ঢাকা ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হবিগঞ্জে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি Logo হবিগঞ্জ কারাগারে আসামির মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ পরিবারের Logo হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে শায়েস্তাগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বৃক্ষরোপণ প্রধানমন্ত্রীর ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ভিশন বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর: আহমেদ আলী মুকিব Logo বাহুবলে পানিতে ডুবে হবিগঞ্জের জনপ্রিয় ক্ষুদে কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীপের মৃত্যু Logo শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুরে মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ইউএনওর অভিযান Logo আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে শায়েস্তাগঞ্জে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo হবিগঞ্জে মায়ের অভিযোগে ছেলের ৬ মাসের কারাদণ্ড Logo যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সে চুনারুঘাটে আল আমিন Logo গণভোটকে অস্বীকার করে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বিএনপি: মামুনুল হক Logo শায়েস্তাগঞ্জে দেশ নাট্যগোষ্ঠীর ৩৩ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন

নবীগঞ্জে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি ও প্রশাসনের নীরবতা

স্বপন রবি দাশ,নবীগঞ্জ প্রতিনিধি।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় হাতি ব্যবহার করে অভিনব কৌশলে চাঁদা তোলার ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে এই চাঁদাবাজি চলতে থাকায় সাধারণ ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিরক্তি বাড়ছে। দোকানপাট, যানবাহন এমনকি পথচারীদের থেকেও হাতি দিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে। তবে, প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।

গত ২ জানুয়ারি দুপুরে নবীগঞ্জ থানা পয়েন্টসহ বাজারের বিভিন্ন জায়গায় হাতি দিয়ে চাঁদা তোলার দৃশ্য দেখা যায়। রাস্তার পাশে দোকান থেকে শুরু করে টমটম, সিএনজি অটোরিকশা, এমনকি মোটরসাইকেলের চালকদেরও হাতি দিয়ে বাধা দিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে।

কাঁচামাল ব্যবসায়ী পাবলু বলেন, “কয়েক দিন পরপর হাতি দিয়ে চাঁদা নিতে আসে। টাকা না দিলে দোকানের সামনে থেকে হাতি সরানো হয় না। বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হয়।”

একই কথা জানান ব্যবসায়ী রতন লাল রায়। তিনি বলেন, “হাতি দিয়ে টাকা তোলার কারণে আমাদের ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

পথচারীরাও এ চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পথচারী বলেন, “রাস্তার মাঝখানে হাতি দাঁড় করিয়ে চাঁদা আদায় করা হয়। টাকা না দিলে হাতি গাড়ির সামনে থেকে সরানো হয় না। এটা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।”

হাতি দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে চাঁদা তোলার কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক পথচারী এবং যানবাহনের চালক হাতির উপস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন পিপিএম বলেন, “হাতি দিয়ে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এত সব ঘটনা সত্ত্বেও প্রশাসনের উদাসীনতা নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের দাবি, হাতি দিয়ে চাঁদা তোলার এমন নৈরাজ্য বন্ধে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা নেওয়া উচিত।

স্থানীয়রা আশা করছেন, হাতি দিয়ে চাঁদা তোলার এ অনৈতিক কার্যক্রম দ্রুত বন্ধে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। অন্যথায় এ ধরনের নৈরাজ্য ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যার জন্ম দিতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:৪৯:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৫
১৮১ বার পড়া হয়েছে

নবীগঞ্জে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি ও প্রশাসনের নীরবতা

আপডেট সময় ০৫:৪৯:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৫

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় হাতি ব্যবহার করে অভিনব কৌশলে চাঁদা তোলার ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে এই চাঁদাবাজি চলতে থাকায় সাধারণ ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিরক্তি বাড়ছে। দোকানপাট, যানবাহন এমনকি পথচারীদের থেকেও হাতি দিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে। তবে, প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।

গত ২ জানুয়ারি দুপুরে নবীগঞ্জ থানা পয়েন্টসহ বাজারের বিভিন্ন জায়গায় হাতি দিয়ে চাঁদা তোলার দৃশ্য দেখা যায়। রাস্তার পাশে দোকান থেকে শুরু করে টমটম, সিএনজি অটোরিকশা, এমনকি মোটরসাইকেলের চালকদেরও হাতি দিয়ে বাধা দিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে।

কাঁচামাল ব্যবসায়ী পাবলু বলেন, “কয়েক দিন পরপর হাতি দিয়ে চাঁদা নিতে আসে। টাকা না দিলে দোকানের সামনে থেকে হাতি সরানো হয় না। বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হয়।”

একই কথা জানান ব্যবসায়ী রতন লাল রায়। তিনি বলেন, “হাতি দিয়ে টাকা তোলার কারণে আমাদের ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

পথচারীরাও এ চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পথচারী বলেন, “রাস্তার মাঝখানে হাতি দাঁড় করিয়ে চাঁদা আদায় করা হয়। টাকা না দিলে হাতি গাড়ির সামনে থেকে সরানো হয় না। এটা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।”

হাতি দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে চাঁদা তোলার কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক পথচারী এবং যানবাহনের চালক হাতির উপস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন পিপিএম বলেন, “হাতি দিয়ে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এত সব ঘটনা সত্ত্বেও প্রশাসনের উদাসীনতা নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের দাবি, হাতি দিয়ে চাঁদা তোলার এমন নৈরাজ্য বন্ধে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা নেওয়া উচিত।

স্থানীয়রা আশা করছেন, হাতি দিয়ে চাঁদা তোলার এ অনৈতিক কার্যক্রম দ্রুত বন্ধে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। অন্যথায় এ ধরনের নৈরাজ্য ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যার জন্ম দিতে পারে।