ঢাকা ০১:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন Logo বৈশাখী মেলা ঘিরে মাটির জিনিসপত্র তৈরীতে ব্যস্ত শায়েস্তাগঞ্জের মৃৎশিল্পীরা Logo খোয়াই নদীতে অবাধে মাটি-বালু উত্তোলন ॥ ভাঙন আতঙ্ক Logo হবিগঞ্জে টানা বর্ষণে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি Logo বানিয়াচংয়ে ২২০০ বিঘা জমির ধান পানির নিচে Logo হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর ব্রীজ থেকে পানিতে পরে নারীর মৃত্যু Logo শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের প্রধান সড়কের বেহালদশা Logo হবিগঞ্জে দুই বোনের বিষপানে এক বোনের মৃত্যু Logo তেলিয়াপাড়া দিবসে হবিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সমাবেশ অনুষ্ঠিত‘মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ মুজিব বন্দি হয়ে পাকিস্তান চলে গিয়েছিলেন’ Logo শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে বাড়ছে মোবাইল চুরির ঘটনা

সিরাজগঞ্জে ৭৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, পানিবন্দি ৮৩ হাজার মানুষ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

চলতি বন্যায় সিরাজগঞ্জে যমুনাসহ অভ্যন্তরীর্ণ নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। গত ৬ ঘন্টায় যমুনা নদীতে ১ সেন্টিমিটার পানি কমে বিপৎসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার ৫টি উপজেলার ১৮ হাজার পরিবারের মোট ৮৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি জীবনযাপন করছেন।

বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা ছাড়াও গবাদি পশুপাখি রাখার স্থান ও গো-খাদ্য, স্যানিটেশনসহ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন।

সোমবার (৮ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুন-অর-রশিদ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) ও আইসিটি রোজিনা আক্তার বলেন, বন্যার প্রভাবে এ পর্যন্ত জেলার ৫ উপজেলার ৭৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা মিলে ১৬টি মাধ্যমিক বিদ্যায়য় রয়েছে। এসকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

চলতি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য, ভিটামিন ট্যাবলেট, পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট ও নিরাপদ পানি বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে প্রশাসন ও দুর্যোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব মোহনপুর, কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলী ও কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বন্যাকবলিতদের দুর্ভোগের চিত্র উঠে আসে। গত ১ সপ্তাহ ধরে চরাঞ্চলের অনেকেই পানিবন্দি হয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। বন্যার পানি উঠে তাঁত কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে রয়েছেন অনেক শ্রমিক।

এই প্রতিবেদককে কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বর্ণি গ্রামের কৃষক জলিল শেখ, আবুল হোসেন, ও সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব মোহনপুর গ্রামের শাহ আলম, তাইজুল ইসলামসহ অনেকে বলেন, যমুনায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এ অঞ্চলে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। পানি রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। অনেকেই বাড়ি ছেড়ে আশপাশের গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকেই বাড়ির মধ্যে হাঁটু পানিতেই বসবাস করছেন। এমনকি চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার হাট-বাজার পানিতে ডুবে গেছে। ফলে এখানকার মানুষের হাট-বাজার করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

মোহনপুর গ্রামের তাঁতশ্রমিক শহিদুল ইসলাম, কোরবার আলী বলেন, গত ১ সপ্তাহ ধরে তাঁত কারখানায় পানি ওঠেছে। এতে তাঁতের কাজ নেই। ঘরে বসে ঋণ করে সংসার চালাতে হচ্ছে। বর্তমানে কাজ কর্ম না থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে বিপদে রয়েছি।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জিত কুমার সরকার বলেন, শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি গত ৬ ঘন্টায় ১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার ও কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

রঞ্জিত কুমার সরকার বলেন, দুইদিন ধরে যমুনার পানি কমতে শুরু করেছে। আগামী তিন-চারদিন পানি কমবে। এরপর আবারও পানি বাড়তে পারে। এতে ভারী বন্যার সম্ভাবনা নেই। এছাড়াও ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে ভাঙন রোধে কাজ করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বাবুল কুমার সূত্রধর বলেন, চলতি বন্যায় জেলার ৬ হাজার ৪৯৭ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এসব জমির পাট, তিল, কলা ও মরিচ এখন পানির নিচে। এখনো ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা যায়নি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান জানান, জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়নের ১৮ হাজার ৩৮৫টি পরিবারের ৮৩ হাজার ১৫২ জন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তাদের জন্য ৯৫ মেট্রিক টন চাল, পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মজুদ রয়েছে আরও ৪০৫ মেট্রিক টন চাল, পাঁচ লাখ টাকা ও ৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:৩৪:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪
১৮৭ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জে ৭৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, পানিবন্দি ৮৩ হাজার মানুষ

আপডেট সময় ০৮:৩৪:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪

চলতি বন্যায় সিরাজগঞ্জে যমুনাসহ অভ্যন্তরীর্ণ নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। গত ৬ ঘন্টায় যমুনা নদীতে ১ সেন্টিমিটার পানি কমে বিপৎসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার ৫টি উপজেলার ১৮ হাজার পরিবারের মোট ৮৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি জীবনযাপন করছেন।

বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা ছাড়াও গবাদি পশুপাখি রাখার স্থান ও গো-খাদ্য, স্যানিটেশনসহ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন।

সোমবার (৮ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুন-অর-রশিদ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) ও আইসিটি রোজিনা আক্তার বলেন, বন্যার প্রভাবে এ পর্যন্ত জেলার ৫ উপজেলার ৭৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা মিলে ১৬টি মাধ্যমিক বিদ্যায়য় রয়েছে। এসকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

চলতি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য, ভিটামিন ট্যাবলেট, পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট ও নিরাপদ পানি বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে প্রশাসন ও দুর্যোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব মোহনপুর, কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলী ও কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বন্যাকবলিতদের দুর্ভোগের চিত্র উঠে আসে। গত ১ সপ্তাহ ধরে চরাঞ্চলের অনেকেই পানিবন্দি হয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। বন্যার পানি উঠে তাঁত কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে রয়েছেন অনেক শ্রমিক।

এই প্রতিবেদককে কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বর্ণি গ্রামের কৃষক জলিল শেখ, আবুল হোসেন, ও সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব মোহনপুর গ্রামের শাহ আলম, তাইজুল ইসলামসহ অনেকে বলেন, যমুনায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এ অঞ্চলে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। পানি রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। অনেকেই বাড়ি ছেড়ে আশপাশের গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকেই বাড়ির মধ্যে হাঁটু পানিতেই বসবাস করছেন। এমনকি চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার হাট-বাজার পানিতে ডুবে গেছে। ফলে এখানকার মানুষের হাট-বাজার করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

মোহনপুর গ্রামের তাঁতশ্রমিক শহিদুল ইসলাম, কোরবার আলী বলেন, গত ১ সপ্তাহ ধরে তাঁত কারখানায় পানি ওঠেছে। এতে তাঁতের কাজ নেই। ঘরে বসে ঋণ করে সংসার চালাতে হচ্ছে। বর্তমানে কাজ কর্ম না থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে বিপদে রয়েছি।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জিত কুমার সরকার বলেন, শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি গত ৬ ঘন্টায় ১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার ও কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

রঞ্জিত কুমার সরকার বলেন, দুইদিন ধরে যমুনার পানি কমতে শুরু করেছে। আগামী তিন-চারদিন পানি কমবে। এরপর আবারও পানি বাড়তে পারে। এতে ভারী বন্যার সম্ভাবনা নেই। এছাড়াও ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে ভাঙন রোধে কাজ করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বাবুল কুমার সূত্রধর বলেন, চলতি বন্যায় জেলার ৬ হাজার ৪৯৭ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এসব জমির পাট, তিল, কলা ও মরিচ এখন পানির নিচে। এখনো ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা যায়নি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান জানান, জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়নের ১৮ হাজার ৩৮৫টি পরিবারের ৮৩ হাজার ১৫২ জন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তাদের জন্য ৯৫ মেট্রিক টন চাল, পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মজুদ রয়েছে আরও ৪০৫ মেট্রিক টন চাল, পাঁচ লাখ টাকা ও ৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার।