ঢাকা ০৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo চুনারুঘাটে কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে গরু দিয়ে জমি চাষ Logo চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩২ পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ১২ চিকিৎসক, Logo হবিগঞ্জে চুনারুঘাটে ৬১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৪ Logo ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর যুবদলের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত Logo সাবেক স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সৈয়দ গাজিউর রহমানের দাফন সম্পন্ন Logo নাব্য সংকটে সুতাং নদী এখন মরা খাল শিল্পবর্জ্যের দূষণে বিষাক্ত পানি Logo সৌদি আরবে প্রাইভেট কারের চাপায় শায়েস্তাগঞ্জের যুবক নিহত, পরিবারে মাতম Logo ‘অভাব তো বয়স বোঝে না, পেট তো খাবার চায়’ Logo আজমিরীগঞ্জে ২১ ঘণ্টা পর নদীতে ভাসল নিখোঁজ গৃহবধূর মরদেহ Logo শায়েস্তাগঞ্জে জয়ন্তিকা ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন, যাত্রীদের দুর্ভোগ

চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩২ পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ১২ চিকিৎসক,

নিজস্ব প্রতিবেদক

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবলসংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জনবল সঙ্কট ও অতিরিক্ত রোগীর চাপে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩২ জন চিকিৎসকের পদ ফাঁকা পড়ে থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১২ জন। এর ওপর ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৬০ থেকে ১৭০ জন রোগী ভর্তি থাকছেন এবং বহির্বিভাগে সেবা নিচ্ছেন শত শত মানুষ। বাধ্য হয়ে মেঝে ও বারান্দায় গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা।

সম্প্রতি হাসপাতালটিতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ৫০টি বেডের প্রতিটিতে দুজন করে রোগী গাদাগাদি করে শুয়ে আছেন। ওয়ার্ডে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। জায়গা না পেয়ে বহু রোগী বাধ্য হয়ে মেঝে, বারান্দা এমনকি সিঁড়ির নিচে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জানালার গ্রিলে ঝুলছে স্যালাইন।

উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন থেকে বাবাকে নিয়ে আসা ষাটোর্ধ্ব জমির আলী আক্ষেপ করে বলেন, তিন দিন ধইরা বাবারে লইয়া আইছি। একটা সিট পাইছি না, নিচেই শুইয়া আছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে (আউটডোর) ৫শ থেকে ৬শ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এ ছাড়া জরুরি বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় আসেন আরও শতাধিক রোগী। অথচ বর্তমানে ১২ জন চিকিৎসকের মধ্যে ২ জন প্রশিক্ষণে এবং ১ জন ছুটিতে রয়েছেন। মাত্র ৯ জন চিকিৎসক দিয়ে পুরো হাসপাতালের সেবা সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্তব্যরত এক চিকিৎসক বলেন, আমরা ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করেও কুলিয়ে উঠতে পারছি না। একজন চিকিৎসককে তিনজনের কাজ করতে হচ্ছে। শুধু চিকিৎসক নয়, হাসপাতালটিতে রয়েছে তীব্র নার্স ও কর্মী সংকট। ৩২টি নার্স পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২২ জন। বহির্বিভাগে ওষুধ বিতরণের জন্য ফার্মাসিস্টের পদ শূন্য রয়েছে। ১৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর জায়গায় কাজ করছেন মাত্র তিনজন। এ ছাড়া টিকিট কাউন্টারে কোনো ক্লার্ক না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা।

চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার চিঠি দিয়েও সুফল মিলছে না। ৩২ জনের জায়গায় ১২ জন দিয়ে তিন লক্ষাধিক মানুষের সেবা দেওয়া অসম্ভব। মানবিক কারণে আমরা কোনো রোগীকে ফেরাতে পারি না, তাই বাধ্য হয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা দিচ্ছি। ৫০ শয্যা থেকে হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি।

চুনারুঘাট প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চুনারুঘাট একটি বড় উপজেলা, যেখানে চা-শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস বেশি। তাদের একমাত্র ভরসা এই সরকারি হাসপাতাল। কিন্তু এখানে চিকিৎসক ও শয্যা নেই। আমরা অবিলম্বে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি হাসপাতালের পুরোনো ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৪:২৯:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
০ বার পড়া হয়েছে

চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩২ পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ১২ চিকিৎসক,

আপডেট সময় ০৪:২৯:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবলসংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জনবল সঙ্কট ও অতিরিক্ত রোগীর চাপে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩২ জন চিকিৎসকের পদ ফাঁকা পড়ে থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১২ জন। এর ওপর ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৬০ থেকে ১৭০ জন রোগী ভর্তি থাকছেন এবং বহির্বিভাগে সেবা নিচ্ছেন শত শত মানুষ। বাধ্য হয়ে মেঝে ও বারান্দায় গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা।

সম্প্রতি হাসপাতালটিতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ৫০টি বেডের প্রতিটিতে দুজন করে রোগী গাদাগাদি করে শুয়ে আছেন। ওয়ার্ডে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। জায়গা না পেয়ে বহু রোগী বাধ্য হয়ে মেঝে, বারান্দা এমনকি সিঁড়ির নিচে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জানালার গ্রিলে ঝুলছে স্যালাইন।

উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন থেকে বাবাকে নিয়ে আসা ষাটোর্ধ্ব জমির আলী আক্ষেপ করে বলেন, তিন দিন ধইরা বাবারে লইয়া আইছি। একটা সিট পাইছি না, নিচেই শুইয়া আছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে (আউটডোর) ৫শ থেকে ৬শ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এ ছাড়া জরুরি বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় আসেন আরও শতাধিক রোগী। অথচ বর্তমানে ১২ জন চিকিৎসকের মধ্যে ২ জন প্রশিক্ষণে এবং ১ জন ছুটিতে রয়েছেন। মাত্র ৯ জন চিকিৎসক দিয়ে পুরো হাসপাতালের সেবা সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্তব্যরত এক চিকিৎসক বলেন, আমরা ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করেও কুলিয়ে উঠতে পারছি না। একজন চিকিৎসককে তিনজনের কাজ করতে হচ্ছে। শুধু চিকিৎসক নয়, হাসপাতালটিতে রয়েছে তীব্র নার্স ও কর্মী সংকট। ৩২টি নার্স পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২২ জন। বহির্বিভাগে ওষুধ বিতরণের জন্য ফার্মাসিস্টের পদ শূন্য রয়েছে। ১৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর জায়গায় কাজ করছেন মাত্র তিনজন। এ ছাড়া টিকিট কাউন্টারে কোনো ক্লার্ক না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা।

চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার চিঠি দিয়েও সুফল মিলছে না। ৩২ জনের জায়গায় ১২ জন দিয়ে তিন লক্ষাধিক মানুষের সেবা দেওয়া অসম্ভব। মানবিক কারণে আমরা কোনো রোগীকে ফেরাতে পারি না, তাই বাধ্য হয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা দিচ্ছি। ৫০ শয্যা থেকে হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি।

চুনারুঘাট প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চুনারুঘাট একটি বড় উপজেলা, যেখানে চা-শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস বেশি। তাদের একমাত্র ভরসা এই সরকারি হাসপাতাল। কিন্তু এখানে চিকিৎসক ও শয্যা নেই। আমরা অবিলম্বে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি হাসপাতালের পুরোনো ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।