ঢাকা ০৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হবিগঞ্জে ধর্ষণের পর তরুণী হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড Logo তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রভাব চা শিল্পে, উৎপাদনে ভাটা Logo হবিগঞ্জে বালুবাহী ট্রাকে মিলল ভারতীয় কসমেটিকস-শাড়িসহ কোটি টাকার পণ্য Logo হবিগঞ্জে হামে ২১ জনের মৃত্যু, বাড়ছে আক্রান্ত হাসপাতালে তীব্র শয্যা সংকট Logo চুনারুঘাটে মদ খেয়ে মাকে মারধর, ছেলের ৬ মাসের জেল Logo চুনারুঘাটে সড়কে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর Logo চুনারুঘাট রেমা-কালেঙ্গার গহিন বনে বিশালাকৃতির কাঠবিড়ালি Logo শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে নেই নলকূপ, তৃষ্ণার্ত যাত্রীদের হাহাকার Logo শায়েস্তাগঞ্জে মাদক সেবনের অভিযোগে দুই বৃদ্ধের কারাদন্ড Logo শায়েস্তাগঞ্জে টমটম মালিক-শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে আলোচনা সভা

তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রভাব চা শিল্পে, উৎপাদনে ভাটা

নিজস্ব প্রতিবেদক

মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার ২৩টি চা বাগানে ভরা মৌসুমেও কাজ প্রকট আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ সংকট। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চা কারখানায় কাঁচা পাতা প্রক্রিয়াজাত ও শুকানোর কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত কচি পাতা পাওয়া গেলেও নির্ধারিত সময়ে তা প্রক্রিয়াজাত করা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কার মধ্যে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার পাঁচটি এবং চুনারুঘাট উপজেলার ১৮টি চা বাগানে এই বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাগান সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ছয় থেকে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। ফলে চা কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

চা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাগান থেকে সংগ্রহ করা কচি পাতা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কারখানায় এনে বিভিন্ন ধাপে প্রক্রিয়াজাত করতে হয়। প্রথমে পাতা শুকানোসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। সময়মতো এসব কাজ শেষ করতে না পারলে কাঁচা পাতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক সময় কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হয়।

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় কোনো কোনো বাগানে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করা হলেও জ্বালানির বাড়তি খরচের কারণে সব বাগানের পক্ষে দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালিয়ে কারখানা সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে একদিকে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়।

সুরমা চা বাগানের কারখানা ইনচার্জ সুজিত সাহা বলেন, বাগান থেকে কচি পাতা সংগ্রহের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কারখানায় এনে প্রক্রিয়াজাত করে উন্নতমানের চা তৈরি করতে হয়। এই কাজের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু দিনরাত লোডশেডিং লেগে থাকে। ফলে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে চা তৈরির কাজ চালাতে হচ্ছে।

জগদীশপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক মনির হোসেন বলেন, চা উৎপাদন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে চায়ের মান থাকে না। বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের মাঝপথে কাজ বন্ধ করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিকল্প হিসেবে জেনারেটর থাকলেও ডিজেলের উচ্চমূল্যের কারণে তা নিয়মিত ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।

বৈকুণ্ঠপুর চা বাগানের ম্যানেজার শামসুল হক ভূঁইয়া বলেন, চা শিল্প সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুৎনির্ভর। বিদ্যুৎ না থাকলে পুরো উৎপাদন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। এতে শুধু মালিক নয়, শ্রমিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার দেওয়ান বাহাউদ্দিন লিটন বলেন, উৎপাদন খরচ দিন দিন বাড়ছে, কিন্তু বাজারে চায়ের দাম সেই অনুপাতে বাড়েনি। তার ওপর দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:৫১:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ বার পড়া হয়েছে

তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রভাব চা শিল্পে, উৎপাদনে ভাটা

আপডেট সময় ০৫:৫১:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার ২৩টি চা বাগানে ভরা মৌসুমেও কাজ প্রকট আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ সংকট। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চা কারখানায় কাঁচা পাতা প্রক্রিয়াজাত ও শুকানোর কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত কচি পাতা পাওয়া গেলেও নির্ধারিত সময়ে তা প্রক্রিয়াজাত করা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কার মধ্যে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার পাঁচটি এবং চুনারুঘাট উপজেলার ১৮টি চা বাগানে এই বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাগান সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ছয় থেকে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। ফলে চা কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

চা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাগান থেকে সংগ্রহ করা কচি পাতা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কারখানায় এনে বিভিন্ন ধাপে প্রক্রিয়াজাত করতে হয়। প্রথমে পাতা শুকানোসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। সময়মতো এসব কাজ শেষ করতে না পারলে কাঁচা পাতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক সময় কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হয়।

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় কোনো কোনো বাগানে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করা হলেও জ্বালানির বাড়তি খরচের কারণে সব বাগানের পক্ষে দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালিয়ে কারখানা সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে একদিকে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়।

সুরমা চা বাগানের কারখানা ইনচার্জ সুজিত সাহা বলেন, বাগান থেকে কচি পাতা সংগ্রহের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কারখানায় এনে প্রক্রিয়াজাত করে উন্নতমানের চা তৈরি করতে হয়। এই কাজের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু দিনরাত লোডশেডিং লেগে থাকে। ফলে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে চা তৈরির কাজ চালাতে হচ্ছে।

জগদীশপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক মনির হোসেন বলেন, চা উৎপাদন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে চায়ের মান থাকে না। বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের মাঝপথে কাজ বন্ধ করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিকল্প হিসেবে জেনারেটর থাকলেও ডিজেলের উচ্চমূল্যের কারণে তা নিয়মিত ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।

বৈকুণ্ঠপুর চা বাগানের ম্যানেজার শামসুল হক ভূঁইয়া বলেন, চা শিল্প সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুৎনির্ভর। বিদ্যুৎ না থাকলে পুরো উৎপাদন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। এতে শুধু মালিক নয়, শ্রমিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার দেওয়ান বাহাউদ্দিন লিটন বলেন, উৎপাদন খরচ দিন দিন বাড়ছে, কিন্তু বাজারে চায়ের দাম সেই অনুপাতে বাড়েনি। তার ওপর দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।