ঢাকা ১১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ‘বাজেট বুঝি না, শুধু দুবেলা খাবার চাই’ Logo ‘চা শ্রমিকের কোনো পরিবর্তন নেই’প্রতিদিন ১৮৭ টাকা মজুরি নিয়ে দুর্দশার জীবন কাটাছে Logo মহান মে দিবস আজ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন Logo খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কায় হাজারো কৃষক Logo এক মুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারব না ২ হাজার ৭১০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে Logo শায়েস্তাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হলেন প্রভাষক কামরুল হাসান রিপন Logo হবিগঞ্জে ৩টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা Logo আজমিরীগঞ্জে শ্রমিক ও মেশিনের অভাবে মাঠেই নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় বোরো ধান Logo স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও অবহেলিত মাধবপুরের শামসুন্নাহার Logo হবিগঞ্জ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন, ভোগান্তি চরমে

লাখাইয়ে তীব্র শীতের মাঝেও হাওরে বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা

বিল্লাল আহমেদ লাখাই থেকেঃ

পৌষের শিরশিরে হিমেল হাওয়ায় কনকনে শীত উপেক্ষা করে লাখাই উপজেলায় বোরো ধানের চারা লাগাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা। একদিকে নীচু জমি থেকে পানি নামছে অপরদিকে আবাদ শুরু করছেন কৃষকরা। এখনো পুরোপুরি রোপণ শুরু না হলেও কৃষকরা হাওরে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উচুঁ জমি যেমন খাল-বিল ঘেষা রয়েছে সেসব জমিতে আগাম চাষ দিয়ে সেচের মাধ্যমে ধানের চারা রোপন করা হয়। রবি মৌসুমে পৌষ-মাঘ দুই মাস বোরো ধান রোপনের উপযুক্ত সময়। লাখাই ইউনিয়নের চিকনপুর হাওর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে কাঁদা-মাটি পানিতে বসে বোরো ধানের চারা উঠাচ্ছেন বাহার উদ্দিন নামের এক কৃষক। পাশেই ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। ইব্রাহীম নামের এক কৃষক জানান, প্রতি বিঘা জমি চাষ করিয়েছেন ৪০০ টাকা করে। এক হাজার টাকা বিঘা চুক্তিতে শ্রমিক দিয়ে ধানের চারা রোপনের কাজ করানো হচ্ছে। মটর চালিত পাম্প হতে পানির ব্যবস্থা থাকায় সহজেই ক্ষেতে সেচ দিতে পারছেন। উপজেলার সর্বত্রই গত কয়েকদিন যাবৎ ঘন কুয়াশা ঘেরা বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও ট্রাক্টর চালিয়ে ক্ষেত তৈরী করে কৃষকরা বোরো ধান রোপন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে। মৌসুমের শুরুতেই উঁচু জমিতে সেচের মাধ্যমে আগাম চারা রোপন করেছেন কৃষকরা।
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মিজানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চলতি বোরো মৌসুমে লাখাই উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ১১২০৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে এর মধ্যে হাওড় ৮৩৩২ হেক্টর ও ননহাওড় ২৮৭৬ হেক্টর। বীজতলা করা হয়েছে ৪৯৪ হেক্টর জমিতে। অধিক ফসল উৎপাদনে বোরো আবাদে কৃষকদের আরও উৎসাহী ও সহযোহিতার লক্ষে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে ৩৭০০ জন কৃষককে চাষ করার জন্য বোরো হাইব্রীড ২ কেজি বীজ, উফসী জাতের জন্য ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার সরকারী প্রনোদনা হিসাবে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর সরকারী প্রনোদনার বোরো বীজ ও সার ৩৭০০ জন কৃষককে দেওয়ায় বাজারে সার ও বীজ নিয়ে কোন কৃত্রিম সংকট তৈরী হয়নি। ফলে উপযুক্ত সময়ে বীজতলা তৈরীতে ও কৃষকদের কোন সমস্যায় পরতে হয়নি। এবছর উল্লেখযোগ্য জাত সমুহ ব্রিধান-১০৪, ৯২,৮৯,৮৮ ইত্যাদি, বিনা ধান- ২৫ এছাড়া হাইব্রিড হীরা, এসএল ৮, ব্রাক-৩, শক্তি-১, সুরভী-১ ইত্যাদি। এখন পর্যন্ত বোরো ধান রোপন হয়েছে ৫৫০০ হেক্টর। আশা করি এবছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বোরো রোপনের লক্ষমাত্রা অতিক্রমের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:৫৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৫
১৫১ বার পড়া হয়েছে

লাখাইয়ে তীব্র শীতের মাঝেও হাওরে বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা

আপডেট সময় ০৫:৫৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৫

পৌষের শিরশিরে হিমেল হাওয়ায় কনকনে শীত উপেক্ষা করে লাখাই উপজেলায় বোরো ধানের চারা লাগাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা। একদিকে নীচু জমি থেকে পানি নামছে অপরদিকে আবাদ শুরু করছেন কৃষকরা। এখনো পুরোপুরি রোপণ শুরু না হলেও কৃষকরা হাওরে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উচুঁ জমি যেমন খাল-বিল ঘেষা রয়েছে সেসব জমিতে আগাম চাষ দিয়ে সেচের মাধ্যমে ধানের চারা রোপন করা হয়। রবি মৌসুমে পৌষ-মাঘ দুই মাস বোরো ধান রোপনের উপযুক্ত সময়। লাখাই ইউনিয়নের চিকনপুর হাওর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে কাঁদা-মাটি পানিতে বসে বোরো ধানের চারা উঠাচ্ছেন বাহার উদ্দিন নামের এক কৃষক। পাশেই ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। ইব্রাহীম নামের এক কৃষক জানান, প্রতি বিঘা জমি চাষ করিয়েছেন ৪০০ টাকা করে। এক হাজার টাকা বিঘা চুক্তিতে শ্রমিক দিয়ে ধানের চারা রোপনের কাজ করানো হচ্ছে। মটর চালিত পাম্প হতে পানির ব্যবস্থা থাকায় সহজেই ক্ষেতে সেচ দিতে পারছেন। উপজেলার সর্বত্রই গত কয়েকদিন যাবৎ ঘন কুয়াশা ঘেরা বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও ট্রাক্টর চালিয়ে ক্ষেত তৈরী করে কৃষকরা বোরো ধান রোপন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে। মৌসুমের শুরুতেই উঁচু জমিতে সেচের মাধ্যমে আগাম চারা রোপন করেছেন কৃষকরা।
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মিজানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চলতি বোরো মৌসুমে লাখাই উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ১১২০৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে এর মধ্যে হাওড় ৮৩৩২ হেক্টর ও ননহাওড় ২৮৭৬ হেক্টর। বীজতলা করা হয়েছে ৪৯৪ হেক্টর জমিতে। অধিক ফসল উৎপাদনে বোরো আবাদে কৃষকদের আরও উৎসাহী ও সহযোহিতার লক্ষে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে ৩৭০০ জন কৃষককে চাষ করার জন্য বোরো হাইব্রীড ২ কেজি বীজ, উফসী জাতের জন্য ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার সরকারী প্রনোদনা হিসাবে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর সরকারী প্রনোদনার বোরো বীজ ও সার ৩৭০০ জন কৃষককে দেওয়ায় বাজারে সার ও বীজ নিয়ে কোন কৃত্রিম সংকট তৈরী হয়নি। ফলে উপযুক্ত সময়ে বীজতলা তৈরীতে ও কৃষকদের কোন সমস্যায় পরতে হয়নি। এবছর উল্লেখযোগ্য জাত সমুহ ব্রিধান-১০৪, ৯২,৮৯,৮৮ ইত্যাদি, বিনা ধান- ২৫ এছাড়া হাইব্রিড হীরা, এসএল ৮, ব্রাক-৩, শক্তি-১, সুরভী-১ ইত্যাদি। এখন পর্যন্ত বোরো ধান রোপন হয়েছে ৫৫০০ হেক্টর। আশা করি এবছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বোরো রোপনের লক্ষমাত্রা অতিক্রমের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।