চুনারুঘাট সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ঝুলন্ত সেতুর গাইডওয়ালে ধস
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নির্মাণাধীন ঝুলন্ত সেতুর দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক ও সুরক্ষা গাইডওয়াল উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছে। প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই এমন ঘটনায় প্রকল্প পরিকল্পনা এবং তদারকি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও পরিবেশসংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করছেন, নিম্নমানের নির্মাণকাজ ও যথাযথ তদারকির অভাবেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ছড়ার তীব্র স্রোতের কারণেই প্রকল্পের ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের ধারণা, প্রকল্পের পরিকল্পনা ও নকশাতেও বড় ধরনের ত্রুটি থাকতে পার
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের প্রবেশমুখে পাহাড়ি ছড়ার ওপর নির্মিত পুরোনো সেতুটি কয়েক বছর আগে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে পর্যটকদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হলে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি।
উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের মে মাসে ওই জায়গায় শুরু হয় নতুন ঝুলন্ত ব্রিজ নির্মাণের কাজ। একই সঙ্গে সেতুর দুই পাশে মাটি রক্ষা এবং পাহাড়ি ঢলের ক্ষতি ঠেকাতে গাইডওয়াল নির্মাণও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পুরো প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয় এক কোটি ৯৬ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬৫ টাকা।
এলজিইডি সূত্র জানায়, প্রকল্পটির কাজ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। এর মধ্যেই প্রকল্পের প্রায় ৬৫ শতাংশ বিল ঠিকাদারকে পরিশোধ করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের মেইন গেট দিয়ে ঢুকলে চোখে পড়ে নির্মাণাধীন ঝুলন্ত সেতুটি। সেতুর দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়কের বড় অংশ ধসে গেছে। ধসে যাওয়া অংশ তড়িঘড়ি করে সংস্কার করেছে এলজিইডি। পাশাপাশি গাইডওয়ালের বিস্তীর্ণ অংশ ভেঙে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যেকোনো সময় পুরো গাইডওয়াল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেতুটিরও বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে।
এদিকে কাজ শেষ হওয়ার আগেই অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধসে পড়ায় প্রকল্পটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুরু থেকেই নির্মাণকাজে বিভিন্ন অনিয়ম ছিল। নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি কাজের গুণগত মানও সন্তোষজনক ছিল না।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নেতা চিত্ত রঞ্জন বর্মণ বলেন, ‘পর্যটন এরিয়ার সেতু নির্মাণে এমন অনিয়ম হতাশাজনক। গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই ঝুলন্ত সেতুটি নির্মাণে ঠিকাদারের উচিত ছিল সঠিকভাবে কাজ করা।’
উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, ‘অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ছড়ার প্রবল স্রোতের কারণে অ্যাপ্রোচ সড়ক ও গাইডওয়ালের ক্ষতি হয়েছে। তবে নির্মাণকাজে ঠিকাদারের কিছু অনিয়মের অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, প্রকল্পের পরিকল্পনা ও নকশাতেও ত্রুটি থাকতে পারে। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’






















