ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo চুনারুঘাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত Logo চুনারুঘাটে গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়িতে ডাকাতি Logo এবার হবিগঞ্জে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা Logo নবীগঞ্জ পৌরসভা অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার যানবাহন Logo হবিগঞ্জে টমটমের সাথে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত Logo হবিগঞ্জে ৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা ও ৩১ মোবাইল উদ্ধার, মালিকদের হাতে তুলে দিল পুলিশ Logo আজ ১২ রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) Logo খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ মানুষের কষ্ট দূর করতে আমরা দ্রুতই প্রকল্প গ্রহণ করব Logo চুনারুঘাট রেমা-কালেঙ্গা বন বিভাগের অভিযানে ১৭ হাজার মুলি বাঁশ জব্দ Logo হবিগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্তে কমিটি

চুনারুঘাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল সীমান্তে গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তার নাম সোহাগ মিয়া। আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত সোহাগের পরিবার বলছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে তিনি মারা গেছেন।

হবিগঞ্জে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তানজিলুর রহমান প্রথমে জানিয়েছিলেন, বিএসএফ গরু চোরাকারবারি শনাক্ত করে গুলি চালালে ওই ব্যক্তি প্রাণ হারান। পরে তিনি জানান, চোরাকারবারিদের মধ্যে গোলাগুলিতে সোহাগ নিহত হন।

নিহত সোহাগ চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল এলাকার সফিকুল ইসলামের ছেলে।

হবিগঞ্জ ৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই বিজিবি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চিমটিবিল সীমান্ত এলাকার শূন্য লাইনের এক কিলোমিটার ভারতীয় অংশে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল সীমান্তের বাসিন্দারা আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সীমান্তে হঠাৎ গুলির শব্দ পান। পরে মাটিতে এক ব্যক্তির পড়ে থাকার কথা জানতে পারেন তাঁরা। নিহত ব্যক্তির পোশাক দেখে ধারণা করা হয়, ওই ব্যক্তি বাংলাদেশি।

পরে নিহত ব্যক্তির পরিবার লাশটি দেখে শনাক্ত করেন, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল এলাকার বাসিন্দা সোহাগ মিয়া। তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। বেলা সাড়ে ৩টার পর চুনারুঘাট থানার পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সোহাগ মিয়ার সুরতহাল করে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও সোহাগ সীমান্তে গরু চরাতে যান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দীর্ঘক্ষণ তাঁর খোঁজ না পেয়ে স্বজনরা সীমান্তে খুঁজতে গিয়ে তাকে পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিরাজাম মুনিরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের চাচা আবদুল কাদির দাবি করেন, তাঁর ভাতিজা সীমান্তে গরুকে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যায়। কিন্তু বিএসএফ গরু চোরাকারবারি সন্দেহে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

বিকেলে বিজিবি হবিগঞ্জ ৫৫ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা প্রথম দিকে ধরে নিয়েছিলাম বিএসএফের গুলিতে এই যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনা নিয়ে যখন আমরা বিএসএফের সঙ্গে কথা বলি, তারা আমাদের নিশ্চিত করে তাদের গুলিতে এই যুবকের মৃত্যু হয়নি।’

বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, ভারতীয় চোরাকারবারিদের সঙ্গে ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে এই যুবকসহ কয়েকজনের দ্বন্দ্ব হয়। চোরাকারবারিদের গুলিতে সোহাগ প্রাণ হারান। ঘটনার সময় সোহাগের সঙ্গে তাঁর এক ভাইও ছিলেন। তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে এসে বিস্তারিত পুলিশ ও বিজিবিকে জানায়। বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চুনারুঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:৫৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
৩ বার পড়া হয়েছে

চুনারুঘাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

আপডেট সময় ০৫:৫৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল সীমান্তে গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তার নাম সোহাগ মিয়া। আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত সোহাগের পরিবার বলছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে তিনি মারা গেছেন।

হবিগঞ্জে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তানজিলুর রহমান প্রথমে জানিয়েছিলেন, বিএসএফ গরু চোরাকারবারি শনাক্ত করে গুলি চালালে ওই ব্যক্তি প্রাণ হারান। পরে তিনি জানান, চোরাকারবারিদের মধ্যে গোলাগুলিতে সোহাগ নিহত হন।

নিহত সোহাগ চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল এলাকার সফিকুল ইসলামের ছেলে।

হবিগঞ্জ ৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই বিজিবি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চিমটিবিল সীমান্ত এলাকার শূন্য লাইনের এক কিলোমিটার ভারতীয় অংশে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল সীমান্তের বাসিন্দারা আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সীমান্তে হঠাৎ গুলির শব্দ পান। পরে মাটিতে এক ব্যক্তির পড়ে থাকার কথা জানতে পারেন তাঁরা। নিহত ব্যক্তির পোশাক দেখে ধারণা করা হয়, ওই ব্যক্তি বাংলাদেশি।

পরে নিহত ব্যক্তির পরিবার লাশটি দেখে শনাক্ত করেন, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল এলাকার বাসিন্দা সোহাগ মিয়া। তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। বেলা সাড়ে ৩টার পর চুনারুঘাট থানার পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সোহাগ মিয়ার সুরতহাল করে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও সোহাগ সীমান্তে গরু চরাতে যান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দীর্ঘক্ষণ তাঁর খোঁজ না পেয়ে স্বজনরা সীমান্তে খুঁজতে গিয়ে তাকে পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিরাজাম মুনিরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের চাচা আবদুল কাদির দাবি করেন, তাঁর ভাতিজা সীমান্তে গরুকে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যায়। কিন্তু বিএসএফ গরু চোরাকারবারি সন্দেহে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

বিকেলে বিজিবি হবিগঞ্জ ৫৫ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা প্রথম দিকে ধরে নিয়েছিলাম বিএসএফের গুলিতে এই যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনা নিয়ে যখন আমরা বিএসএফের সঙ্গে কথা বলি, তারা আমাদের নিশ্চিত করে তাদের গুলিতে এই যুবকের মৃত্যু হয়নি।’

বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, ভারতীয় চোরাকারবারিদের সঙ্গে ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে এই যুবকসহ কয়েকজনের দ্বন্দ্ব হয়। চোরাকারবারিদের গুলিতে সোহাগ প্রাণ হারান। ঘটনার সময় সোহাগের সঙ্গে তাঁর এক ভাইও ছিলেন। তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে এসে বিস্তারিত পুলিশ ও বিজিবিকে জানায়। বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চুনারুঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।