ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo শায়েস্তাগঞ্জে পিকআপের ধাক্কায় টমটম চালক নিহত Logo বাহুবল ফল প্রকাশের আগেরদিন মৃত্যু, সেই রেজা এসএসসিতে পেয়েছে ৪.১১ Logo হবিগঞ্জে ফল বিক্রেতার মোবাইল চুরির অভিযোগে এসআই ক্লোজড Logo জুলাই যোদ্ধাদের চাকুরির নিয়োগপত্র প্রদান সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী Logo একটি চক্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে: ‍প্রধানমন্ত্রী Logo জুলাই অভ্যুত্থানের মহানায়ক কোনো ব্যক্তি বা দল নয়, গণতন্ত্রকামী জনগণ : প্রধানমন্ত্রী Logo শায়েস্তাগঞ্জে আগস্টের বিজয় Logo হবিগঞ্জে এনসিপির মামলা: ছাত্রদল নেতা রিংগনসহ ১১ জনের জামিন Logo হবিগঞ্জে এক বছরে পানিতে ডুবে ২৭ শিশুর মৃত্যু Logo লাখাইয়ে হোমিওপ্যাথিক তরল পানে দম্পতিসহ ৫ জনের মৃত্যু

নবীগঞ্জে দুই শিক্ষিকা তিন বছর ধরে অনুপস্থিত, একজন ফ্রান্সে আরেকজন পর্তুগাল

নবীগঞ্জ( হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জে ৩ বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষিকা। তারা কোনো অনুমতি ছাড়াই একজন ফ্রান্স আর একজন পর্তুগালে অবস্থান করছেন।

এ নিয়ে শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দিয়ে এলাকাবাসী কোন প্রতিকার পাননি। ফলে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ব্যহত হচ্ছে।

জানা যায়, জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা উপজেলার মিঠাপুর গ্রামের বাসিন্দা জিতেন্দ্র পালের মেয়ে ফালগুনি পাল ইতি ২০২২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকা নবীগঞ্জ উপজেলার জয়নগর গ্রামের তাজ উদ্দিন আহমদের মেয়ে মাসুমা সুলতানা গাজী ২০২৩ সালের ১ মার্চ থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত।

ওই দুই শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে না আসার কারণে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বিঘ্ন ঘটছে। ৫ জনের স্থলে তিনজন শিক্ষক এখন অনেক কষ্টে পাঠদান করছেন। ওই দুজন শিক্ষিকা উক্ত বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি বা প্রধান শিক্ষিকাকে কোন কিছু না জানিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সহকারী শিক্ষিকা ফালগুনি পাল ইতি ২০২২ সালের ১০ জানুয়ারি তার স্বামীর সাথে ফ্রান্স চলে গেছেন। সেখানে তিনি নাগরিকত্ব নিয়েছেন। একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকা মাসুমা সুলতানা গাজীও স্বামীর সাথে পর্তুগালে চলে গেছেন এবং সেখানে নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। ফলে ওই দুই শিক্ষিকা কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। বিষয়টি এলাকাবাসী ও প্রধান শিক্ষিকা নবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জানালেও তারা কর্ণপাত করছেন না।

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা তবারুক বেগম বলেন, “আমার স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা দুইজন দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকার কারণে ক্লাসে পাঠদানে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। শিগগিরই উক্ত পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি। আমি এবং আমার কমিটি একাধিকবার জানালেও ওই পদগুলো শূন্য ঘোষণা করা হচ্ছে না।”

নবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রোমান মিয়া বলেন, “উক্ত পদগুলো শূন্য ঘোষণা করার জন্য হবিগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আমাদের কাছে তারা কোন লিখিত ছুটির আবেদন করেননি। তাই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, নানা জটিলতায় পদ শূন্য ঘোষণা করতে বিলম্ব হচ্ছে।”

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৪:৪৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
১৪৪ বার পড়া হয়েছে

নবীগঞ্জে দুই শিক্ষিকা তিন বছর ধরে অনুপস্থিত, একজন ফ্রান্সে আরেকজন পর্তুগাল

আপডেট সময় ০৪:৪৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জে ৩ বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষিকা। তারা কোনো অনুমতি ছাড়াই একজন ফ্রান্স আর একজন পর্তুগালে অবস্থান করছেন।

এ নিয়ে শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দিয়ে এলাকাবাসী কোন প্রতিকার পাননি। ফলে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ব্যহত হচ্ছে।

জানা যায়, জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা উপজেলার মিঠাপুর গ্রামের বাসিন্দা জিতেন্দ্র পালের মেয়ে ফালগুনি পাল ইতি ২০২২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকা নবীগঞ্জ উপজেলার জয়নগর গ্রামের তাজ উদ্দিন আহমদের মেয়ে মাসুমা সুলতানা গাজী ২০২৩ সালের ১ মার্চ থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত।

ওই দুই শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে না আসার কারণে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বিঘ্ন ঘটছে। ৫ জনের স্থলে তিনজন শিক্ষক এখন অনেক কষ্টে পাঠদান করছেন। ওই দুজন শিক্ষিকা উক্ত বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি বা প্রধান শিক্ষিকাকে কোন কিছু না জানিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সহকারী শিক্ষিকা ফালগুনি পাল ইতি ২০২২ সালের ১০ জানুয়ারি তার স্বামীর সাথে ফ্রান্স চলে গেছেন। সেখানে তিনি নাগরিকত্ব নিয়েছেন। একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকা মাসুমা সুলতানা গাজীও স্বামীর সাথে পর্তুগালে চলে গেছেন এবং সেখানে নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। ফলে ওই দুই শিক্ষিকা কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। বিষয়টি এলাকাবাসী ও প্রধান শিক্ষিকা নবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জানালেও তারা কর্ণপাত করছেন না।

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা তবারুক বেগম বলেন, “আমার স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা দুইজন দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকার কারণে ক্লাসে পাঠদানে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। শিগগিরই উক্ত পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি। আমি এবং আমার কমিটি একাধিকবার জানালেও ওই পদগুলো শূন্য ঘোষণা করা হচ্ছে না।”

নবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রোমান মিয়া বলেন, “উক্ত পদগুলো শূন্য ঘোষণা করার জন্য হবিগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আমাদের কাছে তারা কোন লিখিত ছুটির আবেদন করেননি। তাই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, নানা জটিলতায় পদ শূন্য ঘোষণা করতে বিলম্ব হচ্ছে।”