ঢাকা ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জুলাই অভ্যুত্থানের মহানায়ক কোনো ব্যক্তি বা দল নয়, গণতন্ত্রকামী জনগণ : প্রধানমন্ত্রী Logo শায়েস্তাগঞ্জে আগস্টের বিজয় Logo হবিগঞ্জে এনসিপির মামলা: ছাত্রদল নেতা রিংগনসহ ১১ জনের জামিন Logo হবিগঞ্জে এক বছরে পানিতে ডুবে ২৭ শিশুর মৃত্যু Logo লাখাইয়ে হোমিওপ্যাথিক তরল পানে দম্পতিসহ ৫ জনের মৃত্যু Logo হবিগঞ্জে পাটোয়ারী-সারজিসসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা Logo শায়েস্তাগঞ্জে পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু, শোকের ছায়া গ্রামজুড়ে Logo হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় ১১ জনের নামে এনসিপির মামলা Logo পথে পথে বাধা, শ্রীমঙ্গলে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙলেন এনসিপি নেতারা Logo এনসিপি-ছাত্রদল পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি

বানিয়াচংয়ের খাল নালা, নদী, হুমকির মৃখে বোরো ফসল ও জীববৈচিত্র্য

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:-

বানিয়াচংয়ের হাওরাঞ্চলের নদ-নদী, খাল-বিল ও নালাগুলো কিছু ভূমিখেকোর প্রভাবে দখল-ভরাট হয়ে অস্তিত্ব সংকটে। যে কারনে এসব খাল, ডোবা, নালাগুলি নাব্যতা হারিয়ে অধিকাংশ নদী,খাল নালা এখন ধূ ধূ বালুচর।শুধু পানির অভাবে চলতি বোরো মৌসুমে সেচ কাজ ব্যাহত হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক। দ্রুত খাল নালাও নদী খনন করে পানির উৎস সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষি ও পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সময় ভূমিখেকো প্রভাবশালীদের খাল, নালাগুলি দখল করে বড় বড় বাড়ীঘর নিমান ও পলি জমে নদ-নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুম শুরু হতেই পানি শুকিয়ে নদীগুলো খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে। সেচ সংকটে বিপাকে পড়া কৃষকদের এখন একমাত্র ভরসা আকাশের পানি। ‎স্থানীয় কৃষক মো.আমীর আলী জানান,পানির অভাবে চাষাবাদ এখন হুমকির মুখে। সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়বে এবং ধানের শীষ নষ্ট হয়ে যাবে। এরকম আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন শূন্যের কোঠায় নেমে আসার ভয় আছে আমাদের।

‎নদী ও খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় শুধু কৃষি নয়, সংকটে পড়েছে দেশীয় মাছের বংশবিস্তারও। প্রজনন ক্ষেত্রগুলো বিনষ্ট হওয়ায় দেশীয় মাছের উৎপাদন প্রায় শূন্যের কোঠায়। এছাড়া শুষ্কতার কারণে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে এবং আবহাওয়া দিন দিন বৈরী আচরণ করছে। কৃষকরা পানির অভাবে অধিক মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষ নিরাপদ খাদ্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। ‎কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে নানা উন্নয়নমূলক কাজের দাবি করা হলেও মাঠ পর্যায়ে তার প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। খাল, বিল ও নদী-নালা খননের মাধ্যমে পানির উৎস ধরে রাখার দাবি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকারের ৩১ দফা এজেন্ডার মধ্যে অন্যতম হলো নদী ও খাল খনন কর্মসূচি। কৃষকদের দাবী সরকার দ্রুত নদী নালা খাল বিল চিহ্নিত করে খনন কাজ শুরু করবেন। এব্যাপারে বানিয়াচংয়ের কৃষকরা বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ‎পরিবেশবাদী সংগঠন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন,জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়া এমনিতেই প্রতিকূল। দ্রুত নদ-নদী ও খাল-বিল পরিকল্পিতভাবে খনন করে পানির উৎস ধরে রাখতে হবে। অন্যথায় পুরো কৃষিখাত ধসে পড়বে এবং পরিবেশের ওপর ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।

‎হাওর ও কৃষক বাঁচাতে অনতিবিলম্বে নদীগুলোর সীমানা চিহ্নিত করে খনন কাজ শুরু করার কোনো বিকল্প নেই। কৃষকদের দাবি, সরকার যেন দ্রুত এই সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেয় এবং প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থা ও জীববৈচিত্র্য নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবী।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০২:২০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
৭৪ বার পড়া হয়েছে

বানিয়াচংয়ের খাল নালা, নদী, হুমকির মৃখে বোরো ফসল ও জীববৈচিত্র্য

আপডেট সময় ০২:২০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

বানিয়াচংয়ের হাওরাঞ্চলের নদ-নদী, খাল-বিল ও নালাগুলো কিছু ভূমিখেকোর প্রভাবে দখল-ভরাট হয়ে অস্তিত্ব সংকটে। যে কারনে এসব খাল, ডোবা, নালাগুলি নাব্যতা হারিয়ে অধিকাংশ নদী,খাল নালা এখন ধূ ধূ বালুচর।শুধু পানির অভাবে চলতি বোরো মৌসুমে সেচ কাজ ব্যাহত হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক। দ্রুত খাল নালাও নদী খনন করে পানির উৎস সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষি ও পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সময় ভূমিখেকো প্রভাবশালীদের খাল, নালাগুলি দখল করে বড় বড় বাড়ীঘর নিমান ও পলি জমে নদ-নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুম শুরু হতেই পানি শুকিয়ে নদীগুলো খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে। সেচ সংকটে বিপাকে পড়া কৃষকদের এখন একমাত্র ভরসা আকাশের পানি। ‎স্থানীয় কৃষক মো.আমীর আলী জানান,পানির অভাবে চাষাবাদ এখন হুমকির মুখে। সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়বে এবং ধানের শীষ নষ্ট হয়ে যাবে। এরকম আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন শূন্যের কোঠায় নেমে আসার ভয় আছে আমাদের।

‎নদী ও খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় শুধু কৃষি নয়, সংকটে পড়েছে দেশীয় মাছের বংশবিস্তারও। প্রজনন ক্ষেত্রগুলো বিনষ্ট হওয়ায় দেশীয় মাছের উৎপাদন প্রায় শূন্যের কোঠায়। এছাড়া শুষ্কতার কারণে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে এবং আবহাওয়া দিন দিন বৈরী আচরণ করছে। কৃষকরা পানির অভাবে অধিক মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষ নিরাপদ খাদ্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। ‎কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে নানা উন্নয়নমূলক কাজের দাবি করা হলেও মাঠ পর্যায়ে তার প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। খাল, বিল ও নদী-নালা খননের মাধ্যমে পানির উৎস ধরে রাখার দাবি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকারের ৩১ দফা এজেন্ডার মধ্যে অন্যতম হলো নদী ও খাল খনন কর্মসূচি। কৃষকদের দাবী সরকার দ্রুত নদী নালা খাল বিল চিহ্নিত করে খনন কাজ শুরু করবেন। এব্যাপারে বানিয়াচংয়ের কৃষকরা বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ‎পরিবেশবাদী সংগঠন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন,জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়া এমনিতেই প্রতিকূল। দ্রুত নদ-নদী ও খাল-বিল পরিকল্পিতভাবে খনন করে পানির উৎস ধরে রাখতে হবে। অন্যথায় পুরো কৃষিখাত ধসে পড়বে এবং পরিবেশের ওপর ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।

‎হাওর ও কৃষক বাঁচাতে অনতিবিলম্বে নদীগুলোর সীমানা চিহ্নিত করে খনন কাজ শুরু করার কোনো বিকল্প নেই। কৃষকদের দাবি, সরকার যেন দ্রুত এই সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেয় এবং প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থা ও জীববৈচিত্র্য নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবী।