ঢাকা ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাহুবলে পিকআপ-কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে শ্রমিক নিহত, আহত ৪ Logo ট্রেনের শেষ বগীর পেছনেই ৩৫ বছরের জীবন Logo চুনারুঘাটে কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে গরু দিয়ে জমি চাষ Logo চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩২ পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ১২ চিকিৎসক, Logo হবিগঞ্জে চুনারুঘাটে ৬১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৪ Logo ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর যুবদলের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত Logo সাবেক স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সৈয়দ গাজিউর রহমানের দাফন সম্পন্ন Logo নাব্য সংকটে সুতাং নদী এখন মরা খাল শিল্পবর্জ্যের দূষণে বিষাক্ত পানি Logo সৌদি আরবে প্রাইভেট কারের চাপায় শায়েস্তাগঞ্জের যুবক নিহত, পরিবারে মাতম Logo ‘অভাব তো বয়স বোঝে না, পেট তো খাবার চায়’

মেহেরপুরে কমেছে পাট চাষ, জাগ দেওয়া নিয়ে চিন্তিত চাষি

মেহেরপুর প্রতিনিধি

তীব্র তাপদাহ, খাল ভরাট, অনাবৃষ্টি, শ্রমিক সংকট ও পাটের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় মেহেরপুরে কমেছে পাট চাষ। তারপরেও সেটুকু পাট চাষ হয়েছে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় সেটা জাগ দেওয়া নিয়ে চিন্তিত চাষী।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর ২২ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে ১৬ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষমাত্রার চেয়ে ৫ হাজার ৩৭০ হেক্টর কম। এর প্রধান কারন পাট জাগ দেওয়ার পানি সংকট। এয়াড়াও রয়েছে পাটের বাজার কম। চাষীরা পাট আবাদ করতে যা খরচ করছে সেটা পাট বিক্রি করে পাচ্ছেনা। তাই লোকসানের থেকে বাঁচতে চাষীরা সবজিসহ অন্যান্য অর্থকরি ফসল চাষে ঝুঁকছে।

সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের পাট চাষী শরিফুল জানান, ১ বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু পাট বিক্রি করে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা হচ্ছে এতে অনেক লোকশান হচ্ছে। তাই গত বছর ৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করলেও এবার ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। জালানীর জন্য পাটখড়িটা খুব দরকার তাই বাধ্য হয়ে পাট চাষ করি।

সদর উপজেলার গোভীপুর গ্রামের পাট চাষী মনিরুল ইসলাম জানান, বিগত বছরগুলোতে দীর্ঘ অনাবৃষ্টি থাকার কারণে পুকুর, খাল-বিল ও নালাগুলোতে পানি ছিল না। যে কারণে কৃষকরা পাট জাগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় সমস্যায় ভুগেছিল। পাট জাগ দেওয়ার মতো পানির ব্যবস্থা না থাকায় অনেকে পুকুর ভাড়া করে সেখানে পানি দিয়ে পাট জাগ দিয়েছিল। তাতে খরচ হয় বেশি।

আর সরকারি যে নদী নালা খাল বিল আছে সেখানে পাট জাগ দিতে গেলে মৎস্য অধিদপ্তরের বাধার সম্মুখিন হতে হয়। পাট জাগ দেওয়ার বড় মাধ্যম ছিল ভৈরব নদী। কিন্তু ভৈরব নদী খননের পর থেকে প্রশাসন আর পাট জাগ দিতে দেয়না চাষীদের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার জানান, চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে অনেক পরিমাণে পাটের চাষ কম হয়েছে। তীব্র তাপদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণেই কৃষকেরা সঠিক সময় পাটের বীজ বপন করতে পারেনি। এছাড়াও পাট পচানোর জায়গা সংকট। নদী নালা খাল মিলে মৎস্য বিভাগ থেকে পাট পাচাতে দিতে না দেওয়াই পাটের চাষ কমেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:৩৮:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪
২১৫ বার পড়া হয়েছে

মেহেরপুরে কমেছে পাট চাষ, জাগ দেওয়া নিয়ে চিন্তিত চাষি

আপডেট সময় ০১:৩৮:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪

তীব্র তাপদাহ, খাল ভরাট, অনাবৃষ্টি, শ্রমিক সংকট ও পাটের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় মেহেরপুরে কমেছে পাট চাষ। তারপরেও সেটুকু পাট চাষ হয়েছে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় সেটা জাগ দেওয়া নিয়ে চিন্তিত চাষী।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর ২২ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে ১৬ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষমাত্রার চেয়ে ৫ হাজার ৩৭০ হেক্টর কম। এর প্রধান কারন পাট জাগ দেওয়ার পানি সংকট। এয়াড়াও রয়েছে পাটের বাজার কম। চাষীরা পাট আবাদ করতে যা খরচ করছে সেটা পাট বিক্রি করে পাচ্ছেনা। তাই লোকসানের থেকে বাঁচতে চাষীরা সবজিসহ অন্যান্য অর্থকরি ফসল চাষে ঝুঁকছে।

সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের পাট চাষী শরিফুল জানান, ১ বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু পাট বিক্রি করে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা হচ্ছে এতে অনেক লোকশান হচ্ছে। তাই গত বছর ৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করলেও এবার ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। জালানীর জন্য পাটখড়িটা খুব দরকার তাই বাধ্য হয়ে পাট চাষ করি।

সদর উপজেলার গোভীপুর গ্রামের পাট চাষী মনিরুল ইসলাম জানান, বিগত বছরগুলোতে দীর্ঘ অনাবৃষ্টি থাকার কারণে পুকুর, খাল-বিল ও নালাগুলোতে পানি ছিল না। যে কারণে কৃষকরা পাট জাগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় সমস্যায় ভুগেছিল। পাট জাগ দেওয়ার মতো পানির ব্যবস্থা না থাকায় অনেকে পুকুর ভাড়া করে সেখানে পানি দিয়ে পাট জাগ দিয়েছিল। তাতে খরচ হয় বেশি।

আর সরকারি যে নদী নালা খাল বিল আছে সেখানে পাট জাগ দিতে গেলে মৎস্য অধিদপ্তরের বাধার সম্মুখিন হতে হয়। পাট জাগ দেওয়ার বড় মাধ্যম ছিল ভৈরব নদী। কিন্তু ভৈরব নদী খননের পর থেকে প্রশাসন আর পাট জাগ দিতে দেয়না চাষীদের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার জানান, চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে অনেক পরিমাণে পাটের চাষ কম হয়েছে। তীব্র তাপদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণেই কৃষকেরা সঠিক সময় পাটের বীজ বপন করতে পারেনি। এছাড়াও পাট পচানোর জায়গা সংকট। নদী নালা খাল মিলে মৎস্য বিভাগ থেকে পাট পাচাতে দিতে না দেওয়াই পাটের চাষ কমেছে।