ঢাকা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo এক মুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারব না ২ হাজার ৭১০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে Logo শায়েস্তাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হলেন প্রভাষক কামরুল হাসান রিপন Logo হবিগঞ্জে ৩টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা Logo আজমিরীগঞ্জে শ্রমিক ও মেশিনের অভাবে মাঠেই নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় বোরো ধান Logo স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও অবহেলিত মাধবপুরের শামসুন্নাহার Logo হবিগঞ্জ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন, ভোগান্তি চরমে Logo হবিগঞ্জে ভুল প্রশ্নে দাখিল পরীক্ষা, তিনজনকে অব্যাহতি Logo শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে ডিসপেন্সারিতে চিকিৎসক নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন Logo নিখোঁজের ৪ দিন পর চুনারুঘাটে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় নারীর মরদেহ উদ্ধার Logo সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেলেন হবিগঞ্জের শাম্মী আক্তার

মাধবপুরে রঘুনন্দন ছড়া থেকে বালু লোপাট

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:-

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের হরিতলা এবং নোয়াপাড়া ইউনিয়নের শাহপুর এলাকায় রঘুনন্দন ছড়া থেকে দিন-রাত প্রকাশ্যে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রঘুনন্দন ছড়ার বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ উত্তোলন কেন্দ্র বসিয়ে ড্রেজার ও শ্রমিকের মাধ্যমে অবাধে বালু তোলা হচ্ছে। ছড়া থেকে বালু তুলে প্রথমে পাশের খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয়, পরে ট্রাকযোগে তা বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই চক্রটি আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, এই বালু লোপাট সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন হরিতলার হেলাল মিয়া, খলিল মিয়া এবং শামীম মিয়া। তাদের সঙ্গে আরও ২০-২৫ জনের একটি সক্রিয় দল রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এই চক্রের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। প্রতিবাদ করলেই নানাভাবে হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হয়। প্রতিদিন এই ছড়া থেকে লাখ লাখ টাকার বালু লুটপাট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, এভাবে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে ছড়ার স্বাভাবিক গতিপথ বদলে যাচ্ছে। এতে করে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক নদী ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দ্রুত এই উত্তোলন বন্ধ না হলে স্থানীয় কৃষি জমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুজিবুল ইসলাম বলেন, রঘুনন্দন ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:৪৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
৫৫ বার পড়া হয়েছে

মাধবপুরে রঘুনন্দন ছড়া থেকে বালু লোপাট

আপডেট সময় ১১:৪৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের হরিতলা এবং নোয়াপাড়া ইউনিয়নের শাহপুর এলাকায় রঘুনন্দন ছড়া থেকে দিন-রাত প্রকাশ্যে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রঘুনন্দন ছড়ার বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ উত্তোলন কেন্দ্র বসিয়ে ড্রেজার ও শ্রমিকের মাধ্যমে অবাধে বালু তোলা হচ্ছে। ছড়া থেকে বালু তুলে প্রথমে পাশের খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয়, পরে ট্রাকযোগে তা বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই চক্রটি আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, এই বালু লোপাট সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন হরিতলার হেলাল মিয়া, খলিল মিয়া এবং শামীম মিয়া। তাদের সঙ্গে আরও ২০-২৫ জনের একটি সক্রিয় দল রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এই চক্রের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। প্রতিবাদ করলেই নানাভাবে হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হয়। প্রতিদিন এই ছড়া থেকে লাখ লাখ টাকার বালু লুটপাট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, এভাবে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে ছড়ার স্বাভাবিক গতিপথ বদলে যাচ্ছে। এতে করে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক নদী ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দ্রুত এই উত্তোলন বন্ধ না হলে স্থানীয় কৃষি জমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুজিবুল ইসলাম বলেন, রঘুনন্দন ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।