ঢাকা ০৬:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হবিগঞ্জের গ্যাস সংকটে বন্ধ ১৭১ কারখানায় উৎপাদন, কর্মহীন দেড় লাখ শ্রমিক Logo বাংলাদেশের গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া Logo চুনারুঘাটে চা-বাগানে বাড়ছে যক্ষ্মা, হাসপাতালে ওষুধ সংকট Logo শায়েস্তাগঞ্জে পিকআপের ধাক্কায় টমটম চালক নিহত Logo বাহুবল ফল প্রকাশের আগেরদিন মৃত্যু, সেই রেজা এসএসসিতে পেয়েছে ৪.১১ Logo হবিগঞ্জে ফল বিক্রেতার মোবাইল চুরির অভিযোগে এসআই ক্লোজড Logo জুলাই যোদ্ধাদের চাকুরির নিয়োগপত্র প্রদান সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী Logo একটি চক্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে: ‍প্রধানমন্ত্রী Logo জুলাই অভ্যুত্থানের মহানায়ক কোনো ব্যক্তি বা দল নয়, গণতন্ত্রকামী জনগণ : প্রধানমন্ত্রী Logo শায়েস্তাগঞ্জে আগস্টের বিজয়

বাহুবলে নির্মানের এক মাসেই ভেঙে পড়ল ভূমি অফিসের ভবনের ছাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী ভূমি অফিসের নবনির্মিত ভবনের সামনের ক্যান্টিলিভার ছাদ উদ্বোধনের আগেই নির্মানের মাত্র এক মাসের মাথায় ধসে পড়েছে। শুক্রবার ভোরে হঠাৎ ছাদটি ভেঙে পড়ে। তবে ঘটনাটি ভোরে ঘটায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও যথাযথ তদারকির অভাবের কারণেই এত অল্প সময়ের মধ্যে সরকারি ভবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধসে পড়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নির্মাণকাজের মান যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ছাব্বির আহমেদ বলেন, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং তদারকির ঘাটতি ছিল বলেই আমরা মনে করি। নির্মানের মাত্র এক মাসের মধ্যে একটি সরকারি ভবনের ক্যান্টিলিভার ছাদ ভেঙে পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবনের পুরো নির্মাণকাজের মান যাচাই করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সজিব আহমেদ বলেন- সাটারিং খোলার সময় কিছু ত্রুটির কারণে ক্যান্টিলিভার অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্মাণকাজে কিছু অনিয়মের বিষয় আমরা স্বীকার করছি। তবে দ্রুত এটি মেরামত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে। বাহুবল উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তর সূত্রে জানায়, ২০২৪ -২৫ অর্থ বছরের এলজিডির আওতাধীন টিইউএলঅ-২ প্রকল্পের অধীনে ৯২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৬ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় হবিগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নিপা ভূইয়া।

কাজের শুরু থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না এবং তিনি কারও তোয়াক্কা করেন না। এদিকে, ভবনের অন্য অংশগুলোও নিরাপদ কিনা তা পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, নির্মাণকাজে ত্রুটি থেকে থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং পুরো ভবনের নির্মাণমান যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছিলাম যে ক্যান্টিলিভার অংশে রডের বাইন্ডিংয়ে ত্রুটি ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ কারণে হানিকম্ব সৃষ্টি হয়ে অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এটি স্বাভাবিকভাবে ধসে পড়েছে, নাকি ভেঙে ফেলা হয়েছে- বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ। সংশ্লিষ্টদের ক্যান্টিলিভার অংশটি পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে নির্মাণকাজে গাফিলতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:০৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
৩৩ বার পড়া হয়েছে

বাহুবলে নির্মানের এক মাসেই ভেঙে পড়ল ভূমি অফিসের ভবনের ছাদ

আপডেট সময় ০৫:০৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী ভূমি অফিসের নবনির্মিত ভবনের সামনের ক্যান্টিলিভার ছাদ উদ্বোধনের আগেই নির্মানের মাত্র এক মাসের মাথায় ধসে পড়েছে। শুক্রবার ভোরে হঠাৎ ছাদটি ভেঙে পড়ে। তবে ঘটনাটি ভোরে ঘটায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও যথাযথ তদারকির অভাবের কারণেই এত অল্প সময়ের মধ্যে সরকারি ভবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধসে পড়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নির্মাণকাজের মান যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ছাব্বির আহমেদ বলেন, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং তদারকির ঘাটতি ছিল বলেই আমরা মনে করি। নির্মানের মাত্র এক মাসের মধ্যে একটি সরকারি ভবনের ক্যান্টিলিভার ছাদ ভেঙে পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবনের পুরো নির্মাণকাজের মান যাচাই করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সজিব আহমেদ বলেন- সাটারিং খোলার সময় কিছু ত্রুটির কারণে ক্যান্টিলিভার অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্মাণকাজে কিছু অনিয়মের বিষয় আমরা স্বীকার করছি। তবে দ্রুত এটি মেরামত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে। বাহুবল উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তর সূত্রে জানায়, ২০২৪ -২৫ অর্থ বছরের এলজিডির আওতাধীন টিইউএলঅ-২ প্রকল্পের অধীনে ৯২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৬ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় হবিগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নিপা ভূইয়া।

কাজের শুরু থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না এবং তিনি কারও তোয়াক্কা করেন না। এদিকে, ভবনের অন্য অংশগুলোও নিরাপদ কিনা তা পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, নির্মাণকাজে ত্রুটি থেকে থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং পুরো ভবনের নির্মাণমান যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছিলাম যে ক্যান্টিলিভার অংশে রডের বাইন্ডিংয়ে ত্রুটি ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ কারণে হানিকম্ব সৃষ্টি হয়ে অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এটি স্বাভাবিকভাবে ধসে পড়েছে, নাকি ভেঙে ফেলা হয়েছে- বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ। সংশ্লিষ্টদের ক্যান্টিলিভার অংশটি পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে নির্মাণকাজে গাফিলতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।