শায়েস্তাগঞ্জ জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের ছাত্রী জেমি পেলেন ৭৫ লাখ টাকার আন্তর্জাতিক বৃত্তি
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অর্জন করেছেন অসাধারণ সাফল্য। চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (এইউডব্লিউ) উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি প্রায় ৭৫ লাখ টাকার (৬০ হাজার মার্কিন ডলার) মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৃত্তি পেয়েছেন।
গত ১৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির পরিচালক মৌরি রহমান চিঠির মাধ্যমে জেমিকে বৃত্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। চার বছর মেয়াদি এই বৃত্তির আওতায় প্রতি বছর তিনি ১৫ হাজার মার্কিন ডলার করে পাবেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে তার উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহনে বড় ধরনের সহায়তা হবে।
২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর জেমি গত ২০ জুলাই থেকে শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত এক মাসব্যাপী সামার স্কুল প্রোগ্রামে অংশ নেন। বিজ্ঞানভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমের এ সামার স্কুলে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। সফলভাবে প্রোগ্রামটি সম্পন্ন করার পর বাছাই প্রক্রিয়ায় জেমিসহ সাতজন শিক্ষার্থী মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি লাভ করেন।
বৃত্তিপ্রাপ্ত সাত শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজন সম্পূর্ণ বিনা খরচে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তাদের একজন জেমি। ফলে তার সামনে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষার নতুন দুয়ার খুলে গেছে।
জেমির বাবা আফজল আলী শায়েস্তাগঞ্জ পশ্চিম লেঞ্জাপাড়ার বাসিন্দা। তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। সীমিত আর্থিক সামর্থ্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও জহুর চান বিবি মহিলা কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা এবং নিজের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে জেমি ২০২৫ সালে সফলতার সঙ্গে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।
ইংরেজি মাধ্যমে বিজ্ঞানভিত্তিক সামার স্কুলে অংশ নেওয়া জেমির জন্য সহজ ছিল না। ভাষা, পরিবেশ ও পড়াশোনার ধরন—সবকিছুই ছিল নতুন অভিজ্ঞতা। তবে নিজের আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় ও মেধার জোরে তিনি সেই চ্যালেঞ্জ জয় করেন। আর সেই সাফল্যই তাকে এনে দিয়েছে প্রায় ৭৫ লাখ টাকার এই আন্তর্জাতিক বৃত্তি।
জেমির এই অর্জনে পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কলেজের শিক্ষকরা মনে করছেন, প্রতিকূলতার মধ্যেও জেমির এই সাফল্য শায়েস্তাগঞ্জের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
প্রায় ৭৫ লাখ টাকার এই বৃত্তি শুধু জেমির ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি তার পরিবারের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, শিক্ষক-অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং তার নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির স্বীকৃতি। সুযোগ ও পরিশ্রম থাকলে আর্থিক সীমাবদ্ধতাও যে মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না—জান্নাতুল ফেরদৌস জেমির সাফল্য তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।




















