ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo খোয়াই নদীতে অবাধে মাটি-বালু উত্তোলন ॥ ভাঙন আতঙ্ক Logo হবিগঞ্জে টানা বর্ষণে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি Logo বানিয়াচংয়ে ২২০০ বিঘা জমির ধান পানির নিচে Logo হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর ব্রীজ থেকে পানিতে পরে নারীর মৃত্যু Logo শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের প্রধান সড়কের বেহালদশা Logo হবিগঞ্জে দুই বোনের বিষপানে এক বোনের মৃত্যু Logo তেলিয়াপাড়া দিবসে হবিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সমাবেশ অনুষ্ঠিত‘মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ মুজিব বন্দি হয়ে পাকিস্তান চলে গিয়েছিলেন’ Logo শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে বাড়ছে মোবাইল চুরির ঘটনা Logo ১৮ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক Logo শায়েস্তাগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতির ৫০তম জন্মদিন উদযাপন, কেক কাটা ও দোয়া মাহফিল

খোয়াই নদীতে অবাধে মাটি-বালু উত্তোলন ॥ ভাঙন আতঙ্ক

নিজস্ব সংবাদ :

হবিগঞ্জ সদর থেকে শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত খোয়াই নদীর বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দেদারছে বালু উত্তোলন চলছে। একই সঙ্গে এক্সকেভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে নদীর পাড় ও আশপাশের মাটি। এতে করে নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। সরেজমিনে ঘরে দেখা গেছে, সদরের কামড়াপুর, গরু বাজার, গোবিন্দপুর, রামপুর, ইনাতাবাদ, মাছুলিয়া, তেতৈয়া, মশাজান, পাইকপাড়া এবং শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কলিমনগর, আলাপুর, পূর্ব লেঞ্জাপাড়া ও লস্করপুরসহ অন্তত একাধিক স্থানে বিকট শব্দে দিনভর চলছে ড্রেজার মেশিন। নদীর তলদেশ থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি স্থানে নদীর তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে একটি প্রভাবশালী চক্র সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একাধিক ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। এসব বালু পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ ট্রাক্টর, যার কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় সড়কের পিচ উঠে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
এলাকাবাসী জানান, গত বছরের আগস্ট মাসে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার আলাপুর ও লেঞ্জাপাড়া এলাকার দুটি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তখন দিন-রাত আতঙ্কে কাটিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বালুভর্তি বস্তা ফেলে কোনোমতে রক্ষা করে নদীর তীরবর্তী বাঁধ। কিন্তু সেই আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই আবার শুরু হয়েছে বালু উত্তোলন, যা নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, খোয়াই নদীর এই অংশসহ বিভিন্ন এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এলাকাবাসী বারবার বালু উত্তোলন বন্ধের অনুরোধ জানালেও প্রভাবশালী বালুখেকোরা তা আমলে নিচ্ছে না। উল্টো প্রতিবাদকারীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, এমনকি হামলা ও মামলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, উপজেলা প্রশাসন থেকেও একাধিকবার নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। প্রশাসনের নজরদারির ঘাটতি ও অজ্ঞাত কারণে এসব অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। তবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের দাবি, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই নির্দিষ্ট একটি অংশ থেকে বালু উত্তোলন করছেন। যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমতির কথা বলে নদীর বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থান থেকেও বালু তোলা হচ্ছে, যা আইনবিরোধী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং তীরভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে খোয়াই নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদী রক্ষায় স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৪:০৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
২ বার পড়া হয়েছে

খোয়াই নদীতে অবাধে মাটি-বালু উত্তোলন ॥ ভাঙন আতঙ্ক

আপডেট সময় ০৪:০৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

হবিগঞ্জ সদর থেকে শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত খোয়াই নদীর বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দেদারছে বালু উত্তোলন চলছে। একই সঙ্গে এক্সকেভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে নদীর পাড় ও আশপাশের মাটি। এতে করে নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। সরেজমিনে ঘরে দেখা গেছে, সদরের কামড়াপুর, গরু বাজার, গোবিন্দপুর, রামপুর, ইনাতাবাদ, মাছুলিয়া, তেতৈয়া, মশাজান, পাইকপাড়া এবং শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কলিমনগর, আলাপুর, পূর্ব লেঞ্জাপাড়া ও লস্করপুরসহ অন্তত একাধিক স্থানে বিকট শব্দে দিনভর চলছে ড্রেজার মেশিন। নদীর তলদেশ থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি স্থানে নদীর তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে একটি প্রভাবশালী চক্র সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একাধিক ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। এসব বালু পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ ট্রাক্টর, যার কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় সড়কের পিচ উঠে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
এলাকাবাসী জানান, গত বছরের আগস্ট মাসে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার আলাপুর ও লেঞ্জাপাড়া এলাকার দুটি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তখন দিন-রাত আতঙ্কে কাটিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বালুভর্তি বস্তা ফেলে কোনোমতে রক্ষা করে নদীর তীরবর্তী বাঁধ। কিন্তু সেই আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই আবার শুরু হয়েছে বালু উত্তোলন, যা নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, খোয়াই নদীর এই অংশসহ বিভিন্ন এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এলাকাবাসী বারবার বালু উত্তোলন বন্ধের অনুরোধ জানালেও প্রভাবশালী বালুখেকোরা তা আমলে নিচ্ছে না। উল্টো প্রতিবাদকারীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, এমনকি হামলা ও মামলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, উপজেলা প্রশাসন থেকেও একাধিকবার নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। প্রশাসনের নজরদারির ঘাটতি ও অজ্ঞাত কারণে এসব অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। তবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের দাবি, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই নির্দিষ্ট একটি অংশ থেকে বালু উত্তোলন করছেন। যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমতির কথা বলে নদীর বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থান থেকেও বালু তোলা হচ্ছে, যা আইনবিরোধী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং তীরভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে খোয়াই নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদী রক্ষায় স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।