ঢাকা ০৪:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo নাব্য সংকটে সুতাং নদী এখন মরা খাল শিল্পবর্জ্যের দূষণে বিষাক্ত পানি Logo সৌদি আরবে প্রাইভেট কারের চাপায় শায়েস্তাগঞ্জের যুবক নিহত, পরিবারে মাতম Logo ‘অভাব তো বয়স বোঝে না, পেট তো খাবার চায়’ Logo আজমিরীগঞ্জে ২১ ঘণ্টা পর নদীতে ভাসল নিখোঁজ গৃহবধূর মরদেহ Logo শায়েস্তাগঞ্জে জয়ন্তিকা ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন, যাত্রীদের দুর্ভোগ Logo ‘পেনশন নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন না’— পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে হবিগঞ্জের মাধবপুরে ছাত্রলীগ নেতার হুঁশিয়ারি Logo হবিগঞ্জে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি Logo হবিগঞ্জ কারাগারে আসামির মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ পরিবারের Logo হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে শায়েস্তাগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বৃক্ষরোপণ প্রধানমন্ত্রীর ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ভিশন বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর: আহমেদ আলী মুকিব Logo বাহুবলে পানিতে ডুবে হবিগঞ্জের জনপ্রিয় ক্ষুদে কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীপের মৃত্যু

ধর্মপাশা ও মধ্যনগর বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত হাওরপাড়ের কৃষক

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি,

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার হাওরের পানি নামতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে ভেসে উঠছে বোরো ফসলের জমি। হাওরজুড়ে বোরো ধান রোপন করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে হাওরপাড়ের কৃষকেরা। এখন হাওরে পুরোদমে চলছে বীজতলা তৈরির কাজ। যেন কৃষকদের দম ফেলার সময় নেই। যত আগে বীজতলা তৈরি করে পরিচর্যায় মনোনিবেশ করতে পারবেন তত আগেই ধানের চারা রোপনের সুযোগ হবে। হাওর থেকে দেরিতে পানি নামলে বীজতলা তৈরিতে যেমন দেরি হয় তেমনি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে ফসল কর্তনের সময়। এবার যেন যথা সময়েই তৈরি হচ্ছে বীজতলা। সবকিছু ঠিক থাকলে সোনার ফসলে ভরে ওঠবে কৃষকের গোলা।

অগভীর নদী, হাওর থেকে পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুযোর্গের তীব্রতা বৃদ্ধি দিনদিন হাওরাঞ্চলে বোরো ফসল উৎপাদনে নানান বাধা সৃষ্টি করছে। গত কয়েক বছর ধরে ফসল কর্তনের সময় হাওরে আগাম পানি চলে আসা এবং চাষাবাদের সময় হাওর থেকে পানি নিষ্কাশন না হওয়া বোরো চাষাবাদে নতুন সংকট তৈরি করেছে।

এ বছর ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার আটটি হাওরে ৩২ হাজার ৯০৭ হেক্টর জমিতে বোরো ফসল চাষাবাদের জন্য ১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ৭ নভেম্বর থেকে দুই উপজেলায় বীজতলা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত ৩৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে মধ্যে দুই উপজেলাতেই শতভাগ বীজতলা তৈরি কাজ শেষ হতে পারে।

ধর্মপাশা উপজেলার চন্দ্রসোনার তাল হাওরের কৃষক আব্দুল হাই বলেন, ৩ দিন আগেই বীজতলা তৈরি কাজ শেষ করেছি। অন্য বছর হাওর থেকে দেরিতে পানি নামায় বীজতলা তৈরিতে বিলম্ব হয়। যা বোরো ফসলে বিরূপ প্রভাব ফেলে।

মধ্যনগর উপজেলার কাইল্যানি হাওরের কৃষক শামীম মিয়া বলেন, আবহা ভালো থাকায় হাওরে এখন পুরোদমে বীজতলা তৈরির কাজ চলছে। চারা উপযুক্ত হওয়ার আগে যদি হাওর থেকে পানি না নামে তাহলে রোপন কাজ পিছিয়ে যায়। এবার তা হবে বলে মনে হয়না।

ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তুষার বলেন, এবার হাওর থেকে দ্রুত পানি নামছে। প্রথমে উফসী, পরে হাইব্রিডের পাশাপাশি কৃষকরা স্থানীয় ধানের জাতের বীজতলা তৈরি করছেন। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ শতভাগ বীজতলা তৈরির কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যায়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:০২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৪
২২০ বার পড়া হয়েছে

ধর্মপাশা ও মধ্যনগর বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত হাওরপাড়ের কৃষক

আপডেট সময় ১২:০২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৪

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার হাওরের পানি নামতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে ভেসে উঠছে বোরো ফসলের জমি। হাওরজুড়ে বোরো ধান রোপন করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে হাওরপাড়ের কৃষকেরা। এখন হাওরে পুরোদমে চলছে বীজতলা তৈরির কাজ। যেন কৃষকদের দম ফেলার সময় নেই। যত আগে বীজতলা তৈরি করে পরিচর্যায় মনোনিবেশ করতে পারবেন তত আগেই ধানের চারা রোপনের সুযোগ হবে। হাওর থেকে দেরিতে পানি নামলে বীজতলা তৈরিতে যেমন দেরি হয় তেমনি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে ফসল কর্তনের সময়। এবার যেন যথা সময়েই তৈরি হচ্ছে বীজতলা। সবকিছু ঠিক থাকলে সোনার ফসলে ভরে ওঠবে কৃষকের গোলা।

অগভীর নদী, হাওর থেকে পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুযোর্গের তীব্রতা বৃদ্ধি দিনদিন হাওরাঞ্চলে বোরো ফসল উৎপাদনে নানান বাধা সৃষ্টি করছে। গত কয়েক বছর ধরে ফসল কর্তনের সময় হাওরে আগাম পানি চলে আসা এবং চাষাবাদের সময় হাওর থেকে পানি নিষ্কাশন না হওয়া বোরো চাষাবাদে নতুন সংকট তৈরি করেছে।

এ বছর ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার আটটি হাওরে ৩২ হাজার ৯০৭ হেক্টর জমিতে বোরো ফসল চাষাবাদের জন্য ১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ৭ নভেম্বর থেকে দুই উপজেলায় বীজতলা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত ৩৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে মধ্যে দুই উপজেলাতেই শতভাগ বীজতলা তৈরি কাজ শেষ হতে পারে।

ধর্মপাশা উপজেলার চন্দ্রসোনার তাল হাওরের কৃষক আব্দুল হাই বলেন, ৩ দিন আগেই বীজতলা তৈরি কাজ শেষ করেছি। অন্য বছর হাওর থেকে দেরিতে পানি নামায় বীজতলা তৈরিতে বিলম্ব হয়। যা বোরো ফসলে বিরূপ প্রভাব ফেলে।

মধ্যনগর উপজেলার কাইল্যানি হাওরের কৃষক শামীম মিয়া বলেন, আবহা ভালো থাকায় হাওরে এখন পুরোদমে বীজতলা তৈরির কাজ চলছে। চারা উপযুক্ত হওয়ার আগে যদি হাওর থেকে পানি না নামে তাহলে রোপন কাজ পিছিয়ে যায়। এবার তা হবে বলে মনে হয়না।

ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তুষার বলেন, এবার হাওর থেকে দ্রুত পানি নামছে। প্রথমে উফসী, পরে হাইব্রিডের পাশাপাশি কৃষকরা স্থানীয় ধানের জাতের বীজতলা তৈরি করছেন। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ শতভাগ বীজতলা তৈরির কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যায়।