ঢাকা ০৭:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হবিগঞ্জে দুপক্ষের সংঘর্ষে ২ জন নিহত,আহত ৪০ Logo শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নিজস্ব কোনো ভবন নেই দাপ্তরিক কাজ হচ্ছে ভাড়া বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে। Logo শায়েস্তাগঞ্জে ভয়াবহ যানজট-দেখার যেন কেউ নেই Logo মাধবপুর পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি Logo চুনারুঘাটে খোয়াই নদীতে গোসল করতে গিয়ে বৃদ্ধ নিখোঁজ Logo শায়েস্তাগঞ্জে বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলর আব্দুল আহাদকে প্রেসক্লাবের সংবর্ধনা Logo ‘বাজেট বুঝি না, শুধু দুবেলা খাবার চাই’ Logo ‘চা শ্রমিকের কোনো পরিবর্তন নেই’প্রতিদিন ১৮৭ টাকা মজুরি নিয়ে দুর্দশার জীবন কাটাছে Logo মহান মে দিবস আজ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন Logo খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কায় হাজারো কৃষক

৫২৩ বছরের ঐতিহ্য শায়েস্তাগঞ্জ দাউদনগর জামে মসজিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

হবিগঞ্জ জেলার প্রাণকেন্দ্রে, শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার অন্তর্গত দাউদনগর গ্রাম—একটি নাম, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে পাঁচ শতাধিক বছরের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য। রেলওয়ে জংশনের পূর্ব-উত্তর কোণে অবস্থিত এই গ্রামের মাটিতে মিশে আছে ইসলাম প্রচারের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।

ইতিহাস বলছে, হযরত শাহজালাল (রঃ) যখন ইসলাম প্রচারের মহান দায়িত্ব নিয়ে সিলেট আগমন করেন, তাঁর সঙ্গে এসেছিলেন ৩৬০ জন আওলিয়া। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রঃ)—যিনি সাহস, আধ্যাত্মিকতা ও নেতৃত্বগুণে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তাঁর নবম বংশধর ছিলেন বন্দেগী শাহ সৈয়দ দাউদ (রঃ)। এই মহান ব্যক্তির পদস্পর্শে ধন্য হয় বর্তমান দাউদনগর গ্রাম, যার নামকরণও হয় তাঁর নামানুসারে।
সৈয়দ শাহ দাউদের বংশধররা আজও বসবাস করছেন ঐতিহাসিক দাউদনগর হাবেলীতে, যা এখনো অতীত ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে আছে।

দাউদনগর হাবেলীর সম্মুখে অবস্থিত পুকুরের দক্ষিণ পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক দাউদনগর জামে মসজিদ—যার বয়স প্রায় ৫২৩ বছর। ফার্সী ভাষায় খোদাই করা দুটি শিলালিপি থেকে জানা যায়, মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল ৯১৯ হিজরির রবিউসসানী মাসের ১১ তারিখে (বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১৫ শতকের শেষ দিকে)।
দুঃখজনকভাবে, অষ্টাদশ শতাব্দীতে এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাচীন এই মসজিদটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে দক্ষিণাংশে থাকা একটি বিশাল গম্বুজ বহু বছর ধরে টিকে ছিল। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, ভূমিকম্প চলাকালীন সেই গম্বুজের নিচে এক আল্লাহভক্ত ওলী ধ্যানমগ্ন অবস্থায় ছিলেন, তাঁর অলৌকিক প্রভাবে গম্বুজটি অক্ষত থাকে।

বর্তমানে সৈয়দ শাহ দাউদের ধর্মপ্রাণ উত্তরাধিকারীরা ঐতিহাসিক এই মসজিদটি আধুনিক রূপে পুনর্নির্মাণ করেছেন। নিরাপত্তার কারণে পুরোনো গম্বুজটি সরিয়ে ফেলতে হলেও তারা সংরক্ষণ করেছেন মসজিদের ঐতিহ্য ও স্থাপত্যশৈলীর মাহাত্ম্য। আজও এই মসজিদে প্রতিদিনের নামাজ, মিলাদ, ও ইসলামিক শিক্ষা কার্যক্রম চলে—যা প্রমাণ করে শতাব্দী পেরিয়েও ঐতিহ্যের শেকড় এখনো অটুট।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:৫৮:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
১৩৭ বার পড়া হয়েছে

৫২৩ বছরের ঐতিহ্য শায়েস্তাগঞ্জ দাউদনগর জামে মসজিদ

আপডেট সময় ১১:৫৮:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

হবিগঞ্জ জেলার প্রাণকেন্দ্রে, শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার অন্তর্গত দাউদনগর গ্রাম—একটি নাম, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে পাঁচ শতাধিক বছরের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য। রেলওয়ে জংশনের পূর্ব-উত্তর কোণে অবস্থিত এই গ্রামের মাটিতে মিশে আছে ইসলাম প্রচারের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।

ইতিহাস বলছে, হযরত শাহজালাল (রঃ) যখন ইসলাম প্রচারের মহান দায়িত্ব নিয়ে সিলেট আগমন করেন, তাঁর সঙ্গে এসেছিলেন ৩৬০ জন আওলিয়া। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রঃ)—যিনি সাহস, আধ্যাত্মিকতা ও নেতৃত্বগুণে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তাঁর নবম বংশধর ছিলেন বন্দেগী শাহ সৈয়দ দাউদ (রঃ)। এই মহান ব্যক্তির পদস্পর্শে ধন্য হয় বর্তমান দাউদনগর গ্রাম, যার নামকরণও হয় তাঁর নামানুসারে।
সৈয়দ শাহ দাউদের বংশধররা আজও বসবাস করছেন ঐতিহাসিক দাউদনগর হাবেলীতে, যা এখনো অতীত ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে আছে।

দাউদনগর হাবেলীর সম্মুখে অবস্থিত পুকুরের দক্ষিণ পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক দাউদনগর জামে মসজিদ—যার বয়স প্রায় ৫২৩ বছর। ফার্সী ভাষায় খোদাই করা দুটি শিলালিপি থেকে জানা যায়, মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল ৯১৯ হিজরির রবিউসসানী মাসের ১১ তারিখে (বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১৫ শতকের শেষ দিকে)।
দুঃখজনকভাবে, অষ্টাদশ শতাব্দীতে এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাচীন এই মসজিদটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে দক্ষিণাংশে থাকা একটি বিশাল গম্বুজ বহু বছর ধরে টিকে ছিল। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, ভূমিকম্প চলাকালীন সেই গম্বুজের নিচে এক আল্লাহভক্ত ওলী ধ্যানমগ্ন অবস্থায় ছিলেন, তাঁর অলৌকিক প্রভাবে গম্বুজটি অক্ষত থাকে।

বর্তমানে সৈয়দ শাহ দাউদের ধর্মপ্রাণ উত্তরাধিকারীরা ঐতিহাসিক এই মসজিদটি আধুনিক রূপে পুনর্নির্মাণ করেছেন। নিরাপত্তার কারণে পুরোনো গম্বুজটি সরিয়ে ফেলতে হলেও তারা সংরক্ষণ করেছেন মসজিদের ঐতিহ্য ও স্থাপত্যশৈলীর মাহাত্ম্য। আজও এই মসজিদে প্রতিদিনের নামাজ, মিলাদ, ও ইসলামিক শিক্ষা কার্যক্রম চলে—যা প্রমাণ করে শতাব্দী পেরিয়েও ঐতিহ্যের শেকড় এখনো অটুট।