ঢাকা ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ‘বাজেট বুঝি না, শুধু দুবেলা খাবার চাই’ Logo ‘চা শ্রমিকের কোনো পরিবর্তন নেই’প্রতিদিন ১৮৭ টাকা মজুরি নিয়ে দুর্দশার জীবন কাটাছে Logo মহান মে দিবস আজ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন Logo খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কায় হাজারো কৃষক Logo এক মুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারব না ২ হাজার ৭১০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে Logo শায়েস্তাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হলেন প্রভাষক কামরুল হাসান রিপন Logo হবিগঞ্জে ৩টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা Logo আজমিরীগঞ্জে শ্রমিক ও মেশিনের অভাবে মাঠেই নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় বোরো ধান Logo স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও অবহেলিত মাধবপুরের শামসুন্নাহার Logo হবিগঞ্জ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন, ভোগান্তি চরমে

মৌলভীবাজারে দু’পক্ষে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫০

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নে সরকারি খাস জলাশয় দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ১ জন নিহত হয়েছেন । আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলা পূর্ব খলিলপুর ও মনূমুখ ইউনিয়নের মধ্যবর্তী পূর্ব লামুয়া (কর্মদপুর) গ্রামে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, জলাশয় দখল সংক্রান্ত জের ধরে ওই গ্রামের এমদাদুল হক লেফাস ও আনর মিয়া গ্রুপের মধ্যে গেল শনিবার রাতে তুমুল মারামারি হয়।

রাতের ঘটনাটি কোনরকম স্থানীয়রা সামলে নিলেও রোববার ভোর ৬টা থেকে আবার উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই ঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ঘর-বাড়ি ভাংচুর’র ঘটনা ঘটে। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লোহার রড, দাড়ালো বাঁশ ও বন্দুক ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘ লড়াই শেষে হাসপাতালে নেবার পথে এমদাদুল হক লেফাস’র গ্রুপের নোমান মিয়া (২৮) মারা যান। আহতদের মধ্যে গুরতর জখম এমদাদুল হক লেফাসকে জরুরি চিকিৎসা দিতে রোববার সকালে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

অন্যান্য আহতের স্থানীয় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, মৌলভীবাজার ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতরা হলেন, মুকিত মিয়া (৪৫), মহসীন (৩০), আকবর (৩৫), ছফি মিয়া (৫০), রব্বান মিয়া (৫৫), মিছিল (৩৫), লেফাস মিয়া-২ (৬০), জাবেদ মিয়া (২৮), আকমান (৩০)।

এছাড়াও অন্যান্য আহতদের নাম ও তাদেও অবস্থা কেমন সেটি এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ জানা যায়নি। স্থানীয় খলিলপুর ইউপি সদস্য মিলন মিয়া বলেন, প্রথম দফা মারামারির ঘটনার পর আমরা গত রাত ৩টা পর্যন্ত আপোষ-মিমাংশায় ব্যস্থ ছিলাম। কিন্তু উভয় পক্ষকে সমঝোতায় আনতে পারিনি। আরেক ইউপি সদস্য জুনাইদ আহমদ বলেন, সরকারি খাস জলাশয়ের প্রায় ১০ একর জমি নিয়ে তারা ঘন্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল।

এসময় তারা বন্দুক, লোহার রড ও দাড়ালো বাঁশ ব্যবহার করেছে। খরিললপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু মিয়া চৌধুরী বলেন,সরকারি খাস জমি নিয়ে পূর্ব খলিলপুর ও মনূমুখ ইউনিয়নের ওই গ্রামে দীর্ঘ সময় ধরে সংঘর্ষ চলে। হাসপাতালে নেবার সময় নোমান মিয়া নামের এক যুবক মারা গেছেন।

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম এ প্রতিবেদককে জানান, ওই এলাকায় মারামারির খবর পেয়ে আমি, সদর সার্কেল ও থার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছি। এখন গ্রাম শুন্য এলাকা। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঠিক কি কারণে ঘটনাটি ঘটেছে জানতে চাইলে ওই এএসপি বলেন, ওখানে খাস জলাশয় ও কিছু মালিকানাধীন জমি রয়েছে। এগুলো নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। তবে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:৩৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুলাই ২০২৪
১৭১ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজারে দু’পক্ষে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫০

আপডেট সময় ০৯:৩৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুলাই ২০২৪

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নে সরকারি খাস জলাশয় দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ১ জন নিহত হয়েছেন । আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলা পূর্ব খলিলপুর ও মনূমুখ ইউনিয়নের মধ্যবর্তী পূর্ব লামুয়া (কর্মদপুর) গ্রামে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, জলাশয় দখল সংক্রান্ত জের ধরে ওই গ্রামের এমদাদুল হক লেফাস ও আনর মিয়া গ্রুপের মধ্যে গেল শনিবার রাতে তুমুল মারামারি হয়।

রাতের ঘটনাটি কোনরকম স্থানীয়রা সামলে নিলেও রোববার ভোর ৬টা থেকে আবার উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই ঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ঘর-বাড়ি ভাংচুর’র ঘটনা ঘটে। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লোহার রড, দাড়ালো বাঁশ ও বন্দুক ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘ লড়াই শেষে হাসপাতালে নেবার পথে এমদাদুল হক লেফাস’র গ্রুপের নোমান মিয়া (২৮) মারা যান। আহতদের মধ্যে গুরতর জখম এমদাদুল হক লেফাসকে জরুরি চিকিৎসা দিতে রোববার সকালে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

অন্যান্য আহতের স্থানীয় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, মৌলভীবাজার ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতরা হলেন, মুকিত মিয়া (৪৫), মহসীন (৩০), আকবর (৩৫), ছফি মিয়া (৫০), রব্বান মিয়া (৫৫), মিছিল (৩৫), লেফাস মিয়া-২ (৬০), জাবেদ মিয়া (২৮), আকমান (৩০)।

এছাড়াও অন্যান্য আহতদের নাম ও তাদেও অবস্থা কেমন সেটি এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ জানা যায়নি। স্থানীয় খলিলপুর ইউপি সদস্য মিলন মিয়া বলেন, প্রথম দফা মারামারির ঘটনার পর আমরা গত রাত ৩টা পর্যন্ত আপোষ-মিমাংশায় ব্যস্থ ছিলাম। কিন্তু উভয় পক্ষকে সমঝোতায় আনতে পারিনি। আরেক ইউপি সদস্য জুনাইদ আহমদ বলেন, সরকারি খাস জলাশয়ের প্রায় ১০ একর জমি নিয়ে তারা ঘন্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল।

এসময় তারা বন্দুক, লোহার রড ও দাড়ালো বাঁশ ব্যবহার করেছে। খরিললপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু মিয়া চৌধুরী বলেন,সরকারি খাস জমি নিয়ে পূর্ব খলিলপুর ও মনূমুখ ইউনিয়নের ওই গ্রামে দীর্ঘ সময় ধরে সংঘর্ষ চলে। হাসপাতালে নেবার সময় নোমান মিয়া নামের এক যুবক মারা গেছেন।

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম এ প্রতিবেদককে জানান, ওই এলাকায় মারামারির খবর পেয়ে আমি, সদর সার্কেল ও থার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছি। এখন গ্রাম শুন্য এলাকা। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঠিক কি কারণে ঘটনাটি ঘটেছে জানতে চাইলে ওই এএসপি বলেন, ওখানে খাস জলাশয় ও কিছু মালিকানাধীন জমি রয়েছে। এগুলো নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। তবে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।