ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর যুবদলের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত Logo সাবেক স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সৈয়দ গাজিউর রহমানের দাফন সম্পন্ন Logo নাব্য সংকটে সুতাং নদী এখন মরা খাল শিল্পবর্জ্যের দূষণে বিষাক্ত পানি Logo সৌদি আরবে প্রাইভেট কারের চাপায় শায়েস্তাগঞ্জের যুবক নিহত, পরিবারে মাতম Logo ‘অভাব তো বয়স বোঝে না, পেট তো খাবার চায়’ Logo আজমিরীগঞ্জে ২১ ঘণ্টা পর নদীতে ভাসল নিখোঁজ গৃহবধূর মরদেহ Logo শায়েস্তাগঞ্জে জয়ন্তিকা ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন, যাত্রীদের দুর্ভোগ Logo ‘পেনশন নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন না’— পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে হবিগঞ্জের মাধবপুরে ছাত্রলীগ নেতার হুঁশিয়ারি Logo হবিগঞ্জে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি Logo হবিগঞ্জ কারাগারে আসামির মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ পরিবারের

সাবেক স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সৈয়দ গাজিউর রহমানের দাফন সম্পন্ন

মঈনুল হাসান রতন॥

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নূরপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত সাবেক চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট শালিস বিচারক, লেখক ও গবেষক সৈয়দ গাজিউর রহমান আর নেই। দীর্ঘ ৯৭ বছরের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি পাড়ি জমিয়েছেন না-ফেরার দেশে। তাঁর মৃত্যুতে নূরপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একজন প্রবীণ জনপ্রতিনিধি, অভিজ্ঞ শালিস বিচারক ও জ্ঞানচর্চায় নিবেদিত ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে স্থানীয় সমাজে গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার সুরাবই গ্রামে নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সৈয়দ গাজিউর রহমান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়স্বজন, শুভাকাক্সক্ষী, রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়।
মরহুম সৈয়দ গাজিউর রহমানের জানাজার নামাজ মঙ্গলবার রাতে তাঁর নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত মুসল্লি, আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শুভাকাক্সক্ষীদের মধ্যে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জানাজায় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি তাঁর প্রতি স্থানীয় মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হয়। দীর্ঘ জীবনে তিনি যে সামাজিক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পর মানুষের উপস্থিতিতে তার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রিয়জনকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে অনেকেই জানাজায় অংশ নেন এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
সৈয়দ গাজিউর রহমান ছিলেন নূরপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত সাবেক চেয়ারম্যান। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি নিজ এলাকায় পরিচিতি অর্জন করেন। জনসাধারণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা তাঁকে এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিত্বদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব কেবল প্রশাসনিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; মানুষের সমস্যা শোনা, সামাজিক বিরোধের সমাধানে ভূমিকা রাখা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুযোগ থাকে। সৈয়দ গাজিউর রহমানের পরিচয়ের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি শালিস বিচারকের পরিচয়ও বিশেষভাবে জড়িয়ে ছিল।
তাঁর দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা ও সামাজিক অবস্থানের কারণে তিনি স্থানীয় মানুষের কাছে একজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে এলাকার মানুষ একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে হারালেন।
সৈয়দ গাজিউর রহমানের অন্যতম পরিচয় ছিল তিনি একজন বিশিষ্ট শালিস বিচারক। গ্রামীণ সমাজে সামাজিক বিরোধ মীমাংসা, পারস্পরিক ভুল-বোঝাবুঝি দূর করা এবং মানুষের মধ্যে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে শালিসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের পরামর্শ ও মধ্যস্থতা স্থানীয় সমাজে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
সৈয়দ গাজিউর রহমান এই পরিচয়ের মধ্য দিয়েও স্থানীয় মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেন। দীর্ঘ জীবনে অর্জিত অভিজ্ঞতা তাঁকে সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেওয়ার মতো অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিল। তাঁর মতো প্রবীণ ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে স্থানীয় সামাজিক অঙ্গনে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
জনপ্রতিনিধি ও শালিস বিচারক পরিচয়ের পাশাপাশি সৈয়দ গাজিউর রহমান ছিলেন একজন লেখক ও গবেষক। জ্ঞানচর্চা, লেখালেখি ও গবেষণার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা তাঁর ব্যক্তিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করেছিল। সমাজ ও মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা একজন ব্যক্তির চিন্তা, উপলব্ধি ও জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাঁর দীর্ঘ জীবনও ছিল নানা অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ।
একজন মানুষের জীবনের মূল্য কেবল তাঁর পদ-পদবি কিংবা পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সমাজের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং তাঁর কর্মময় জীবনের স্মৃতিও তাঁকে মানুষের হৃদয়ে বাঁচিয়ে রাখে। সৈয়দ গাজিউর রহমানের দীর্ঘ জীবনের নানা পরিচয় ও অভিজ্ঞতা তাঁকে স্থানীয় পর্যায়ে স্মরণীয় করে রাখবে বলে মনে করছেন তাঁর পরিচিতজনেরা।
সৈয়দ গাজিউর রহমানের মৃত্যুতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তাঁরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় পর্যায়ে যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে, তা তাঁর দীর্ঘদিনের সামাজিক পরিচিতি ও মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরে। একজন প্রবীণ জনপ্রতিনিধি, শালিস বিচারক, লেখক ও গবেষক হিসেবে তাঁর পরিচয় এলাকার মানুষের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন অমলিন থাকবে।
সৈয়দ গাজিউর রহমানের ৯৭ বছরের জীবনাবসান শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, তাঁর পরিচিত সামাজিক পরিমন্ডলের মানুষের জন্যও বেদনাবিধুর ঘটনা। দীর্ঘ জীবনে একজন মানুষ নানা সময়, সমাজ ও পরিবর্তনের সাক্ষী হন। অভিজ্ঞতা, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্য দিয়ে তাঁর জীবন হয়ে ওঠে বহুমাত্রিক।
নূরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে জনপ্রতিনিধিত্ব, বিশিষ্ট শালিস বিচারক হিসেবে সামাজিক পরিচিতি এবং লেখক ও গবেষক হিসেবে জ্ঞানচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ততা-সব মিলিয়ে সৈয়দ গাজিউর রহমান ছিলেন বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী একজন প্রবীণ ব্যক্তিত্ব।
তাঁর মৃত্যুতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা তাঁর পরিবার, আত্মীয়স্বজন, শুভাকাক্সক্ষী ও পরিচিতজনেরা গভীরভাবে অনুভব করবেন। সময়ের পরিক্রমায় মানুষ পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তাঁর জীবন, কর্ম ও স্মৃতির মধ্য দিয়ে তিনি বেঁচে থাকেন আপনজন ও পরিচিত মানুষের হৃদয়ে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:২৩:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
২ বার পড়া হয়েছে

সাবেক স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সৈয়দ গাজিউর রহমানের দাফন সম্পন্ন

আপডেট সময় ১২:২৩:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নূরপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত সাবেক চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট শালিস বিচারক, লেখক ও গবেষক সৈয়দ গাজিউর রহমান আর নেই। দীর্ঘ ৯৭ বছরের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি পাড়ি জমিয়েছেন না-ফেরার দেশে। তাঁর মৃত্যুতে নূরপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একজন প্রবীণ জনপ্রতিনিধি, অভিজ্ঞ শালিস বিচারক ও জ্ঞানচর্চায় নিবেদিত ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে স্থানীয় সমাজে গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার সুরাবই গ্রামে নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সৈয়দ গাজিউর রহমান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়স্বজন, শুভাকাক্সক্ষী, রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়।
মরহুম সৈয়দ গাজিউর রহমানের জানাজার নামাজ মঙ্গলবার রাতে তাঁর নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত মুসল্লি, আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শুভাকাক্সক্ষীদের মধ্যে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জানাজায় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি তাঁর প্রতি স্থানীয় মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হয়। দীর্ঘ জীবনে তিনি যে সামাজিক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পর মানুষের উপস্থিতিতে তার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রিয়জনকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে অনেকেই জানাজায় অংশ নেন এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
সৈয়দ গাজিউর রহমান ছিলেন নূরপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত সাবেক চেয়ারম্যান। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি নিজ এলাকায় পরিচিতি অর্জন করেন। জনসাধারণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা তাঁকে এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিত্বদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব কেবল প্রশাসনিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; মানুষের সমস্যা শোনা, সামাজিক বিরোধের সমাধানে ভূমিকা রাখা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুযোগ থাকে। সৈয়দ গাজিউর রহমানের পরিচয়ের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি শালিস বিচারকের পরিচয়ও বিশেষভাবে জড়িয়ে ছিল।
তাঁর দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা ও সামাজিক অবস্থানের কারণে তিনি স্থানীয় মানুষের কাছে একজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে এলাকার মানুষ একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে হারালেন।
সৈয়দ গাজিউর রহমানের অন্যতম পরিচয় ছিল তিনি একজন বিশিষ্ট শালিস বিচারক। গ্রামীণ সমাজে সামাজিক বিরোধ মীমাংসা, পারস্পরিক ভুল-বোঝাবুঝি দূর করা এবং মানুষের মধ্যে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে শালিসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের পরামর্শ ও মধ্যস্থতা স্থানীয় সমাজে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
সৈয়দ গাজিউর রহমান এই পরিচয়ের মধ্য দিয়েও স্থানীয় মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেন। দীর্ঘ জীবনে অর্জিত অভিজ্ঞতা তাঁকে সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেওয়ার মতো অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিল। তাঁর মতো প্রবীণ ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে স্থানীয় সামাজিক অঙ্গনে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
জনপ্রতিনিধি ও শালিস বিচারক পরিচয়ের পাশাপাশি সৈয়দ গাজিউর রহমান ছিলেন একজন লেখক ও গবেষক। জ্ঞানচর্চা, লেখালেখি ও গবেষণার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা তাঁর ব্যক্তিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করেছিল। সমাজ ও মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা একজন ব্যক্তির চিন্তা, উপলব্ধি ও জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাঁর দীর্ঘ জীবনও ছিল নানা অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ।
একজন মানুষের জীবনের মূল্য কেবল তাঁর পদ-পদবি কিংবা পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সমাজের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং তাঁর কর্মময় জীবনের স্মৃতিও তাঁকে মানুষের হৃদয়ে বাঁচিয়ে রাখে। সৈয়দ গাজিউর রহমানের দীর্ঘ জীবনের নানা পরিচয় ও অভিজ্ঞতা তাঁকে স্থানীয় পর্যায়ে স্মরণীয় করে রাখবে বলে মনে করছেন তাঁর পরিচিতজনেরা।
সৈয়দ গাজিউর রহমানের মৃত্যুতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তাঁরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় পর্যায়ে যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে, তা তাঁর দীর্ঘদিনের সামাজিক পরিচিতি ও মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরে। একজন প্রবীণ জনপ্রতিনিধি, শালিস বিচারক, লেখক ও গবেষক হিসেবে তাঁর পরিচয় এলাকার মানুষের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন অমলিন থাকবে।
সৈয়দ গাজিউর রহমানের ৯৭ বছরের জীবনাবসান শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, তাঁর পরিচিত সামাজিক পরিমন্ডলের মানুষের জন্যও বেদনাবিধুর ঘটনা। দীর্ঘ জীবনে একজন মানুষ নানা সময়, সমাজ ও পরিবর্তনের সাক্ষী হন। অভিজ্ঞতা, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্য দিয়ে তাঁর জীবন হয়ে ওঠে বহুমাত্রিক।
নূরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে জনপ্রতিনিধিত্ব, বিশিষ্ট শালিস বিচারক হিসেবে সামাজিক পরিচিতি এবং লেখক ও গবেষক হিসেবে জ্ঞানচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ততা-সব মিলিয়ে সৈয়দ গাজিউর রহমান ছিলেন বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী একজন প্রবীণ ব্যক্তিত্ব।
তাঁর মৃত্যুতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা তাঁর পরিবার, আত্মীয়স্বজন, শুভাকাক্সক্ষী ও পরিচিতজনেরা গভীরভাবে অনুভব করবেন। সময়ের পরিক্রমায় মানুষ পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তাঁর জীবন, কর্ম ও স্মৃতির মধ্য দিয়ে তিনি বেঁচে থাকেন আপনজন ও পরিচিত মানুষের হৃদয়ে।