ঢাকা ১০:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হবিগঞ্জে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে বিজিবির কঠোর নিরাপত্তা Logo ৮৪ বছর ধরে পড়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ Logo শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ৯২টি সিসার পিলেটসহ ৩টি এয়ারগান উদ্ধার Logo তারেক রহমানকে বরণ করতে প্রস্তুত হবিগঞ্জবাসী Logo হবিগঞ্জ ট্রাকভর্তি ধানের তুষের নিচ থেকে ভারতীয় কসমেটিকস ও গাঁজা জব্দ Logo মেলায় বাঘাইড় মাছের দাম আড়াই লাখ টাকা Logo হবিগঞ্জের বালুভর্তি ট্রাকে পাচারকালে দেড় কোটি টাকার ভারতীয় কসমেটিকস ও শাড়ীর চালান জব্দ Logo শায়েস্তাগঞ্জে ৮৮ বস্তা অবৈধ জিরার চালানসহ গ্রেপ্তার ১ Logo নিখোঁজের ৩দিন পর নদীর পাড়ে মিলল মাদরাসাছাত্রের লাশ Logo আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে রেজা কিবরিয়াকে শোকজ

৮৪ বছর ধরে পড়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ

নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নিতনী বিল এলাকার হাওরে প্রায় ৮৪ বছর ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমান।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ধানক্ষেতের একাংশে পড়ে আছে যুদ্ধবিমানটির কিছু ধ্বংসাবশেষ।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৪২ সালের দিকে আশ্বিন মাসের এক সকালে কালিয়ারভাঙ্গা ও শ্রীমতপুর গ্রামের আকাশে একটি যুদ্ধবিমান কয়েকবার চক্কর দেয়। একপর্যায়ে বিকট শব্দে বিমানটি নিতনী বিলের হাওরে ভূপাতিত হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে অনেকে ছুটে গেলেও ঘন ধোঁয়ার কারণে প্রথমে কিছুই দেখতে পাননি। পরে ধোঁয়া সরে গেলেও প্রায় ছয় দিন ধরে বিমানে আগুন জ্বলতে থাকে।

বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কিছুদিন পর নৌকায় করে অনেকেই সেখানে গিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন। এ সময় বিমানের ভেতরে থাকা একটি মিসাইল হঠাৎ বিস্ফোরিত হলে শ্রীমতপুর গ্রামের সাজিদ মিয়া ও খালেক মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ওই ঘটনার পর দীর্ঘদিন আতঙ্কে কেউ বিমানের কাছে যাননি বলেও জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, মাটির ওপর বিমানের সামান্য অংশ দৃশ্যমান হলেও এর বৃহৎ অংশ এখনো মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো রকম সংরক্ষণ না থাকায় ধ্বংসাবশেষের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়েছে।

এলাকার শতবর্ষী কৃষক মাতাব মিয়া ও ইউসুফ মিয়াসহ কয়েকজন জানান, দুর্ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণে কয়েকজন নিহত হওয়ার পর বহু বছর মানুষ ওই জায়গার পাশ দিয়েও যেতে ভয় পেতেন। এখনো ওই জমির কাছে গেলে তাদের চোখের সামনে সেই ভয়াবহ স্মৃতি ভেসে ওঠে।

শ্রীমতপুর গ্রামের জানাল উদ্দিন ও মো. আলী মিয়া বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। যথাযথ উদ্যোগ নিলে বিমানটি উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা সম্ভব। এতে নতুন প্রজন্ম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে জানতে পারবে।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করব। বিধি মোতাবেক স্মৃতি হিসেবে জাদুঘরে নেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে উপজেলা প্রশাসন সে উদ্যোগ নেবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:৪২:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৪ বার পড়া হয়েছে

৮৪ বছর ধরে পড়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ

আপডেট সময় ০১:৪২:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নিতনী বিল এলাকার হাওরে প্রায় ৮৪ বছর ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমান।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ধানক্ষেতের একাংশে পড়ে আছে যুদ্ধবিমানটির কিছু ধ্বংসাবশেষ।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৪২ সালের দিকে আশ্বিন মাসের এক সকালে কালিয়ারভাঙ্গা ও শ্রীমতপুর গ্রামের আকাশে একটি যুদ্ধবিমান কয়েকবার চক্কর দেয়। একপর্যায়ে বিকট শব্দে বিমানটি নিতনী বিলের হাওরে ভূপাতিত হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে অনেকে ছুটে গেলেও ঘন ধোঁয়ার কারণে প্রথমে কিছুই দেখতে পাননি। পরে ধোঁয়া সরে গেলেও প্রায় ছয় দিন ধরে বিমানে আগুন জ্বলতে থাকে।

বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কিছুদিন পর নৌকায় করে অনেকেই সেখানে গিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন। এ সময় বিমানের ভেতরে থাকা একটি মিসাইল হঠাৎ বিস্ফোরিত হলে শ্রীমতপুর গ্রামের সাজিদ মিয়া ও খালেক মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ওই ঘটনার পর দীর্ঘদিন আতঙ্কে কেউ বিমানের কাছে যাননি বলেও জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, মাটির ওপর বিমানের সামান্য অংশ দৃশ্যমান হলেও এর বৃহৎ অংশ এখনো মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো রকম সংরক্ষণ না থাকায় ধ্বংসাবশেষের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়েছে।

এলাকার শতবর্ষী কৃষক মাতাব মিয়া ও ইউসুফ মিয়াসহ কয়েকজন জানান, দুর্ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণে কয়েকজন নিহত হওয়ার পর বহু বছর মানুষ ওই জায়গার পাশ দিয়েও যেতে ভয় পেতেন। এখনো ওই জমির কাছে গেলে তাদের চোখের সামনে সেই ভয়াবহ স্মৃতি ভেসে ওঠে।

শ্রীমতপুর গ্রামের জানাল উদ্দিন ও মো. আলী মিয়া বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। যথাযথ উদ্যোগ নিলে বিমানটি উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা সম্ভব। এতে নতুন প্রজন্ম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে জানতে পারবে।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করব। বিধি মোতাবেক স্মৃতি হিসেবে জাদুঘরে নেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে উপজেলা প্রশাসন সে উদ্যোগ নেবে।