ঢাকা ০৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লাখাইয়ে হোমিওপ্যাথিক তরল পানে দম্পতিসহ ৫ জনের মৃত্যু Logo হবিগঞ্জে পাটোয়ারী-সারজিসসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা Logo শায়েস্তাগঞ্জে পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু, শোকের ছায়া গ্রামজুড়ে Logo হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় ১১ জনের নামে এনসিপির মামলা Logo পথে পথে বাধা, শ্রীমঙ্গলে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙলেন এনসিপি নেতারা Logo এনসিপি-ছাত্রদল পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি Logo এনসিপির পদযাত্রায় হামলা, সারজিস ও পাটওয়ারী আহত Logo হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রায় হামলা, সারজিস-পাটওয়ারী আহত Logo চুনারুঘাট সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ঝুলন্ত সেতুর গাইডওয়ালে ধস Logo হবিগঞ্জে চা শ্রমিককে গরম পানি ঢেলে দগ্ধের অভিযোগ, তিন নারী গ্রেপ্তার

নবীগঞ্জে জমিজমা নিয়ে সংঘর্ষে এক কলেজ ছাত্র নিহত ও আহত ২০

সলিল বরণ দাশ, নবীগঞ্জ( হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর গ্রামে সরকারী জমি দখল-বেদখল নিয়ে বিরোধের জেরধরে রবিবার সকালে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মঞ্জুর মিয়া (২৩) নামে এক কলেজ ছাত্র খুন হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ২০ জন। নিহত মঞ্জুর মিয়া ওই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে। খবর পেয়ে থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার করগাওঁ ইউনিয়নের বেগমপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে খলিলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সরকারী জমিতে ঘরবাড়ি তৈরী করে ভোগ দখলে রয়েছেন। একই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে হেলাল মিয়া ও বাবরু মিয়ার ছেলে মনিরুজ্জামানগংরা উক্ত তাদের দখলে নেয়ার চেষ্টা করলে এনিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরধরে রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে হেলাল ও মনিরুজ্জানানের নেতৃত্বে একদল লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উক্ত জমি জবর দখলের চেষ্টা করলে উভয়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন প্রতিপক্ষের আঘাতে মঞ্জুর মিয়াসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। আহতদেরকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মঞ্জুর মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মঞ্জুর মিয়া নবীগঞ্জ সরকারী ডিগ্রী কলেজের বিএ ১ম বর্ষের ছাত্র। অন্যান্য আহতরা হলেন মনিরুজ্জামানের ছেলে সাফি মিয়া (৩২), আনোয়ার মিয়ার ছেলে মুজিবুর রহমান (৩২), রমিজ উল্লার ছেলে শামিম মিয়া (৫০), নিহতের ভাই মামুন মিয়া (৩১), আব্দুল্লাহ মিয়ার ছেলে জুনেদ মিয়া (২৮), রুহেল মিয়া (৩৮), ইমন মিয়া(১৭), কাউছার মিয়া (২২), জুয়েল আহমেদ (৩২), মামুন মিয়া (২৬)। বাকী আহতরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করেছে। এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। নিহতের বাবা খলিলুর রহমান বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে ওই জমিতে তারা বসবাস করে আসছেন। হেলাল ও মনিরুজ্জামানগংরা ওই জমি থেকে তাদের উচ্ছেদ করতে মরিয়া হয়ে উঠে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। রবিবার সকালে ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে হেলাল ও মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল লোকজন অস্ত্রশস্ত্র জমি দখল করতে আসলে বাধাঁ দেই। এতে সংঘর্ষ বাধেঁ। এক পর্যায়ে তারা আমাদের বাড়িঘরে হামলা করে আমার কলেজ পড়–য়া ছেলে’কে হত্যা করেছে।

এ ব্যাপারে ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া বলেন, সরকারী জমি দখল-বেদখল নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে সকালে সংঘর্ষ হলে বেশ কয়েকজন আহত হয়। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসলে মঞ্জুর মিয়া নামে একজনকে মৃত ঘোষনা করেন ডাক্তার। পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতার অভিযান চলছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
৫১ বার পড়া হয়েছে

নবীগঞ্জে জমিজমা নিয়ে সংঘর্ষে এক কলেজ ছাত্র নিহত ও আহত ২০

আপডেট সময় ০৫:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর গ্রামে সরকারী জমি দখল-বেদখল নিয়ে বিরোধের জেরধরে রবিবার সকালে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মঞ্জুর মিয়া (২৩) নামে এক কলেজ ছাত্র খুন হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ২০ জন। নিহত মঞ্জুর মিয়া ওই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে। খবর পেয়ে থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার করগাওঁ ইউনিয়নের বেগমপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে খলিলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সরকারী জমিতে ঘরবাড়ি তৈরী করে ভোগ দখলে রয়েছেন। একই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে হেলাল মিয়া ও বাবরু মিয়ার ছেলে মনিরুজ্জামানগংরা উক্ত তাদের দখলে নেয়ার চেষ্টা করলে এনিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরধরে রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে হেলাল ও মনিরুজ্জানানের নেতৃত্বে একদল লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উক্ত জমি জবর দখলের চেষ্টা করলে উভয়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন প্রতিপক্ষের আঘাতে মঞ্জুর মিয়াসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। আহতদেরকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মঞ্জুর মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মঞ্জুর মিয়া নবীগঞ্জ সরকারী ডিগ্রী কলেজের বিএ ১ম বর্ষের ছাত্র। অন্যান্য আহতরা হলেন মনিরুজ্জামানের ছেলে সাফি মিয়া (৩২), আনোয়ার মিয়ার ছেলে মুজিবুর রহমান (৩২), রমিজ উল্লার ছেলে শামিম মিয়া (৫০), নিহতের ভাই মামুন মিয়া (৩১), আব্দুল্লাহ মিয়ার ছেলে জুনেদ মিয়া (২৮), রুহেল মিয়া (৩৮), ইমন মিয়া(১৭), কাউছার মিয়া (২২), জুয়েল আহমেদ (৩২), মামুন মিয়া (২৬)। বাকী আহতরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করেছে। এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। নিহতের বাবা খলিলুর রহমান বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে ওই জমিতে তারা বসবাস করে আসছেন। হেলাল ও মনিরুজ্জামানগংরা ওই জমি থেকে তাদের উচ্ছেদ করতে মরিয়া হয়ে উঠে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। রবিবার সকালে ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে হেলাল ও মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল লোকজন অস্ত্রশস্ত্র জমি দখল করতে আসলে বাধাঁ দেই। এতে সংঘর্ষ বাধেঁ। এক পর্যায়ে তারা আমাদের বাড়িঘরে হামলা করে আমার কলেজ পড়–য়া ছেলে’কে হত্যা করেছে।

এ ব্যাপারে ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া বলেন, সরকারী জমি দখল-বেদখল নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে সকালে সংঘর্ষ হলে বেশ কয়েকজন আহত হয়। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসলে মঞ্জুর মিয়া নামে একজনকে মৃত ঘোষনা করেন ডাক্তার। পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতার অভিযান চলছে।