শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) শহীদ জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালের ২৮ জুলাই রাজনৈতিক দল বিধি (পিপিআর) জারি করে। এর ফলে প্রথমে ২১টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধন লাভ করে। পরে আরও নতুন-পুরোনো দল ছাড়পত্র পায়।তিনি ১৯৭৭ সালে বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে আহ্বায়ক করে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) গঠন করেন।
এরপর সময়ের দাবি মেটানোর জন্যই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জন্ম হয়। তখন দেশে রাজনীতি শূন্যতা ছিল। জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি জাতীয়তাবাদীদের একটি আলাদা প্ল্যাটফর্মে একত্রিত করার জন্য গড়ে তোলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। শহীদ জিয়া আধুনিক কর্মমুখর বাংলাদেশের রূপকার।
তাঁর দূরদর্শী চিন্তা-চেতনার ফসল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। এ দল প্রতিষ্ঠা করে দেশ ও জাতিকে উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি উপহার দেন শহীদ জিয়া ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রথমেই একদলীয় শাসনের পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করেন।
বহুদলীয় গণতন্ত্রের পর মানুষের বাক-স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। শহীদ জিয়া চূড়ান্তভাবে দেশের শাসন ব্যবস্থায় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ সালে সাধারণ নির্বাচনে ৩১টি দল অংশগ্রহণ করে।
ওই নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৭টি আসনে জয়ী হয়। জিয়াউর রহমান ১৯ দফা কর্মসূচি নিয়ে ছুটে যান দেশের সাধারণ মানুষের কাছে। শুরু করেন উৎপাদন ও উন্নয়নের রাজনীতি। শুকনো মৌসুমে ফসল ফলাতে সেচ সুবিধার জন্য খাল খনন ছিল তাঁর অন্যতম কর্মসূচি। কোদাল হাতে তিনি খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। রাষ্ট্র পরিচালনার সময় দেশব্যাপী উৎপাদনের জোয়ার সৃষ্টি করেন।
গণতান্ত্রিক ধাপগুলোকে পূর্ণ করতে তৃণমূলের সাথে সমন্বয় করে রাজনীতি চাঙ্গা করেন।১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনীর নিষ্ঠুর আক্রমণে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ যখন দিশাহারা তখন জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। স্বাধীনতা ঘোষণার পর তিনি মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় অন্যতম ভূমিকা রাখেন। জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে জীবনের মায়া ত্যাগ করে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দিশাহারা জাতিকে যেমন সঠিক পথ দেখান ।
জিয়াউর রহমান শাসনভার গ্রহণের পর দেশে শান্তি-স্বস্তি ফিরে আসে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মনে করতেন গণতন্ত্র সর্বোৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা, যা দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর। তাঁর প্রণীত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতান্ত্রিক এবং ধর্মীয় মূল্যবোধগত আদর্শের কারণেই বিএনপি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে বলে মনে করা যায়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাঁর কর্মগুণেই দেশের আপামর জনগণের প্রাণপ্রিয় নেতা ওঠেন।
তিনি দক্ষ, যোগ্য ও সুনিপুণ নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের মানুষের মন জয় করেন। আন্তর্জাতিক বিশ্বেও জিয়া তাঁর মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে নানাভাবে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখেন এবং বিশ্ব পরিম-লে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন। বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিশ্বাস, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তার প্রতিচ্ছবি আজকের তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুনভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
তাদের প্রত্যাশা, এই নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জাতীয় অগ্রগতির পথে আরও এগিয়ে যাবে। ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর সবাই নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। আমার বিশ্বাস, জিয়ার প্রদর্শিত পথ ধরে এগুলেই সে বাংলাদেশ গড়া সহজ হবে।
মঈনুল হাসান রতন
সাংবাদিক ও লেখক
সভাপতি- শায়েস্তাগঞ্জ প্রেসক্লাব।















