ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo শায়েস্তাগঞ্জের আলাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযানে ড্রেজার ও পাইপ জব্দ Logo মাধবপুরে র‌্যাবের অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার Logo নবীগঞ্জে চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক ব্যক্তি নিহত Logo সিলেট শিক্ষাবোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত হচ্ছে না Logo খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে ২৫ গ্রাম প্লাবিত, দুর্ভোগে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ Logo হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত Logo খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ১০ গ্রাম প্লাবিত Logo হবিগঞ্জে আকস্মিক বন্যা, আশ্রয়ের খোঁজে মানুষ Logo অতিবৃষ্টিতে চুনারুঘাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত Logo ৩ নদীর পানি বিপদসীমা ওপর, হুমকিতে হবিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত

শায়েস্তাগঞ্জ প্রতিনিধি :

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতের এ ঘটনায় হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলার অন্তত ২০ থেকে ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

প্লাবিত গ্রামের মধ্যে বাহুবল উপজেলার দ্বিমুড়া, ভূলকোট, হাফিজপুর, ছন্দ্রচড়ি, রামপুর, পালপাড়া ও নন্দনপুরসহ কয়েকটি গ্রাম রয়েছে। এছাড়া হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের আদ্দিপাশা, বনগাঁও, সুঘর, বৈদ্যার বাজারসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে।

আকস্মিক ঢলের পানিতে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। শত শত বসতঘর, গ্রামীণ সড়ক, পুকুর ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে চলে গেছে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও গবাদিপশুর খাদ্যের সংকট।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, আমন ধানের বীজতলা, সবজি ক্ষেতসহ বিভিন্ন আবাদি জমি তলিয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। পাশাপাশি মাছের ঘের, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি নিয়েও বিপাকে রয়েছেন অনেক পরিবার।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খোয়াই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশ ও তীরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরই পরিণতিতে বাঁধ ভেঙে দুই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে বলে দাবি তাদের।

স্থানীয়দের দাবি, খোয়াই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিরক্ষা বাঁধ দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি স্থায়ী নদীশাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এমন দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি প্রশাসন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দুর্গত মানুষের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৪:০৮:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
৪ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত

আপডেট সময় ০৪:০৮:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতের এ ঘটনায় হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলার অন্তত ২০ থেকে ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

প্লাবিত গ্রামের মধ্যে বাহুবল উপজেলার দ্বিমুড়া, ভূলকোট, হাফিজপুর, ছন্দ্রচড়ি, রামপুর, পালপাড়া ও নন্দনপুরসহ কয়েকটি গ্রাম রয়েছে। এছাড়া হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের আদ্দিপাশা, বনগাঁও, সুঘর, বৈদ্যার বাজারসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে।

আকস্মিক ঢলের পানিতে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। শত শত বসতঘর, গ্রামীণ সড়ক, পুকুর ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে চলে গেছে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও গবাদিপশুর খাদ্যের সংকট।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, আমন ধানের বীজতলা, সবজি ক্ষেতসহ বিভিন্ন আবাদি জমি তলিয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। পাশাপাশি মাছের ঘের, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি নিয়েও বিপাকে রয়েছেন অনেক পরিবার।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খোয়াই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশ ও তীরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরই পরিণতিতে বাঁধ ভেঙে দুই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে বলে দাবি তাদের।

স্থানীয়দের দাবি, খোয়াই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিরক্ষা বাঁধ দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি স্থায়ী নদীশাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এমন দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি প্রশাসন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দুর্গত মানুষের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।