ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হবিগঞ্জের বালুভর্তি ট্রাকে পাচারকালে দেড় কোটি টাকার ভারতীয় কসমেটিকস ও শাড়ীর চালান জব্দ Logo শায়েস্তাগঞ্জে ৮৮ বস্তা অবৈধ জিরার চালানসহ গ্রেপ্তার ১ Logo নিখোঁজের ৩দিন পর নদীর পাড়ে মিলল মাদরাসাছাত্রের লাশ Logo আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে রেজা কিবরিয়াকে শোকজ Logo শায়েস্তাগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবগঠিত কমিটিকে উপজেলা আহলে সুন্নাত উলামা পরিষদের অভিনন্দন Logo হবিগঞ্জে বালুর ট্রাক থেকে ভারতীয় জিরা জব্দ Logo হবিগঞ্জে ১০ প্রার্থীর মনোনয়পত্র বাতিল Logo ছাত্রলীগ সন্দেহে জুলাই আন্দোলনকারী আটক, পরে মুক্তি Logo খালেদা জিয়ার জানাজায় স্মরণকালের রেকর্ড মানুষের অংশগ্রহণ Logo বিদায় বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় গণতন্ত্রের নেত্রী “খালেদা জিয়া”

আশুরার দিনে যা ঘটেছিল?

শায়েস্তাগঞ্জের বাণী ডেস্ক ,

হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম। এ মাসের ১০ তারিখের দিনকে আশুরা বলে। মহররম মাসকে হাদিসে আল্লাহর মাস বলে সম্মানিত করা হয়েছে। সেই সম্মানিত মাসের ১০ তারিখও ঐতিহাসিকভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

এ দিনে রোজা রাখার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কেউ যদি এ দিন রোজা রাখা তাহলে আল্লাহ তাআলা রোজাদারের পূর্বের এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। (মুসলিম)

এ দিনের রোজার হাদিসে জানা যায়, আশুরার দিনে মুসা আলাইহিস সালামকে ফেরআউন থেকে মুক্তি দেয়া হয়।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করে মদিনায় এলেন এবং তিনি ইহুদিদেরকে আশুরার দিন রোজা পালন করতে দেখতে পেলেন।

এরপর তাদেরকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার পর তারা বলল, এ সে দিন যে দিন আল্লাহ মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে ফিরআউনের ওপর বিজয়ী করেছেন। তার সম্মানার্থে আমরা রোজা পালন করে থাকি।

তখন নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমরা তোমাদের চেয়েও মুসা (আ.)-এর অধিক নিকটবর্তী। এরপর তিনি এ দিনে রোজা পালন করার নির্দেশ দিলেন। (মুসলিম ২৫২৩)

এ হাদিস থেকে এটা প্রমাণিত এদিন ফেরআউনকে পানিতে ডুবিয়ে মারা হয়েছিল। হাদিসে মুসা (আ.)-এর ঘটনা নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

এ দিনে আরও ৩টি ঘটনার কথা হাদিসের কিতাবসমূহে পাওয়া যায় তবে হাদিস বিসারদগণ সেগুলো অনির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে বলে মত দিয়েছেন। সে তিনটি ঘটনা হলো-

১. এ দিনে আল্লাহ তাআলা হজরত আদম (আ.)-এর তওবা কবুল করেন।

২. এ দিনে নুহ (আ.)-এর নৌকা জুদি পর্বতের উপর থামে।

৩. এ দিনে ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেন।

এ ছাড়া এ দিনে কেয়ামত সংঘটিত হবে বলে যে কথা প্রচলিত আছে তার কোনো ভিত্তি নেই।

যে বর্ণনায় আশুরার দিন কেয়ামত হওয়ার কথা এসেছে তা হাদিস বিশারদদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভিত্তিহীন, জাল। (কিতাবুল মাউজুআত ২/২০২)

তবে জুমার দিন কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার কথা নির্ভরযোগ্য সূত্রে হাদিসে এসেছে। (তিরমিজি ২/৩৬২)

এ দিনের একটি শোকাবহ ঘটনা হলো ইরাকের কারবালার প্রান্তরে হজরত হুসাইন (রা.)-এর শাহাদত বরণের ঘটনা। যা মুসলিম জাতির জন্য অনেক দুঃখজনক বিষয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:০০:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০২৪
১৭৫ বার পড়া হয়েছে

আশুরার দিনে যা ঘটেছিল?

আপডেট সময় ০৯:০০:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০২৪

হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম। এ মাসের ১০ তারিখের দিনকে আশুরা বলে। মহররম মাসকে হাদিসে আল্লাহর মাস বলে সম্মানিত করা হয়েছে। সেই সম্মানিত মাসের ১০ তারিখও ঐতিহাসিকভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

এ দিনে রোজা রাখার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কেউ যদি এ দিন রোজা রাখা তাহলে আল্লাহ তাআলা রোজাদারের পূর্বের এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। (মুসলিম)

এ দিনের রোজার হাদিসে জানা যায়, আশুরার দিনে মুসা আলাইহিস সালামকে ফেরআউন থেকে মুক্তি দেয়া হয়।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করে মদিনায় এলেন এবং তিনি ইহুদিদেরকে আশুরার দিন রোজা পালন করতে দেখতে পেলেন।

এরপর তাদেরকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার পর তারা বলল, এ সে দিন যে দিন আল্লাহ মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে ফিরআউনের ওপর বিজয়ী করেছেন। তার সম্মানার্থে আমরা রোজা পালন করে থাকি।

তখন নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমরা তোমাদের চেয়েও মুসা (আ.)-এর অধিক নিকটবর্তী। এরপর তিনি এ দিনে রোজা পালন করার নির্দেশ দিলেন। (মুসলিম ২৫২৩)

এ হাদিস থেকে এটা প্রমাণিত এদিন ফেরআউনকে পানিতে ডুবিয়ে মারা হয়েছিল। হাদিসে মুসা (আ.)-এর ঘটনা নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

এ দিনে আরও ৩টি ঘটনার কথা হাদিসের কিতাবসমূহে পাওয়া যায় তবে হাদিস বিসারদগণ সেগুলো অনির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে বলে মত দিয়েছেন। সে তিনটি ঘটনা হলো-

১. এ দিনে আল্লাহ তাআলা হজরত আদম (আ.)-এর তওবা কবুল করেন।

২. এ দিনে নুহ (আ.)-এর নৌকা জুদি পর্বতের উপর থামে।

৩. এ দিনে ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেন।

এ ছাড়া এ দিনে কেয়ামত সংঘটিত হবে বলে যে কথা প্রচলিত আছে তার কোনো ভিত্তি নেই।

যে বর্ণনায় আশুরার দিন কেয়ামত হওয়ার কথা এসেছে তা হাদিস বিশারদদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভিত্তিহীন, জাল। (কিতাবুল মাউজুআত ২/২০২)

তবে জুমার দিন কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার কথা নির্ভরযোগ্য সূত্রে হাদিসে এসেছে। (তিরমিজি ২/৩৬২)

এ দিনের একটি শোকাবহ ঘটনা হলো ইরাকের কারবালার প্রান্তরে হজরত হুসাইন (রা.)-এর শাহাদত বরণের ঘটনা। যা মুসলিম জাতির জন্য অনেক দুঃখজনক বিষয়।