ঢাকা ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo চুনারুঘাট উপজেলার চন্ডিছড়া চা বাগানে ভার্চুয়ালি ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo হবিগঞ্জে দুপক্ষের সংঘর্ষে ২ জন নিহত,আহত ৪০ Logo শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নিজস্ব কোনো ভবন নেই দাপ্তরিক কাজ হচ্ছে ভাড়া বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে। Logo শায়েস্তাগঞ্জে ভয়াবহ যানজট-দেখার যেন কেউ নেই Logo মাধবপুর পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি Logo চুনারুঘাটে খোয়াই নদীতে গোসল করতে গিয়ে বৃদ্ধ নিখোঁজ Logo শায়েস্তাগঞ্জে বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলর আব্দুল আহাদকে প্রেসক্লাবের সংবর্ধনা Logo ‘বাজেট বুঝি না, শুধু দুবেলা খাবার চাই’ Logo ‘চা শ্রমিকের কোনো পরিবর্তন নেই’প্রতিদিন ১৮৭ টাকা মজুরি নিয়ে দুর্দশার জীবন কাটাছে Logo মহান মে দিবস আজ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন

সরিনা খাতুন যেন ‘আসমানী’রই প্রতিচ্ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

কবিতার সেই আসমানীদের হয়তো রসুলপুরে গিয়ে বাস্তবে দেখা সম্ভব হবে না। তবে ছেঁড়া পলিথিনে মোড়ানো ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করা সরিনা খাতুনকে (৫০) দেখলে মনে হবে যেন আসমানীরই আরেক প্রতিচ্ছবি।

হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের গুদাম মাঠে পরিত্যক্ত রেলের জমিতে বসবাস করেন সরিনা খাতুন। তার ঘরের সামনে স্তুপ করে রাখা লাকড়ি (জ্বালানি কাঠ)। এই লাকড়ি বিক্রির টাকাতেই জীবন চলে তার।

রাস্তার পাশে খাল লাগোয়া একটি স্থানে কয়েকটি বাঁশের খুঁটির সঙ্গে পুরনো টিন ও পলিথিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে থাকার ঘর। পলিথিনের নিচে মাটিতে প্লাস্টিকের বস্তা বিছিয়ে তৈরি হয়েছে ঘুমানোর জায়গা। তারই অদূরে রান্নার চুলা। একেবারে বসবাসের অযোগ্য। তারপরও এরই মধ্যে কোনোমতে টেনেটুনে জীবন পার করছেন তিনি।

সরিনা খাতুন জানান, তার বাবা শেখ আব্দুল হালিম শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে এখানে তাদের বসাবস। বাবা হারান ছোট বেলায়, মাও নেই। স্বামী নোয়াজ আলী মেকারও প্রায় ১২ বছর আগে মারা গেছেন। সেই সময় থেকে একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি। মানুষের বাড়িতে কাজ করে দুই সন্তানকে বড় করেছেন। এক ছেলে-এক মেয়ে, দুজনেরই সংসার হয়েছে। এখন আর মানুষের বাড়িতে কাজ করতে পারেন না। তাই জীবিকা নির্বাহে বেছে নিয়েছেন লাকড়ি বিক্রির পেশা।

রঘুনন্দন পাহাড়ি এলাকা থেকে পরিত্যক্ত লাকড়ি সংগ্রহ করেন সরিনা। নিজ ঝুপড়ি ঘরের সামনে বসে সামান্য লাভে সেই লাকড়ি বিক্রি করে দৈনিক একশ’ থেকে দুইশ’ টাকা আয় হয়। তাতেই চলে সংসার। লাকড়ি বিক্রি না হলে বাজার হয় না, চুলায় জ্বলে না আগুন। অনাহারেই থাকতে হয়। কোনো সরকারি সহায়তাও পান না তিনি। পুরনো টিনের জোড়াতালি আর পলিথিনে তৈরি ঝুপড়ি ঘরে রোদ-বৃষ্টির সঙ্গে লড়াই করে বসবাস করতে হয় প্রতিনিয়তছেলের কথা জিজ্ঞেস করলে সে ব্যাপারে কথা বলতে চাননি তিনি। বিয়ের পর নিজের সংসার নিয়েই চলা কঠিন হয়ে পড়েছে ছেলের। তাকে কীভাবে দেখবে? এটুকু বলেই থেমে যান তিনি। শায়েস্তাগঞ্জ পৌর এলাকার ভোটার হলেও বিধবা ভাতার কার্ড তার ভাগ্যে জোটেনি।

বর্তমান সরকারের কাছে তার চাওয়া- বসবাসের জন্য একটি ছোট ঘর আর ব্যবসার জন্য কিছু পুঁজি। এছাড়া বিধবা ভাতার একটি কার্ডও চান তিনি। এসব পেলে বাকি জীবনটা হয়তো কিছুটা ভালোভাবে কাটাতে পারবেন এই সংগ্রামী নারী।

শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. মাসুক মিয়া বলেন, “আবেদন করলে তাকে একটি বিধবা ভাতার কার্ড সংগ্রহ করে দেওয়ার চেষ্টা করব।”
উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আ স ম আফজল আলী বলেন, “আমি নিঃস্বার্থভাবে তৃণমূল মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছি। এজন্য লোকজন ভোট দিয়ে আমাকে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছিল। বর্তমানে দায়িত্বে না থাকলেও ঘরে বসে নেই। তৃণমূল মানুষের পাশে আছি। এখানে অসহায় সরিনা খাতুনের কষ্টের কথা জেনেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত তার জন্য কিছু একটা করতে চাই।”

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০২:২২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫
১৯৮ বার পড়া হয়েছে

সরিনা খাতুন যেন ‘আসমানী’রই প্রতিচ্ছবি

আপডেট সময় ০২:২২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫

কবিতার সেই আসমানীদের হয়তো রসুলপুরে গিয়ে বাস্তবে দেখা সম্ভব হবে না। তবে ছেঁড়া পলিথিনে মোড়ানো ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করা সরিনা খাতুনকে (৫০) দেখলে মনে হবে যেন আসমানীরই আরেক প্রতিচ্ছবি।

হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের গুদাম মাঠে পরিত্যক্ত রেলের জমিতে বসবাস করেন সরিনা খাতুন। তার ঘরের সামনে স্তুপ করে রাখা লাকড়ি (জ্বালানি কাঠ)। এই লাকড়ি বিক্রির টাকাতেই জীবন চলে তার।

রাস্তার পাশে খাল লাগোয়া একটি স্থানে কয়েকটি বাঁশের খুঁটির সঙ্গে পুরনো টিন ও পলিথিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে থাকার ঘর। পলিথিনের নিচে মাটিতে প্লাস্টিকের বস্তা বিছিয়ে তৈরি হয়েছে ঘুমানোর জায়গা। তারই অদূরে রান্নার চুলা। একেবারে বসবাসের অযোগ্য। তারপরও এরই মধ্যে কোনোমতে টেনেটুনে জীবন পার করছেন তিনি।

সরিনা খাতুন জানান, তার বাবা শেখ আব্দুল হালিম শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে এখানে তাদের বসাবস। বাবা হারান ছোট বেলায়, মাও নেই। স্বামী নোয়াজ আলী মেকারও প্রায় ১২ বছর আগে মারা গেছেন। সেই সময় থেকে একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি। মানুষের বাড়িতে কাজ করে দুই সন্তানকে বড় করেছেন। এক ছেলে-এক মেয়ে, দুজনেরই সংসার হয়েছে। এখন আর মানুষের বাড়িতে কাজ করতে পারেন না। তাই জীবিকা নির্বাহে বেছে নিয়েছেন লাকড়ি বিক্রির পেশা।

রঘুনন্দন পাহাড়ি এলাকা থেকে পরিত্যক্ত লাকড়ি সংগ্রহ করেন সরিনা। নিজ ঝুপড়ি ঘরের সামনে বসে সামান্য লাভে সেই লাকড়ি বিক্রি করে দৈনিক একশ’ থেকে দুইশ’ টাকা আয় হয়। তাতেই চলে সংসার। লাকড়ি বিক্রি না হলে বাজার হয় না, চুলায় জ্বলে না আগুন। অনাহারেই থাকতে হয়। কোনো সরকারি সহায়তাও পান না তিনি। পুরনো টিনের জোড়াতালি আর পলিথিনে তৈরি ঝুপড়ি ঘরে রোদ-বৃষ্টির সঙ্গে লড়াই করে বসবাস করতে হয় প্রতিনিয়তছেলের কথা জিজ্ঞেস করলে সে ব্যাপারে কথা বলতে চাননি তিনি। বিয়ের পর নিজের সংসার নিয়েই চলা কঠিন হয়ে পড়েছে ছেলের। তাকে কীভাবে দেখবে? এটুকু বলেই থেমে যান তিনি। শায়েস্তাগঞ্জ পৌর এলাকার ভোটার হলেও বিধবা ভাতার কার্ড তার ভাগ্যে জোটেনি।

বর্তমান সরকারের কাছে তার চাওয়া- বসবাসের জন্য একটি ছোট ঘর আর ব্যবসার জন্য কিছু পুঁজি। এছাড়া বিধবা ভাতার একটি কার্ডও চান তিনি। এসব পেলে বাকি জীবনটা হয়তো কিছুটা ভালোভাবে কাটাতে পারবেন এই সংগ্রামী নারী।

শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. মাসুক মিয়া বলেন, “আবেদন করলে তাকে একটি বিধবা ভাতার কার্ড সংগ্রহ করে দেওয়ার চেষ্টা করব।”
উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আ স ম আফজল আলী বলেন, “আমি নিঃস্বার্থভাবে তৃণমূল মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছি। এজন্য লোকজন ভোট দিয়ে আমাকে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছিল। বর্তমানে দায়িত্বে না থাকলেও ঘরে বসে নেই। তৃণমূল মানুষের পাশে আছি। এখানে অসহায় সরিনা খাতুনের কষ্টের কথা জেনেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত তার জন্য কিছু একটা করতে চাই।”