ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় এক আসামির মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন Logo চাকরির পরীক্ষা দিতে ঢাকা গিয়ে নিখোঁজ বাহুবল সাটিয়াজুরী রেলস্টেশনের পশ্চিম পাশে যুবকের মরদেহ উদ্ধার Logo খোয়াই নদীর ভাঙনের নেপথ্যে ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলন’, দুর্ভোগে ৩০ গ্রামের মানুষ Logo ৩০ হাজার মানুষকে ঘরছাড়া করে শান্ত হলো খোয়াই নদী Logo সাতছড়ি উদ্যানে দেখা গেছে বিরল ‘কালো মথুরা’ ॥ উচ্ছ্বাসিত প্রকৃতিপ্রেমীরা Logo শায়েস্তাগঞ্জের আলাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযানে ড্রেজার ও পাইপ জব্দ Logo মাধবপুরে র‌্যাবের অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার Logo নবীগঞ্জে চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক ব্যক্তি নিহত Logo সিলেট শিক্ষাবোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত হচ্ছে না Logo খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে ২৫ গ্রাম প্লাবিত, দুর্ভোগে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ

সাতছড়ি উদ্যানে দেখা গেছে বিরল ‘কালো মথুরা’ ॥ উচ্ছ্বাসিত প্রকৃতিপ্রেমীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে দেশের অন্যতম বিরল বনজ পাখি ‘কালো মথুরা’ (কধষরল ঢ়যবধংধহঃ) আবারও ক্যামেরাবন্দী হয়েছে। প্রখ্যাত বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফার আনিস শেখ সম্প্রতি উদ্যানের গভীর অরণ্যে পাখিটির একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ (গধষব) কালো মথুরার দুর্লভ ছবি ধারণ করেন। ছবিটি প্রকাশের পর প্রকৃতিপ্রেমী, পাখি গবেষক এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। বন বিশেষজ্ঞদের মতে, কালো মথুরা বাংলাদেশের অত্যন্ত বিরল আবাসিক বনমুরগি। ঘন চিরসবুজ ও আধা-চিরসবুজ বনাঞ্চলে এদের বসবাস। মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই দ্রুত ঝোপঝাড়ের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে বলে পাখিটিকে খালি চোখে দেখা অত্যন্ত কঠিন। এ কারণে এর ছবি ধারণ করাও বেশ চ্যালেঞ্জিং।
আনিস শেখ জানান, দীর্ঘ সময় ধৈর্য ধরে বন পর্যবেক্ষণের পর তিনি সাতছড়ির একটি নিরিবিলি স্থানে কালো মথুরাটির দেখা পান। পাখিটি কিছুক্ষণ বনপথের পাশে খাদ্যের সন্ধান করছিল। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে তিনি ক্যামেরায় কয়েকটি দুর্লভ মুহূর্ত ধারণ করতে সক্ষম হন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের বনাঞ্চলে এমন বিরল প্রজাতির পাখির উপস্থিতি আমাদের জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এটি সংরক্ষণে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।”
প্রকৃতিবিদদের ভাষ্য, পুরুষ কালো মথুরার শরীরে চকচকে নীলাভ-কালো পালক, মাথায় লাল রঙের খোলা ত্বক এবং লম্বা সাদা-কালো মিশ্রিত লেজ থাকে, যা সহজেই অন্য বনমুরগি থেকে আলাদা করে চেনা যায়। বনজ ফল, বীজ, কচি পাতা ও ছোট ছোট পোকামাকড় এদের প্রধান খাদ্য।
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল। প্রায় ২৪৩ হেক্টর আয়তনের এই সংরক্ষিত বনে রয়েছে শতাধিক প্রজাতির পাখি, অসংখ্য প্রজাতির স্তন্যপায়ী, সরীসৃপ ও উভচর প্রাণী। বিশেষ করে উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, মায়া হরিণ, বনবিড়ালসহ নানা বিরল প্রাণীর পাশাপাশি কালো মথুরার মতো দুর্লভ পাখির উপস্থিতি এ উদ্যানের পরিবেশগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীরা বলছেন, অবৈধ গাছ কাটা, বনভূমিতে মানুষের অনুপ্রবেশ, শব্দদূষণ এবং আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে এমন বিরল পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তাই সাতছড়িসহ দেশের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নজরদারি বাড়ানো, দর্শনার্থীদের সচেতন করা এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল অক্ষুন্ন রাখা জরুরি।
সাতছড়ি রেন্জ কর্মকর্তা মেহেদী মাসুদ জানান, কালো মথুরার এই দুর্লভ উপস্থিতি শুধু একটি সুন্দর আলোকচিত্র নয়; এটি সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল এবং দেশের বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার শক্তিশালী বার্তা। সাতছড়ি বনের জীববৈচিত্র আগের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৩:১২:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
৪ বার পড়া হয়েছে

সাতছড়ি উদ্যানে দেখা গেছে বিরল ‘কালো মথুরা’ ॥ উচ্ছ্বাসিত প্রকৃতিপ্রেমীরা

আপডেট সময় ০৩:১২:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে দেশের অন্যতম বিরল বনজ পাখি ‘কালো মথুরা’ (কধষরল ঢ়যবধংধহঃ) আবারও ক্যামেরাবন্দী হয়েছে। প্রখ্যাত বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফার আনিস শেখ সম্প্রতি উদ্যানের গভীর অরণ্যে পাখিটির একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ (গধষব) কালো মথুরার দুর্লভ ছবি ধারণ করেন। ছবিটি প্রকাশের পর প্রকৃতিপ্রেমী, পাখি গবেষক এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। বন বিশেষজ্ঞদের মতে, কালো মথুরা বাংলাদেশের অত্যন্ত বিরল আবাসিক বনমুরগি। ঘন চিরসবুজ ও আধা-চিরসবুজ বনাঞ্চলে এদের বসবাস। মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই দ্রুত ঝোপঝাড়ের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে বলে পাখিটিকে খালি চোখে দেখা অত্যন্ত কঠিন। এ কারণে এর ছবি ধারণ করাও বেশ চ্যালেঞ্জিং।
আনিস শেখ জানান, দীর্ঘ সময় ধৈর্য ধরে বন পর্যবেক্ষণের পর তিনি সাতছড়ির একটি নিরিবিলি স্থানে কালো মথুরাটির দেখা পান। পাখিটি কিছুক্ষণ বনপথের পাশে খাদ্যের সন্ধান করছিল। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে তিনি ক্যামেরায় কয়েকটি দুর্লভ মুহূর্ত ধারণ করতে সক্ষম হন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের বনাঞ্চলে এমন বিরল প্রজাতির পাখির উপস্থিতি আমাদের জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এটি সংরক্ষণে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।”
প্রকৃতিবিদদের ভাষ্য, পুরুষ কালো মথুরার শরীরে চকচকে নীলাভ-কালো পালক, মাথায় লাল রঙের খোলা ত্বক এবং লম্বা সাদা-কালো মিশ্রিত লেজ থাকে, যা সহজেই অন্য বনমুরগি থেকে আলাদা করে চেনা যায়। বনজ ফল, বীজ, কচি পাতা ও ছোট ছোট পোকামাকড় এদের প্রধান খাদ্য।
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল। প্রায় ২৪৩ হেক্টর আয়তনের এই সংরক্ষিত বনে রয়েছে শতাধিক প্রজাতির পাখি, অসংখ্য প্রজাতির স্তন্যপায়ী, সরীসৃপ ও উভচর প্রাণী। বিশেষ করে উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, মায়া হরিণ, বনবিড়ালসহ নানা বিরল প্রাণীর পাশাপাশি কালো মথুরার মতো দুর্লভ পাখির উপস্থিতি এ উদ্যানের পরিবেশগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীরা বলছেন, অবৈধ গাছ কাটা, বনভূমিতে মানুষের অনুপ্রবেশ, শব্দদূষণ এবং আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে এমন বিরল পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তাই সাতছড়িসহ দেশের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নজরদারি বাড়ানো, দর্শনার্থীদের সচেতন করা এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল অক্ষুন্ন রাখা জরুরি।
সাতছড়ি রেন্জ কর্মকর্তা মেহেদী মাসুদ জানান, কালো মথুরার এই দুর্লভ উপস্থিতি শুধু একটি সুন্দর আলোকচিত্র নয়; এটি সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল এবং দেশের বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার শক্তিশালী বার্তা। সাতছড়ি বনের জীববৈচিত্র আগের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়।