ঢাকা ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo নবীগঞ্জে জমিজমা নিয়ে সংঘর্ষে এক কলেজ ছাত্র নিহত ও আহত ২০ Logo হবিগঞ্জে বেপরোয়া ট্রান্সফরমার চোরচক্র, সংকটে চা শিল্প Logo বানিয়াচংয়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ১১ শিশু, উৎকন্ঠায় অভিভাবক Logo বানিয়াচংয়ে হাওরে কৃষকের আতঙ্ক আকস্মিক বন্যা ও শিলাবৃষ্টি, ফসল নিয়ে শঙ্কা Logo বানিয়াচংয়ে ব্রিজ উদ্বোধনের দুইদিন পরই এমপি জীবনের নামফলক উধাও Logo শায়েস্তাগঞ্জে ১ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ Logo হবিগঞ্জে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন Logo হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন Logo বৈশাখী মেলা ঘিরে মাটির জিনিসপত্র তৈরীতে ব্যস্ত শায়েস্তাগঞ্জের মৃৎশিল্পীরা Logo খোয়াই নদীতে অবাধে মাটি-বালু উত্তোলন ॥ ভাঙন আতঙ্ক

‘আয়নাঘরের’ প্রমাণ পেয়েছে গুম কমিশন, জমা পড়েছে ৪০০ অভিযোগ

শায়েস্তাগঞ্জের বাণী ডেস্ক ,

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত গুম সংক্রান্ত কমিশন অফ ইনকোয়ারি কার্যক্রম শুরুর মাত্র ১৩ কর্মদিবসের মধ্যেই ৪০০ অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের বেশিরভাগই আগে কখনো করা হয়নি। ভুক্তভোগীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি গুমের অভিযোগ এসেছে র‍‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই), ডিবি ও সিটিটিসির বিরুদ্ধে।

এদিকে ভুক্তভোগীদের দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কার্যালয়ে গিয়ে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (আয়নাঘর) সন্ধান পেয়েছে কমিশন। এটি ডিজিএফআইয়ের সদর দপ্তরের ভেতরেই অবস্থিত। দোতলা ওই ভবনে ২২টি সেল আছে। তবে ৫ আগস্টের পর সেখানকার অনেক তথ্যই মুছে ফেলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে গুম সংক্রান্ত কমিশন অফ ইনকোয়ারির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অনুসন্ধান কমিশনের সভাপতি ও হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী।

সভাপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, গুম সংক্রান্ত কমিশন অফ ইনকোয়ারি গুমের ঘটনা তদন্তে নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে কাজ করছে। কমিশনের কার্যপরিধি অনুযায়ী ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে গুম হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। এক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, শৃঙ্খলাবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, তদন্তকারী সংস্থা এবং এধরনের যে কোনো বাহিনী বা সংস্থার কোনো সদস্য বা সরকারের সহায়তায় বা সম্মতিতে কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তি সমষ্টি কর্তৃক ‘আয়না ঘর’ বা যে কোনো জ্ঞাত বা অজ্ঞাত স্থানে বলপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান, তাদের সনাক্ত করা এবং কোনো পরিস্থিতিতে গুম হয়েছিল তা নির্ধারণ করা এবং সে উদ্দেশে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যসহ যে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।

রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক যারা গুম হয়েছেন তাদের অভিযোগগুলো নিয়েই আমরা কাজ করেছি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদেরও আমরা ডাকব। বক্তব্যের জন্য সমন দেব। অভিযুক্তরা না আসলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বেশি গুমের অভিযোগ এসেছে র‍্যাব, ডিজিএফআই, ডিবি ও সিটিটিসির বিরুদ্ধে। ২৫ সেপ্টেম্বর আমরা ডিজিএফআইয়ের আয়নাঘর পরিদর্শন করেছি। ১ অক্টোবর আমরা ডিবি ও সিটিটিসি পরিদর্শন করেছি। তবে সেখানে কোনো বন্দী আমরা পাইনি। সম্ভবত ৫ আগস্টের পর সেখানে থেকে সবাইকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এর আগে ২৭ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গুমের ঘটনা তদন্তে হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে এই কমিশন গঠন করে সরকার।

কমিশন গঠনের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), বিশেষ শাখা, গোয়েন্দা শাখা, আনসার ব্যাটালিয়ন, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), প্রতিরক্ষা বাহিনী, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), কোস্টগার্ডসহ দেশের আইন প্রয়োগ ও বলবৎকারী কোনো সংস্থার কোনো সদস্যের হাতে জোর করে গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানের জন্য এই তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:৪৩:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৪
১৩৯ বার পড়া হয়েছে

‘আয়নাঘরের’ প্রমাণ পেয়েছে গুম কমিশন, জমা পড়েছে ৪০০ অভিযোগ

আপডেট সময় ০৯:৪৩:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৪

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত গুম সংক্রান্ত কমিশন অফ ইনকোয়ারি কার্যক্রম শুরুর মাত্র ১৩ কর্মদিবসের মধ্যেই ৪০০ অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের বেশিরভাগই আগে কখনো করা হয়নি। ভুক্তভোগীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি গুমের অভিযোগ এসেছে র‍‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই), ডিবি ও সিটিটিসির বিরুদ্ধে।

এদিকে ভুক্তভোগীদের দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কার্যালয়ে গিয়ে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (আয়নাঘর) সন্ধান পেয়েছে কমিশন। এটি ডিজিএফআইয়ের সদর দপ্তরের ভেতরেই অবস্থিত। দোতলা ওই ভবনে ২২টি সেল আছে। তবে ৫ আগস্টের পর সেখানকার অনেক তথ্যই মুছে ফেলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে গুম সংক্রান্ত কমিশন অফ ইনকোয়ারির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অনুসন্ধান কমিশনের সভাপতি ও হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী।

সভাপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, গুম সংক্রান্ত কমিশন অফ ইনকোয়ারি গুমের ঘটনা তদন্তে নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে কাজ করছে। কমিশনের কার্যপরিধি অনুযায়ী ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে গুম হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। এক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, শৃঙ্খলাবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, তদন্তকারী সংস্থা এবং এধরনের যে কোনো বাহিনী বা সংস্থার কোনো সদস্য বা সরকারের সহায়তায় বা সম্মতিতে কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তি সমষ্টি কর্তৃক ‘আয়না ঘর’ বা যে কোনো জ্ঞাত বা অজ্ঞাত স্থানে বলপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান, তাদের সনাক্ত করা এবং কোনো পরিস্থিতিতে গুম হয়েছিল তা নির্ধারণ করা এবং সে উদ্দেশে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যসহ যে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।

রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক যারা গুম হয়েছেন তাদের অভিযোগগুলো নিয়েই আমরা কাজ করেছি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদেরও আমরা ডাকব। বক্তব্যের জন্য সমন দেব। অভিযুক্তরা না আসলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বেশি গুমের অভিযোগ এসেছে র‍্যাব, ডিজিএফআই, ডিবি ও সিটিটিসির বিরুদ্ধে। ২৫ সেপ্টেম্বর আমরা ডিজিএফআইয়ের আয়নাঘর পরিদর্শন করেছি। ১ অক্টোবর আমরা ডিবি ও সিটিটিসি পরিদর্শন করেছি। তবে সেখানে কোনো বন্দী আমরা পাইনি। সম্ভবত ৫ আগস্টের পর সেখানে থেকে সবাইকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এর আগে ২৭ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গুমের ঘটনা তদন্তে হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে এই কমিশন গঠন করে সরকার।

কমিশন গঠনের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), বিশেষ শাখা, গোয়েন্দা শাখা, আনসার ব্যাটালিয়ন, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), প্রতিরক্ষা বাহিনী, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), কোস্টগার্ডসহ দেশের আইন প্রয়োগ ও বলবৎকারী কোনো সংস্থার কোনো সদস্যের হাতে জোর করে গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানের জন্য এই তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে।