ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ মানুষের কষ্ট দূর করতে আমরা দ্রুতই প্রকল্প গ্রহণ করবহবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ মানুষের কষ্ট দূর করতে আমরা দ্রুতই প্রকল্প গ্রহণ করব Logo চুনারুঘাট রেমা-কালেঙ্গা বন বিভাগের অভিযানে ১৭ হাজার মুলি বাঁশ জব্দ Logo হবিগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্তে কমিটি Logo হবিগঞ্জের প্রবীণ সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক আর নেই Logo হবিগঞ্জ-৩ আসনে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা পৌরসভায় ১৮০ কোটি, সদর-শায়েস্তাগঞ্জ-লাখাইয়ে ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প Logo হবিগঞ্জের পাহাড়ে সজনের ফলনে চাষিরা লাভবান Logo অবৈধ ইটভাটার নির্গত ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে হবিগঞ্জে বায়ু Logo শায়েস্তাগঞ্জ রেল জংশন, নেই সক্রিয় শাখা লাইন কাজে আসছে না Logo দেড় মাসেও মেরামত হয়নি খোয়াই নদীর বাঁধ, ফের ভাঙন—ঢলের পানি ঢুকছে লোকালয়ে Logo শায়েস্তাগঞ্জে পুকুর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য

অবৈধ ইটভাটার নির্গত ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে হবিগঞ্জে বায়ু

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:-

হবিগঞ্জে অবৈধ ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে বায়ু। নষ্ট হচ্ছে কৃষিজমি। হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য। আইনের তোয়াক্কা না করে, নবায়নকৃত লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই ভাটাগুলো চালু রেখেছেন মালিকরা। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে চলছে ইটকাটা ও পোড়ানোর কাজ। পরিবেশবাদীরা বলছেন, ভাটা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নিজস্ব আইন থাকলেও তার কোনো প্রয়োগ দেখা যায় না।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জে বর্তমানে ৯০টি ইটভাটা সক্রিয়। এর মধ্যে একটিরও নবায়নকৃত লাইসেন্স বা পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। তারপরও এই ইটভাটাগুলো দিন-রাত ধোঁয়া ছড়িয়ে চলছে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে। পরিবেশ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য সবকিছুর ওপরই এর প্রভাব মারাত্মক।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, “কোনো ইটভাটাই সরকারি নিয়ম-নীতি অনুসরণ করছে না। ফলে এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী; ইটভাটা স্থাপনের জন্য কেবল অকৃষি জমি ব্যবহার করা যাবে।”

ইট পোড়ানোর নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৮৯ (ধারা ৯-এর উপধারা ৫) অনুযায়ী, কোনো ইটভাটা উপজেলা সদর, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, আবাসিক এলাকা বা ফলজ বাগান থেকে অন্তত তিন কিলোমিটার দূরে থাকতে হবে। হবিগঞ্জের বাস্তবতা উল্টো। বাহুবল ও চুনারুঘাট উপজেলার অধিকাংশ ইটভাটা উপজেলা সদর বা জনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্যেই স্থাপিত। বাহুবলের মিরপুর-ধুলিয়াখাল, মিরপুর-বাহুবল, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মিরপুর-শায়েস্তাগঞ্জ অংশ এবং শায়েস্তাগঞ্জ-চুনারুঘাট সড়কের পাশে সারি সারি ইটভাটা দৃশ্যমান। স্কুল, মসজিদ ও বাজারের পাশেও জ্বলছে চুলি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জেলায় কোনো ইটভাটারই নবায়ন বৈধ নেই। বাহুবল উপজেলার মেসার্স পলাশ ব্রিকসের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৩ সালের ২৩ জুন, মেসার্স সামিন ব্রিকসের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২২ সালে, মেসার্স পদ্মা ব্রিকসের মেয়াদ শেষ ২০২৩ সালের জুনে। চুনারুঘাটের মেসার্স সামস ব্রিকস ২০২২ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ।

নবীগঞ্জের মেসার্স মাস্টার ব্রিকস ও গোল্ড ব্রিকসের মেয়াদ শেষ ২০২১ সালে। ব্ল অটো ব্রিকসের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৯ সালে। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার মেসার্স সোনালী ব্রিকসের মেয়াদও শেষ ২০২০ সালে। এসব ইটভাটায় চুলি জ্বলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইটভাটার মালিক জানান, জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই চলছে ভাটার কার্যক্রম। হবিগঞ্জ ইটভাটা মালিক সমিতির কিছু প্রভাবশালী সদস্য প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সরকারি দিবস ও অনুষ্ঠানে অনুদান দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশ লাইসেন্স, ডিসি লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও ইট ভাটা বন্ধ হয় না।

জেলার বসিনা এলাকার বাসিন্দা রুস্তম আলী জানান, বাহুবল ও চুনারুঘাটের বসিনা, বানিয়াগাঁও, দৌলতপুর, মুগকান্দি, শ্রী রামপুর, শ্রীকুটা, গোগাউড়া প্রভৃতি এলাকার ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে ইট তৈরির জন্য। ফলে ফসল উৎপাদন কমে গেছে, জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে।

বানিয়াগাঁও গ্রামের সবুজ মিয়া জানান, আম-কাঁঠালসহ মৌসুমি ফলের গাছে আর আগের মতো ফল আসে না। ধুলার আস্তরণে গাছের পাতা বিবর্ণ হয়ে গেছে।

শ্রীরামপুর গ্রামের ভিংরাজ মিয়া জানান, ইটভাটার ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে বায়ু। কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে। তিনি দ্রুত এ বিষয়ে নজর দিয়ে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফরিদুর রহমান বলেন, “যেসব ইটভাটা পরিবেশ নীতি লঙ্ঘন করছে, তাদের বিরুদ্ধে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পরিবেশ অধিদপ্তর হবিগঞ্জের উপ-পরিচালক ড. মো. ইউসুফ আলী জানান, অবৈধ ইটভাটার তালিকা তৈরি করে বিভাগীয় অফিসে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ পেলে অভিযান চালানো হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৪:৪২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
৬ বার পড়া হয়েছে

অবৈধ ইটভাটার নির্গত ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে হবিগঞ্জে বায়ু

আপডেট সময় ০৪:৪২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

হবিগঞ্জে অবৈধ ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে বায়ু। নষ্ট হচ্ছে কৃষিজমি। হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য। আইনের তোয়াক্কা না করে, নবায়নকৃত লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই ভাটাগুলো চালু রেখেছেন মালিকরা। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে চলছে ইটকাটা ও পোড়ানোর কাজ। পরিবেশবাদীরা বলছেন, ভাটা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নিজস্ব আইন থাকলেও তার কোনো প্রয়োগ দেখা যায় না।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জে বর্তমানে ৯০টি ইটভাটা সক্রিয়। এর মধ্যে একটিরও নবায়নকৃত লাইসেন্স বা পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। তারপরও এই ইটভাটাগুলো দিন-রাত ধোঁয়া ছড়িয়ে চলছে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে। পরিবেশ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য সবকিছুর ওপরই এর প্রভাব মারাত্মক।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, “কোনো ইটভাটাই সরকারি নিয়ম-নীতি অনুসরণ করছে না। ফলে এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী; ইটভাটা স্থাপনের জন্য কেবল অকৃষি জমি ব্যবহার করা যাবে।”

ইট পোড়ানোর নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৮৯ (ধারা ৯-এর উপধারা ৫) অনুযায়ী, কোনো ইটভাটা উপজেলা সদর, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, আবাসিক এলাকা বা ফলজ বাগান থেকে অন্তত তিন কিলোমিটার দূরে থাকতে হবে। হবিগঞ্জের বাস্তবতা উল্টো। বাহুবল ও চুনারুঘাট উপজেলার অধিকাংশ ইটভাটা উপজেলা সদর বা জনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্যেই স্থাপিত। বাহুবলের মিরপুর-ধুলিয়াখাল, মিরপুর-বাহুবল, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মিরপুর-শায়েস্তাগঞ্জ অংশ এবং শায়েস্তাগঞ্জ-চুনারুঘাট সড়কের পাশে সারি সারি ইটভাটা দৃশ্যমান। স্কুল, মসজিদ ও বাজারের পাশেও জ্বলছে চুলি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জেলায় কোনো ইটভাটারই নবায়ন বৈধ নেই। বাহুবল উপজেলার মেসার্স পলাশ ব্রিকসের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৩ সালের ২৩ জুন, মেসার্স সামিন ব্রিকসের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২২ সালে, মেসার্স পদ্মা ব্রিকসের মেয়াদ শেষ ২০২৩ সালের জুনে। চুনারুঘাটের মেসার্স সামস ব্রিকস ২০২২ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ।

নবীগঞ্জের মেসার্স মাস্টার ব্রিকস ও গোল্ড ব্রিকসের মেয়াদ শেষ ২০২১ সালে। ব্ল অটো ব্রিকসের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৯ সালে। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার মেসার্স সোনালী ব্রিকসের মেয়াদও শেষ ২০২০ সালে। এসব ইটভাটায় চুলি জ্বলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইটভাটার মালিক জানান, জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই চলছে ভাটার কার্যক্রম। হবিগঞ্জ ইটভাটা মালিক সমিতির কিছু প্রভাবশালী সদস্য প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সরকারি দিবস ও অনুষ্ঠানে অনুদান দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশ লাইসেন্স, ডিসি লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও ইট ভাটা বন্ধ হয় না।

জেলার বসিনা এলাকার বাসিন্দা রুস্তম আলী জানান, বাহুবল ও চুনারুঘাটের বসিনা, বানিয়াগাঁও, দৌলতপুর, মুগকান্দি, শ্রী রামপুর, শ্রীকুটা, গোগাউড়া প্রভৃতি এলাকার ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে ইট তৈরির জন্য। ফলে ফসল উৎপাদন কমে গেছে, জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে।

বানিয়াগাঁও গ্রামের সবুজ মিয়া জানান, আম-কাঁঠালসহ মৌসুমি ফলের গাছে আর আগের মতো ফল আসে না। ধুলার আস্তরণে গাছের পাতা বিবর্ণ হয়ে গেছে।

শ্রীরামপুর গ্রামের ভিংরাজ মিয়া জানান, ইটভাটার ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে বায়ু। কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে। তিনি দ্রুত এ বিষয়ে নজর দিয়ে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফরিদুর রহমান বলেন, “যেসব ইটভাটা পরিবেশ নীতি লঙ্ঘন করছে, তাদের বিরুদ্ধে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পরিবেশ অধিদপ্তর হবিগঞ্জের উপ-পরিচালক ড. মো. ইউসুফ আলী জানান, অবৈধ ইটভাটার তালিকা তৈরি করে বিভাগীয় অফিসে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ পেলে অভিযান চালানো হবে।