ঢাকা ০১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ‘বাজেট বুঝি না, শুধু দুবেলা খাবার চাই’ Logo ‘চা শ্রমিকের কোনো পরিবর্তন নেই’প্রতিদিন ১৮৭ টাকা মজুরি নিয়ে দুর্দশার জীবন কাটাছে Logo মহান মে দিবস আজ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন Logo খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কায় হাজারো কৃষক Logo এক মুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারব না ২ হাজার ৭১০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে Logo শায়েস্তাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হলেন প্রভাষক কামরুল হাসান রিপন Logo হবিগঞ্জে ৩টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা Logo আজমিরীগঞ্জে শ্রমিক ও মেশিনের অভাবে মাঠেই নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় বোরো ধান Logo স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও অবহেলিত মাধবপুরের শামসুন্নাহার Logo হবিগঞ্জ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন, ভোগান্তি চরমে

‘বাজেট বুঝি না, শুধু দুবেলা খাবার চাই’

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় বাজেট নিয়ে যখন দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে, তখন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চা-বাগানগুলোর চিত্র ভিন্ন। উপজেলার ১৭টি চা-বাগানের অধিকাংশ শ্রমিকের কাছে বাজেট এখনো এক অপরিচিত বিষয়। রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের এই মহাহিসাব তাদের জীবনসংগ্রামে কতটা প্রভাব ফেলবে, সে সম্পর্কে তাদের ধারণা খুবই সীমিত।

উপজেলার ছন্ডি, চান্দপুর, আমু, নালুয়া, পারকুল ও লালচান্দ চা-বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দৈনন্দিন বেঁচে থাকার লড়াই-ই তাদের প্রধান চিন্তা।

আমু চা-বাগানের শ্রমিক নৃপেন তাতী বলেন, ‘বাজেটের কথা টেলিভিশনে শুনি, কিন্তু এর ভেতরে কী থাকে তা জানি না। আমাদের চিন্তা সপ্তাহ শেষে মজুরি পাব কি না আর সন্তানদের খাবার জুটবে কি না।’

একই বাগানের নারী শ্রমিক শ্যামলী মুন্ডা বলেন, ‘বাজারে সবকিছুর দাম বাড়ে, কিন্তু আমাদের আয় বাড়ে না। বাজেটে আমাদের জন্য কিছু আছে কি না, কেউ কখনো জানায় না।’

তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য (হবিগঞ্জ-৪) সৈয়দ মো. ফয়সলের ওপর অনেক শ্রমিকের আস্থা রয়েছে। চা-শ্রমিকদের কল্যাণে তার সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো বেশ প্রশংসিত হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিভিন্ন বাগানে বিশুদ্ধ পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন করেছেন। এ ছাড়া কয়েক সপ্তাহ মজুরি বন্ধ থাকার সময় তিনি শ্রমিকদের খাদ্য ও অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চা-শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সংকট দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে বকেয়া মজুরি ও রেশনের দাবিতে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও কর্মবিরতির ঘটনাও ঘটেছে। শ্রমিক নেতারা বলছেন, জাতীয় বাজেটে চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং শিশুদের শিক্ষার জন্য আলাদা বরাদ্দ প্রয়োজন। কিন্তু বাজেট প্রণয়নের সময় তাদের মতামতের প্রতিফলন ঘটে না। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বাজেট ঘোষণার পর শুধু শহরকেন্দ্রিক আলোচনা নয়, চা-শ্রমিকদের মতো পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে এর সুফল পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের চাহিদা অনুযায়ী নীতি নির্ধারণ করা জরুরি। শ্রমিকদের সহজ কথা-বাজেট বুঝি না, শুধু খেয়ে-পরে একটু ভালোভাবে বাঁচতে চাই।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:৫৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
০ বার পড়া হয়েছে

‘বাজেট বুঝি না, শুধু দুবেলা খাবার চাই’

আপডেট সময় ১১:৫৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

জাতীয় বাজেট নিয়ে যখন দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে, তখন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চা-বাগানগুলোর চিত্র ভিন্ন। উপজেলার ১৭টি চা-বাগানের অধিকাংশ শ্রমিকের কাছে বাজেট এখনো এক অপরিচিত বিষয়। রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের এই মহাহিসাব তাদের জীবনসংগ্রামে কতটা প্রভাব ফেলবে, সে সম্পর্কে তাদের ধারণা খুবই সীমিত।

উপজেলার ছন্ডি, চান্দপুর, আমু, নালুয়া, পারকুল ও লালচান্দ চা-বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দৈনন্দিন বেঁচে থাকার লড়াই-ই তাদের প্রধান চিন্তা।

আমু চা-বাগানের শ্রমিক নৃপেন তাতী বলেন, ‘বাজেটের কথা টেলিভিশনে শুনি, কিন্তু এর ভেতরে কী থাকে তা জানি না। আমাদের চিন্তা সপ্তাহ শেষে মজুরি পাব কি না আর সন্তানদের খাবার জুটবে কি না।’

একই বাগানের নারী শ্রমিক শ্যামলী মুন্ডা বলেন, ‘বাজারে সবকিছুর দাম বাড়ে, কিন্তু আমাদের আয় বাড়ে না। বাজেটে আমাদের জন্য কিছু আছে কি না, কেউ কখনো জানায় না।’

তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য (হবিগঞ্জ-৪) সৈয়দ মো. ফয়সলের ওপর অনেক শ্রমিকের আস্থা রয়েছে। চা-শ্রমিকদের কল্যাণে তার সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো বেশ প্রশংসিত হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিভিন্ন বাগানে বিশুদ্ধ পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন করেছেন। এ ছাড়া কয়েক সপ্তাহ মজুরি বন্ধ থাকার সময় তিনি শ্রমিকদের খাদ্য ও অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চা-শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সংকট দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে বকেয়া মজুরি ও রেশনের দাবিতে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও কর্মবিরতির ঘটনাও ঘটেছে। শ্রমিক নেতারা বলছেন, জাতীয় বাজেটে চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং শিশুদের শিক্ষার জন্য আলাদা বরাদ্দ প্রয়োজন। কিন্তু বাজেট প্রণয়নের সময় তাদের মতামতের প্রতিফলন ঘটে না। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বাজেট ঘোষণার পর শুধু শহরকেন্দ্রিক আলোচনা নয়, চা-শ্রমিকদের মতো পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে এর সুফল পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের চাহিদা অনুযায়ী নীতি নির্ধারণ করা জরুরি। শ্রমিকদের সহজ কথা-বাজেট বুঝি না, শুধু খেয়ে-পরে একটু ভালোভাবে বাঁচতে চাই।