ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আজ ১২ রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) Logo হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ মানুষের কষ্ট দূর করতে আমরা দ্রুতই প্রকল্প গ্রহণ করবহবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ মানুষের কষ্ট দূর করতে আমরা দ্রুতই প্রকল্প গ্রহণ করব Logo চুনারুঘাট রেমা-কালেঙ্গা বন বিভাগের অভিযানে ১৭ হাজার মুলি বাঁশ জব্দ Logo হবিগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্তে কমিটি Logo হবিগঞ্জের প্রবীণ সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক আর নেই Logo হবিগঞ্জ-৩ আসনে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা পৌরসভায় ১৮০ কোটি, সদর-শায়েস্তাগঞ্জ-লাখাইয়ে ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প Logo হবিগঞ্জের পাহাড়ে সজনের ফলনে চাষিরা লাভবান Logo অবৈধ ইটভাটার নির্গত ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে হবিগঞ্জে বায়ু Logo শায়েস্তাগঞ্জ রেল জংশন, নেই সক্রিয় শাখা লাইন কাজে আসছে না Logo দেড় মাসেও মেরামত হয়নি খোয়াই নদীর বাঁধ, ফের ভাঙন—ঢলের পানি ঢুকছে লোকালয়ে

শায়েস্তাগঞ্জ সুতাং নদী থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুতাং নদী থেকে বালু খেকোরা অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন ও পাচার করে যাচ্ছে। সরকারি ইজারা ছাড়াই প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত নৌকা যোগে বালু তুলে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। এতে নদীর দুই তীর ভাঙন, কৃষিজমি ও চা-বাগানের জমি হুমকির মুখে পড়ছে।
এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নুরপুর ইউনিয়ন কেন্দ্রিক একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রতিটি নৌকায় উত্তোলিত বালুর বাজার মূল্য ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। আর সেই নৌকা নদী থেকে তুলতে হলে সিন্ডিকেটকে দিতে হয় ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা কমিশন। টাকা না দিলে নৌকা ঢুকতে দেওয়া হয় না।
প্রতিদিন সুতাং রেলব্রিজ, সুতাং বাজার ব্রিজ, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মদনপুর ব্রিজ, পুরাসুন্দা, আলগাপুর, নোয়াগাঁও, শ্রীরামপুর, লাদিয়া, মররা, কাজিরগাঁও ব্রিজসহ বিভিন্ন স্পট থেকে শতাধিক নৌকায় বালু পাচার হচ্ছে। বালু তুলতে কোদাল, বেলচা ও বালতি ব্যবহার করা হলেও এর পেছনে রয়েছে সংগঠিত একটি শক্তিশালী চক্র। তারা স্পটে পাহারাদার বসিয়ে রেখেছে। প্রশাসনের উপস্থিতির খবর মোবাইলে জানিয়ে দেয়। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালেও মূল হোতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।
পুরাসুন্দা এলাকার এক পথচারী জানান, “আমাদের বাবার আমল থেকে বালু তোলা হতো, তবে এখন যেভাবে দিনের পর দিন পাচার হচ্ছে, তাতে নদী গর্ভে যাচ্ছে জমি ও বসতবাড়ি। মাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকার বালু পাচার হচ্ছে। কিন্তু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।”
স্থানীয়রা জানান, পুরাসুন্দা গ্রামের মোতালিব নামের এক ব্যক্তির ছত্রছায়ায় বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে।
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পল্লব হোম দাস জানান, “বিষয়টি আমি লোকমুখে শুনেছি। সুতাং নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেবে না।”
স্থানীয়রা বলছেন, যদি সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে সুতাং নদীর তীরবর্তী গ্রাম, কৃষিজমি ও চা-বাগান ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৬:১৩:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
১৫৬ বার পড়া হয়েছে

শায়েস্তাগঞ্জ সুতাং নদী থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে

আপডেট সময় ০৬:১৩:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুতাং নদী থেকে বালু খেকোরা অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন ও পাচার করে যাচ্ছে। সরকারি ইজারা ছাড়াই প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত নৌকা যোগে বালু তুলে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। এতে নদীর দুই তীর ভাঙন, কৃষিজমি ও চা-বাগানের জমি হুমকির মুখে পড়ছে।
এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নুরপুর ইউনিয়ন কেন্দ্রিক একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রতিটি নৌকায় উত্তোলিত বালুর বাজার মূল্য ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। আর সেই নৌকা নদী থেকে তুলতে হলে সিন্ডিকেটকে দিতে হয় ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা কমিশন। টাকা না দিলে নৌকা ঢুকতে দেওয়া হয় না।
প্রতিদিন সুতাং রেলব্রিজ, সুতাং বাজার ব্রিজ, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মদনপুর ব্রিজ, পুরাসুন্দা, আলগাপুর, নোয়াগাঁও, শ্রীরামপুর, লাদিয়া, মররা, কাজিরগাঁও ব্রিজসহ বিভিন্ন স্পট থেকে শতাধিক নৌকায় বালু পাচার হচ্ছে। বালু তুলতে কোদাল, বেলচা ও বালতি ব্যবহার করা হলেও এর পেছনে রয়েছে সংগঠিত একটি শক্তিশালী চক্র। তারা স্পটে পাহারাদার বসিয়ে রেখেছে। প্রশাসনের উপস্থিতির খবর মোবাইলে জানিয়ে দেয়। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালেও মূল হোতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।
পুরাসুন্দা এলাকার এক পথচারী জানান, “আমাদের বাবার আমল থেকে বালু তোলা হতো, তবে এখন যেভাবে দিনের পর দিন পাচার হচ্ছে, তাতে নদী গর্ভে যাচ্ছে জমি ও বসতবাড়ি। মাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকার বালু পাচার হচ্ছে। কিন্তু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।”
স্থানীয়রা জানান, পুরাসুন্দা গ্রামের মোতালিব নামের এক ব্যক্তির ছত্রছায়ায় বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে।
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পল্লব হোম দাস জানান, “বিষয়টি আমি লোকমুখে শুনেছি। সুতাং নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেবে না।”
স্থানীয়রা বলছেন, যদি সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে সুতাং নদীর তীরবর্তী গ্রাম, কৃষিজমি ও চা-বাগান ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।