ঢাকা ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নিজস্ব কোনো ভবন নেই দাপ্তরিক কাজ হচ্ছে ভাড়া বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে। Logo শায়েস্তাগঞ্জে ভয়াবহ যানজট-দেখার যেন কেউ নেই Logo মাধবপুর পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি Logo চুনারুঘাটে খোয়াই নদীতে গোসল করতে গিয়ে বৃদ্ধ নিখোঁজ Logo শায়েস্তাগঞ্জে বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলর আব্দুল আহাদকে প্রেসক্লাবের সংবর্ধনা Logo ‘বাজেট বুঝি না, শুধু দুবেলা খাবার চাই’ Logo ‘চা শ্রমিকের কোনো পরিবর্তন নেই’প্রতিদিন ১৮৭ টাকা মজুরি নিয়ে দুর্দশার জীবন কাটাছে Logo মহান মে দিবস আজ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন Logo খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কায় হাজারো কৃষক Logo এক মুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারব না ২ হাজার ৭১০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে

শায়েস্তাগঞ্জে ভয়াবহ যানজট-দেখার যেন কেউ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

শায়েস্তাগঞ্জ শহরে দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে যানজট। গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক ও যোগাযোগ কেন্দ্রের প্রধান সড়কগুলো এখন প্রায় সারাদিনই যানবাহনের দীর্ঘ সারিতে স্থবির হয়ে থাকে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও যাত্রীরা। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে কয়েক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শায়েস্তাগঞ্জ শহরে যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হলো সড়কের উপর অবাধে যানবাহন পার্কিং। শহরের বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য যানবাহন রাস্তার একাংশ দখল করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে। এতে সড়ক সরু হয়ে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। কোনো কোনো স্থানে রাস্তার দুই পাশেই যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখায় যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
এর পাশাপাশি শহরের ফুটপাত ও রাস্তার অংশ দখল করে দোকানপাট বসানোর প্রবণতাও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের অনেকেই দোকানের পণ্য সামগ্রী ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়কের উপর পর্যন্ত সাজিয়ে রাখছেন। আবার কোথাও কোথাও অস্থায়ী দোকান বসিয়ে রাস্তার জায়গা সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে। এতে পথচারীরা বাধ্য হয়ে সড়কে নেমে চলাচল করছেন, যা একদিকে যেমন যানজট বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি করছে।
শহরের রেলওয়ে জংশন এলাকা, পুরানবাজার, নতুন ব্রিজ, ড্রাইভার বাজার, হাসপাতাল সড়ক, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সংযোগস্থলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রায় প্রতিদিনই যানজটের চিত্র দেখা যায়। বিশেষ করে ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় এবং অফিস-আদালত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটির সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা জানান, যানজটের কারণে প্রতিনিয়ত মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা সময়মতো বিদ্যালয় ও কলেজে পৌঁছাতে পারছে না। চাকরিজীবীদের অফিসে যেতে দেরি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনেও সৃষ্টি হচ্ছে নানা জটিলতা। অনেক সময় রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স পর্যন যানজটে আটকা পড়ে, যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, একসময় শায়েস্তাগঞ্জ শহরে এমন পরিস্থিতি ছিল না। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি, যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে বর্তমানে যানজট একটি স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতাও এ সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, অবৈধ পার্কিং বন্ধ, ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত করা, নির্দিষ্ট স্থানে যানবাহনের স্ট্যান্ড স্থাপন, ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম জোরদার এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে সমস্যার অনেকটাই সমাধান করা সম্ভব। এছাড়া শহরের ব্যস্ত এলাকাগুলোতে সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে শহরের তীব্র যানজট নিরসনে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীরব ভূমিকা পালন করছেন। এনিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চলমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা স্থায়ী কোনো সুফল বয়ে আনতে পারেনি। ফলে দিন দিন যানজট আরও প্রকট হয়ে উঠছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
শহরবাসীর দাবি, শায়েস্তাগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে যানজট নিরসনে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে এবং জনজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। তাই জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে শায়েস্তাগঞ্জ শহরকে যানজটমুক্ত ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জোর দাবি জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:০২:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
০ বার পড়া হয়েছে

শায়েস্তাগঞ্জে ভয়াবহ যানজট-দেখার যেন কেউ নেই

আপডেট সময় ১০:০২:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

শায়েস্তাগঞ্জ শহরে দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে যানজট। গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক ও যোগাযোগ কেন্দ্রের প্রধান সড়কগুলো এখন প্রায় সারাদিনই যানবাহনের দীর্ঘ সারিতে স্থবির হয়ে থাকে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও যাত্রীরা। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে কয়েক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শায়েস্তাগঞ্জ শহরে যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হলো সড়কের উপর অবাধে যানবাহন পার্কিং। শহরের বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য যানবাহন রাস্তার একাংশ দখল করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে। এতে সড়ক সরু হয়ে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। কোনো কোনো স্থানে রাস্তার দুই পাশেই যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখায় যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
এর পাশাপাশি শহরের ফুটপাত ও রাস্তার অংশ দখল করে দোকানপাট বসানোর প্রবণতাও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের অনেকেই দোকানের পণ্য সামগ্রী ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়কের উপর পর্যন্ত সাজিয়ে রাখছেন। আবার কোথাও কোথাও অস্থায়ী দোকান বসিয়ে রাস্তার জায়গা সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে। এতে পথচারীরা বাধ্য হয়ে সড়কে নেমে চলাচল করছেন, যা একদিকে যেমন যানজট বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি করছে।
শহরের রেলওয়ে জংশন এলাকা, পুরানবাজার, নতুন ব্রিজ, ড্রাইভার বাজার, হাসপাতাল সড়ক, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সংযোগস্থলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রায় প্রতিদিনই যানজটের চিত্র দেখা যায়। বিশেষ করে ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় এবং অফিস-আদালত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটির সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা জানান, যানজটের কারণে প্রতিনিয়ত মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা সময়মতো বিদ্যালয় ও কলেজে পৌঁছাতে পারছে না। চাকরিজীবীদের অফিসে যেতে দেরি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনেও সৃষ্টি হচ্ছে নানা জটিলতা। অনেক সময় রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স পর্যন যানজটে আটকা পড়ে, যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, একসময় শায়েস্তাগঞ্জ শহরে এমন পরিস্থিতি ছিল না। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি, যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে বর্তমানে যানজট একটি স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতাও এ সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, অবৈধ পার্কিং বন্ধ, ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত করা, নির্দিষ্ট স্থানে যানবাহনের স্ট্যান্ড স্থাপন, ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম জোরদার এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে সমস্যার অনেকটাই সমাধান করা সম্ভব। এছাড়া শহরের ব্যস্ত এলাকাগুলোতে সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে শহরের তীব্র যানজট নিরসনে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীরব ভূমিকা পালন করছেন। এনিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চলমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা স্থায়ী কোনো সুফল বয়ে আনতে পারেনি। ফলে দিন দিন যানজট আরও প্রকট হয়ে উঠছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
শহরবাসীর দাবি, শায়েস্তাগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে যানজট নিরসনে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে এবং জনজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। তাই জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে শায়েস্তাগঞ্জ শহরকে যানজটমুক্ত ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জোর দাবি জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।