ঢাকা ০৯:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo শায়েস্তাগঞ্জের আলাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযানে ড্রেজার ও পাইপ জব্দ Logo মাধবপুরে র‌্যাবের অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার Logo নবীগঞ্জে চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক ব্যক্তি নিহত Logo সিলেট শিক্ষাবোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত হচ্ছে না Logo খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে ২৫ গ্রাম প্লাবিত, দুর্ভোগে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ Logo হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত Logo খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ১০ গ্রাম প্লাবিত Logo হবিগঞ্জে আকস্মিক বন্যা, আশ্রয়ের খোঁজে মানুষ Logo অতিবৃষ্টিতে চুনারুঘাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত Logo ৩ নদীর পানি বিপদসীমা ওপর, হুমকিতে হবিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ

শায়েস্তাগঞ্জের আলাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযানে ড্রেজার ও পাইপ জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুরের ভেঙে যাওয়া বাঁধের বিপরীতে খোয়াই নদীর পশ্চিম পাশে শায়েস্তাগঞ্জের আলাপুর সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে দুইটি ড্রেজার, তিনটি শ্যালো মেশিন এবং প্রায় ৩ হাজার ১০০ মিটার দীর্ঘ পাইপসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ফজলে রাব্বানী চৌধুরীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি), সার্ভেয়ার, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী রেভিনিউ কর্মকর্তা, উপ-সহকারী প্রকৌশলী এবং পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিএসসিইসি৭-স্পেকট্রা জেভি নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন দুইটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে প্রায় চার মাস ধরে ওই এলাকায় বালু উত্তোলন করা হয়। যদিও গত প্রায় এক মাস ধরে উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ ছিল, তবুও ঘটনাস্থলে ড্রেজার ও অন্যান্য সরঞ্জাম পড়ে ছিল।

অভিযানকালে প্রশাসনের কর্মকর্তারা দেখতে পান, একটি ড্রেজার জেলা প্রশাসনের অনুমোদিত ৮৯০ নম্বর দাগের বাইরে অবস্থান করছে। অপর ড্রেজারের বিরুদ্ধে স্থানীয় এক ব্যক্তির ব্যক্তিগত জমি থেকে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার অভিযোগ পাওয়া যায়।
তদন্তে আরও উঠে আসে, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির একাধিক শর্ত লঙ্ঘন করে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত স্লোপ সংরক্ষণ না করে বালু উত্তোলন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ছিদ্র করে পাইপ স্থাপন, নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও নৌপথে পরিবর্তন আনা, বাঁধ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখা এবং সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার শর্ত অমান্য করে রাতেও বালু উত্তোলন করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রশাসনের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিযানে উদ্ধার হওয়া প্রায় ৩ হাজার ১০০ মিটার পাইপ, দুইটি কাটিং সেকশন ড্রেজার এবং তিনটি শ্যালো মেশিন জব্দ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ সরঞ্জাম বুঝে নিয়ে এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি শুরু করেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযানের সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি।

স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন, নদী ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৬:৫৫:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
১ বার পড়া হয়েছে

শায়েস্তাগঞ্জের আলাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযানে ড্রেজার ও পাইপ জব্দ

আপডেট সময় ০৬:৫৫:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুরের ভেঙে যাওয়া বাঁধের বিপরীতে খোয়াই নদীর পশ্চিম পাশে শায়েস্তাগঞ্জের আলাপুর সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে দুইটি ড্রেজার, তিনটি শ্যালো মেশিন এবং প্রায় ৩ হাজার ১০০ মিটার দীর্ঘ পাইপসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ফজলে রাব্বানী চৌধুরীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি), সার্ভেয়ার, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী রেভিনিউ কর্মকর্তা, উপ-সহকারী প্রকৌশলী এবং পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিএসসিইসি৭-স্পেকট্রা জেভি নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন দুইটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে প্রায় চার মাস ধরে ওই এলাকায় বালু উত্তোলন করা হয়। যদিও গত প্রায় এক মাস ধরে উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ ছিল, তবুও ঘটনাস্থলে ড্রেজার ও অন্যান্য সরঞ্জাম পড়ে ছিল।

অভিযানকালে প্রশাসনের কর্মকর্তারা দেখতে পান, একটি ড্রেজার জেলা প্রশাসনের অনুমোদিত ৮৯০ নম্বর দাগের বাইরে অবস্থান করছে। অপর ড্রেজারের বিরুদ্ধে স্থানীয় এক ব্যক্তির ব্যক্তিগত জমি থেকে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার অভিযোগ পাওয়া যায়।
তদন্তে আরও উঠে আসে, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির একাধিক শর্ত লঙ্ঘন করে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত স্লোপ সংরক্ষণ না করে বালু উত্তোলন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ছিদ্র করে পাইপ স্থাপন, নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও নৌপথে পরিবর্তন আনা, বাঁধ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখা এবং সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার শর্ত অমান্য করে রাতেও বালু উত্তোলন করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রশাসনের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিযানে উদ্ধার হওয়া প্রায় ৩ হাজার ১০০ মিটার পাইপ, দুইটি কাটিং সেকশন ড্রেজার এবং তিনটি শ্যালো মেশিন জব্দ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ সরঞ্জাম বুঝে নিয়ে এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি শুরু করেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযানের সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি।

স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন, নদী ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।