ঢাকা ০১:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লাখাইয়ে হোমিওপ্যাথিক তরল পানে দম্পতিসহ ৫ জনের মৃত্যু Logo হবিগঞ্জে পাটোয়ারী-সারজিসসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা Logo শায়েস্তাগঞ্জে পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু, শোকের ছায়া গ্রামজুড়ে Logo হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় ১১ জনের নামে এনসিপির মামলা Logo পথে পথে বাধা, শ্রীমঙ্গলে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙলেন এনসিপি নেতারা Logo এনসিপি-ছাত্রদল পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি Logo এনসিপির পদযাত্রায় হামলা, সারজিস ও পাটওয়ারী আহত Logo হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রায় হামলা, সারজিস-পাটওয়ারী আহত Logo চুনারুঘাট সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ঝুলন্ত সেতুর গাইডওয়ালে ধস Logo হবিগঞ্জে চা শ্রমিককে গরম পানি ঢেলে দগ্ধের অভিযোগ, তিন নারী গ্রেপ্তার

দেশের ৪ বিভাগীয় শহরে বায়ুদূষণ অনেক বেশি

শায়েস্তাগঞ্জের বাণী ডেস্ক ,

বায়ুদূষণে বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী ঢাকাকে ছাপিয়ে গেছে দেশের চার বিভাগীয় শহর। দেশের বিভিন্ন এলাকার বায়ুর মানও দিন দিন খারাপ হচ্ছে।

এদিন যে চার বিভাগীয় শহরের বায়ুর মান রাজধানীর চেয়ে অনেকটাই খারাপ, সেগুলো হলো সিলেট, রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ।

এর মধ্যে বুধবার সকালে ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগীয় শহরের বায়ুর মানের হিসাবে সিলেট নগরীর বায়ুর মান সবচেয়ে খারাপ ছিল। সেদিন সকাল পৌনে ৯টায় আইকিউএয়ারের মানসূচকে এ নগরীর বায়ুর মান ছিল ২১৮। বায়ুর এ মানকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ঠিক এ সময়েই বিশ্বের ১২৬ নগরীর মধ্যে বায়ুদূষণে তৃতীয় স্থানে ছিল ঢাকা। আইকিউএয়ারের মানসূচকে ঢাকার গড় বায়ুমান ১৭৯। এ মানকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে গণ্য করা হয়।

বৃহস্পতিবার দেশের আট বিভাগীয় শহরের মধ্যে সিলেটের বায়ুমান সবচেয়ে খারাপ। এদিন সকাল পৌনে নয়টার দিকে আইকিউএয়ারের মানসূচকে এ নগরীর বায়ুর মান ছিল ১৮৯। এ মানকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়। এদিন রাজধানীর বায়ুর মানের খানিকটা উন্নতি হয়েছে, আইকিউএয়ারের মানসূচকে এর মান ১২৩। এ মানকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে গণ্য করা হয়। এই গোষ্ঠীর মধ্যে আছে শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ ব্যক্তি। বাইরে বের হলে তাদের অবশ্যই মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে আইকিউএয়ার। আর বিশ্বের ১২৪ শহরের মধ্যে বৃহস্পতিবার রাজধানীর অবস্থান ছিল ১৬তম।দেশের আরও যে তিন বিভাগীয় শহরের মধ্যে রাজশাহীর বায়ুর মান ১৬১, রংপুরে ১৫৭ ও ময়মনসিংহে ১৫৩। প্রতিটি মানই অস্বাস্থ্যকর। বাকি বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামের মান ১০৪, খুলনার ৮৭ ও বরিশালের ৭৮।

বায়ুদূষণের এ চিত্র তুলে ধরেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। প্রতিষ্ঠানটি বায়ুদূষণের পরিস্থিতি নিয়মিত তুলে ধরে। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে।
এদিন বায়ুদূষণে শীর্ষে ছিল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। বায়ুর মান ছিল ১৯৬।

এরই মধ্যে মঙ্গলবার আইকিউএয়ারের ‘বৈশ্বিক বায়ুমান প্রতিবেদন ২০২৪’ তুলে ধরা হয়। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বায়ুদূষণে ২০২৪ সালে দেশ হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। আর নগর হিসেবে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ দূষিত নগর ছিল ঢাকা। ২০২৩ সালে বায়ুদূষণে বাংলাদেশ শীর্ষে ছিল। নগর হিসেবে ঢাকার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। গত বছর (২০২৪) বায়ুদূষণে শীর্ষ দেশ ছিল আফ্রিকার চাদ। আর নগর হিসেবে শীর্ষে ছিল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি।

সার্বিকভাবে বায়ুদূষণে আগের বছরের তুলনায় গত বছর বাংলাদেশের অবস্থানের সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। তবে এ পরিবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন না পরিবেশবাদী ও গবেষকেরা। তাঁরা বলছেন, দূষণ আরও বিস্তৃত হচ্ছে, এবারের প্রতিবেদন সেই বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে। কারণ, আগে দেখা গেছে যে রাজধানীর তুলনায় দেশের সার্বিক গড় বায়ুমান কিছুটা ভালো থাকত। কিন্তু এবারের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশ ও দেশের সবচেয়ে দূষিত নগরী ঢাকার বায়ুর মান প্রায় একই। উভয়ের মান ৭৮। গত ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে এক দিনও নির্মল বায়ু পাননি রাজধানীবাসী। চলতি মাসেরও একই হাল।

রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে আছে কলকারখানা ও যানবাহনের দূষিত ধোঁয়া, ইটভাটা, বর্জ্য পোড়ানো। দূষণ রোধে হাঁকডাক ও নানা ধরনের প্রকল্পও কম হয়নি সরকারি স্তরে, কিন্তু দূষণ কমছে না।

দূষণসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ক্যাপসের এক জরিপে দেখা গেছে, ডিসেম্বরে যত বায়ুদূষণ ছিল, তা গত ৯ বছরে সর্বোচ্চ। আবার গত জানুয়ারি ও ফেব্রæয়ারিতেও দূষণের মান ছিল ৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উপাদান হলো বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি। ঢাকার বাতাসে এর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানমাত্রার চেয়ে ১৭ গুণ বেশি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:৫০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫
৩০৭ বার পড়া হয়েছে

দেশের ৪ বিভাগীয় শহরে বায়ুদূষণ অনেক বেশি

আপডেট সময় ১০:৫০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫

বায়ুদূষণে বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী ঢাকাকে ছাপিয়ে গেছে দেশের চার বিভাগীয় শহর। দেশের বিভিন্ন এলাকার বায়ুর মানও দিন দিন খারাপ হচ্ছে।

এদিন যে চার বিভাগীয় শহরের বায়ুর মান রাজধানীর চেয়ে অনেকটাই খারাপ, সেগুলো হলো সিলেট, রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ।

এর মধ্যে বুধবার সকালে ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগীয় শহরের বায়ুর মানের হিসাবে সিলেট নগরীর বায়ুর মান সবচেয়ে খারাপ ছিল। সেদিন সকাল পৌনে ৯টায় আইকিউএয়ারের মানসূচকে এ নগরীর বায়ুর মান ছিল ২১৮। বায়ুর এ মানকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ঠিক এ সময়েই বিশ্বের ১২৬ নগরীর মধ্যে বায়ুদূষণে তৃতীয় স্থানে ছিল ঢাকা। আইকিউএয়ারের মানসূচকে ঢাকার গড় বায়ুমান ১৭৯। এ মানকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে গণ্য করা হয়।

বৃহস্পতিবার দেশের আট বিভাগীয় শহরের মধ্যে সিলেটের বায়ুমান সবচেয়ে খারাপ। এদিন সকাল পৌনে নয়টার দিকে আইকিউএয়ারের মানসূচকে এ নগরীর বায়ুর মান ছিল ১৮৯। এ মানকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়। এদিন রাজধানীর বায়ুর মানের খানিকটা উন্নতি হয়েছে, আইকিউএয়ারের মানসূচকে এর মান ১২৩। এ মানকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে গণ্য করা হয়। এই গোষ্ঠীর মধ্যে আছে শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ ব্যক্তি। বাইরে বের হলে তাদের অবশ্যই মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে আইকিউএয়ার। আর বিশ্বের ১২৪ শহরের মধ্যে বৃহস্পতিবার রাজধানীর অবস্থান ছিল ১৬তম।দেশের আরও যে তিন বিভাগীয় শহরের মধ্যে রাজশাহীর বায়ুর মান ১৬১, রংপুরে ১৫৭ ও ময়মনসিংহে ১৫৩। প্রতিটি মানই অস্বাস্থ্যকর। বাকি বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামের মান ১০৪, খুলনার ৮৭ ও বরিশালের ৭৮।

বায়ুদূষণের এ চিত্র তুলে ধরেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। প্রতিষ্ঠানটি বায়ুদূষণের পরিস্থিতি নিয়মিত তুলে ধরে। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে।
এদিন বায়ুদূষণে শীর্ষে ছিল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। বায়ুর মান ছিল ১৯৬।

এরই মধ্যে মঙ্গলবার আইকিউএয়ারের ‘বৈশ্বিক বায়ুমান প্রতিবেদন ২০২৪’ তুলে ধরা হয়। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বায়ুদূষণে ২০২৪ সালে দেশ হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। আর নগর হিসেবে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ দূষিত নগর ছিল ঢাকা। ২০২৩ সালে বায়ুদূষণে বাংলাদেশ শীর্ষে ছিল। নগর হিসেবে ঢাকার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। গত বছর (২০২৪) বায়ুদূষণে শীর্ষ দেশ ছিল আফ্রিকার চাদ। আর নগর হিসেবে শীর্ষে ছিল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি।

সার্বিকভাবে বায়ুদূষণে আগের বছরের তুলনায় গত বছর বাংলাদেশের অবস্থানের সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। তবে এ পরিবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন না পরিবেশবাদী ও গবেষকেরা। তাঁরা বলছেন, দূষণ আরও বিস্তৃত হচ্ছে, এবারের প্রতিবেদন সেই বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে। কারণ, আগে দেখা গেছে যে রাজধানীর তুলনায় দেশের সার্বিক গড় বায়ুমান কিছুটা ভালো থাকত। কিন্তু এবারের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশ ও দেশের সবচেয়ে দূষিত নগরী ঢাকার বায়ুর মান প্রায় একই। উভয়ের মান ৭৮। গত ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে এক দিনও নির্মল বায়ু পাননি রাজধানীবাসী। চলতি মাসেরও একই হাল।

রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে আছে কলকারখানা ও যানবাহনের দূষিত ধোঁয়া, ইটভাটা, বর্জ্য পোড়ানো। দূষণ রোধে হাঁকডাক ও নানা ধরনের প্রকল্পও কম হয়নি সরকারি স্তরে, কিন্তু দূষণ কমছে না।

দূষণসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ক্যাপসের এক জরিপে দেখা গেছে, ডিসেম্বরে যত বায়ুদূষণ ছিল, তা গত ৯ বছরে সর্বোচ্চ। আবার গত জানুয়ারি ও ফেব্রæয়ারিতেও দূষণের মান ছিল ৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উপাদান হলো বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি। ঢাকার বাতাসে এর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানমাত্রার চেয়ে ১৭ গুণ বেশি।