদ্ধ ও রোগীদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আমরা যেন এক প্রকার বন্দি জীবন যাপন করছি।

স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেশি। প্রতিদিন কাদা-পানি মাড়িয়ে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়, যা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় জামাকাপড় নষ্ট হওয়ায় তারা বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়।

এলাকাবাসী আরও জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নালা-নর্দমাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পানি জমে থাকে এবং অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। অনেক জায়গায় ড্রেন ভেঙে পড়েছে বা মাটি দিয়ে ভরাট হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত সড়ক সংস্কার এবং আধুনিক ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

অতিসত্বর সড়ক সংস্কার, নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবিতে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা আশা করছেন, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মোঃ নাহিদ হোসেন বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। বরাদ্দক্রমে সড়ক ও ড্রেনের নির্মাণ করা হবে।