ঢাকা ০৯:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতা মাহদী মিছিলের প্রস্তুতিকালে আটক Logo নবাগত ইউএনও মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে শায়েস্তাগঞ্জের সাংবাদিকদের মতবিনিময় Logo হবিগঞ্জের গ্যাস সংকটে বন্ধ ১৭১ কারখানায় উৎপাদন, কর্মহীন দেড় লাখ শ্রমিক Logo বাংলাদেশের গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া Logo চুনারুঘাটে চা-বাগানে বাড়ছে যক্ষ্মা, হাসপাতালে ওষুধ সংকট Logo শায়েস্তাগঞ্জে পিকআপের ধাক্কায় টমটম চালক নিহত Logo বাহুবল ফল প্রকাশের আগেরদিন মৃত্যু, সেই রেজা এসএসসিতে পেয়েছে ৪.১১ Logo হবিগঞ্জে ফল বিক্রেতার মোবাইল চুরির অভিযোগে এসআই ক্লোজড Logo জুলাই যোদ্ধাদের চাকুরির নিয়োগপত্র প্রদান সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী Logo একটি চক্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে: ‍প্রধানমন্ত্রী

হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতা মাহদী মিছিলের প্রস্তুতিকালে আটক

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:-

হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সদস্যসচিব মাহদী হাসানসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে লোডশেডিং, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, গ্যাসের সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতিকালে শহরের কোর্ট মসজিদের সামনে থেকে মাহদী হাসানকে আটক করা হয়। যিনি চলতি বছরের জানুয়ারিতে ‘থানা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু জ্বালাই দিয়েছিলাম’ বলে আলোচনায় এসেছিলেন।

সোমবার মাহদীকে আটকের আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মির্জা সুমন ও রাকিবকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে।

তবে মাহদী হাসানসহ তিনজনকে আটকের সময় কোর্ট মসজিদ এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্য কোনো নেতা কর্মী বা আন্দোলনকারীকে দেখা যায়নি।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে ‘ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

ওসি বলেন, প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করে আয়োজকেরা জড়ো হলে ঘটনাস্থল থেকে মাহদী হাসানসহ তিনজনকে আটক করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এনামুল হাসান নয়ন নামে এক তরুণকে আটক করা হলে তিনি সেখানে যান। এ সময় ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু জ্বালাই দিয়েছিলাম’– এমন বক্তব্য দিয়ে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

ওইদিনের একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আপনি প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছেন। হবিগঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল, এখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এতগুলো ছেলে কি এমনি এমনি ভেসে এসেছে?’

ঘটনাটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিলে পরদিন ৩ জানুয়ারি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে ৪ জানুয়ারি আদালত থেকে জামিন পান তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিন বানিয়াচং থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করা হয়। উদ্ধার অভিযানের সময় উপপরিদর্শক (এসআই) সন্তোষ চৌধুরীকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন থানার সামনে একটি গাছে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেই ঘটনাকে ঘিরেই মাহাদীর জানুয়ারির বক্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:০৮:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
০ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতা মাহদী মিছিলের প্রস্তুতিকালে আটক

আপডেট সময় ০৯:০৮:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সদস্যসচিব মাহদী হাসানসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে লোডশেডিং, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, গ্যাসের সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতিকালে শহরের কোর্ট মসজিদের সামনে থেকে মাহদী হাসানকে আটক করা হয়। যিনি চলতি বছরের জানুয়ারিতে ‘থানা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু জ্বালাই দিয়েছিলাম’ বলে আলোচনায় এসেছিলেন।

সোমবার মাহদীকে আটকের আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মির্জা সুমন ও রাকিবকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে।

তবে মাহদী হাসানসহ তিনজনকে আটকের সময় কোর্ট মসজিদ এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্য কোনো নেতা কর্মী বা আন্দোলনকারীকে দেখা যায়নি।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে ‘ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

ওসি বলেন, প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করে আয়োজকেরা জড়ো হলে ঘটনাস্থল থেকে মাহদী হাসানসহ তিনজনকে আটক করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এনামুল হাসান নয়ন নামে এক তরুণকে আটক করা হলে তিনি সেখানে যান। এ সময় ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু জ্বালাই দিয়েছিলাম’– এমন বক্তব্য দিয়ে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

ওইদিনের একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আপনি প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছেন। হবিগঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল, এখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এতগুলো ছেলে কি এমনি এমনি ভেসে এসেছে?’

ঘটনাটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিলে পরদিন ৩ জানুয়ারি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে ৪ জানুয়ারি আদালত থেকে জামিন পান তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিন বানিয়াচং থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করা হয়। উদ্ধার অভিযানের সময় উপপরিদর্শক (এসআই) সন্তোষ চৌধুরীকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন থানার সামনে একটি গাছে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেই ঘটনাকে ঘিরেই মাহাদীর জানুয়ারির বক্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।