ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হবিগঞ্জে ধর্ষণের পর তরুণী হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড Logo তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রভাব চা শিল্পে, উৎপাদনে ভাটা Logo হবিগঞ্জে বালুবাহী ট্রাকে মিলল ভারতীয় কসমেটিকস-শাড়িসহ কোটি টাকার পণ্য Logo হবিগঞ্জে হামে ২১ জনের মৃত্যু, বাড়ছে আক্রান্ত হাসপাতালে তীব্র শয্যা সংকট Logo চুনারুঘাটে মদ খেয়ে মাকে মারধর, ছেলের ৬ মাসের জেল Logo চুনারুঘাটে সড়কে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর Logo চুনারুঘাট রেমা-কালেঙ্গার গহিন বনে বিশালাকৃতির কাঠবিড়ালি Logo শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে নেই নলকূপ, তৃষ্ণার্ত যাত্রীদের হাহাকার Logo শায়েস্তাগঞ্জে মাদক সেবনের অভিযোগে দুই বৃদ্ধের কারাদন্ড Logo শায়েস্তাগঞ্জে টমটম মালিক-শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে আলোচনা সভা

শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের প্রধান সড়কের বেহালদশা

নিজস্ব প্রতিবেদক

হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের প্রধান সড়কের বেহালদশা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এক বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়ে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনা ও ভেঙে পড়া নালা-নর্দমার কারণে পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই, ফলে পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত একেকটি ছোট পুকুরে পরিণত হয়। এতে পথচারীরা যেমন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন, তেমনি যানবাহন চলাচলেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ আহত হচ্ছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক চৌধুরী জানান, বছরের পর বছর ধরে এই সড়কটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। বারবার সংস্কারের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া, মাছুম মিয়া, পারভীন আক্তার বলেন, বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকা পানিতে ডুবে যায়। শিশুদের স্কুলে যেতে কষ্ট হয়, বৃদ্ধ ও রোগীদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আমরা যেন এক প্রকার বন্দি জীবন যাপন করছি।

স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেশি। প্রতিদিন কাদা-পানি মাড়িয়ে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়, যা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় জামাকাপড় নষ্ট হওয়ায় তারা বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়।

এলাকাবাসী আরও জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নালা-নর্দমাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পানি জমে থাকে এবং অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। অনেক জায়গায় ড্রেন ভেঙে পড়েছে বা মাটি দিয়ে ভরাট হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত সড়ক সংস্কার এবং আধুনিক ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

অতিসত্বর সড়ক সংস্কার, নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবিতে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা আশা করছেন, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মোঃ নাহিদ হোসেন বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। বরাদ্দক্রমে সড়ক ও ড্রেনের নির্মাণ করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৪:১৬:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
১১৮ বার পড়া হয়েছে

শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের প্রধান সড়কের বেহালদশা

আপডেট সময় ০৪:১৬:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের প্রধান সড়কের বেহালদশা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এক বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়ে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনা ও ভেঙে পড়া নালা-নর্দমার কারণে পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই, ফলে পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত একেকটি ছোট পুকুরে পরিণত হয়। এতে পথচারীরা যেমন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন, তেমনি যানবাহন চলাচলেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ আহত হচ্ছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক চৌধুরী জানান, বছরের পর বছর ধরে এই সড়কটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। বারবার সংস্কারের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া, মাছুম মিয়া, পারভীন আক্তার বলেন, বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকা পানিতে ডুবে যায়। শিশুদের স্কুলে যেতে কষ্ট হয়, বৃদ্ধ ও রোগীদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আমরা যেন এক প্রকার বন্দি জীবন যাপন করছি।

স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেশি। প্রতিদিন কাদা-পানি মাড়িয়ে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়, যা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় জামাকাপড় নষ্ট হওয়ায় তারা বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়।

এলাকাবাসী আরও জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নালা-নর্দমাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পানি জমে থাকে এবং অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। অনেক জায়গায় ড্রেন ভেঙে পড়েছে বা মাটি দিয়ে ভরাট হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত সড়ক সংস্কার এবং আধুনিক ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

অতিসত্বর সড়ক সংস্কার, নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবিতে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা আশা করছেন, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মোঃ নাহিদ হোসেন বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। বরাদ্দক্রমে সড়ক ও ড্রেনের নির্মাণ করা হবে।