ঢাকা ০৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যালয়ে তদারকি জোরদার করা হবে : হবিগঞ্জে ববি হাজ্জাজ Logo হত্যার ৩ বছর পর সেপটিক ট্যাংক থেকে প্রবাসীর দেহাবশেষ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪ Logo তিন সপ্তাহ ধরে মজুরি বন্ধ, বিপাকে ৪ চা বাগানের শ্রমিকেরা Logo বাহুবলে পিকআপ-কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে শ্রমিক নিহত, আহত ৪ Logo ট্রেনের শেষ বগীর পেছনেই ৩৫ বছরের জীবন Logo চুনারুঘাটে কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে গরু দিয়ে জমি চাষ Logo চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩২ পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ১২ চিকিৎসক, Logo হবিগঞ্জে চুনারুঘাটে ৬১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৪ Logo ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর যুবদলের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত Logo সাবেক স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সৈয়দ গাজিউর রহমানের দাফন সম্পন্ন

শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যালয়ে তদারকি জোরদার করা হবে : হবিগঞ্জে ববি হাজ্জাজ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:-

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম তদারকি জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার ও আধুনিক ভবন নির্মাণ এবং শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নতুন মনিটরিং নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বিজ্ঞানসম্মত ও সহজবোধ্য শিক্ষাক্রম প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

বুধবার হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় এস এম ফয়সল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) স্কুল ফিডিং কর্মসূচি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, হবিগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থান দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন—এমন ধারণা সঠিক নয়। তবে এ জেলার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এস এম ফয়সল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪০০-এর বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টির কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন করে আমি মানসম্মত পাঠদান লক্ষ্য করেছি।

তিনি বলেন, সরকার দেশব্যাপী স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করেছে এবং আগামী বছরের মধ্যে এটি দেশের সব বিদ্যালয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, ডব্লিউএফপি মাধবপুর উপজেলায় ১৫০টির বেশি বিদ্যালয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের কর্মসূচির ভালো দিকগুলো অনুসরণ এবং সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে সরকারি কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নতুন মনিটরিং নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে। চলতি মাসেই নীতিমালাটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ এবং অবকাঠামোগত নানা সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে মডেল স্কুল প্রকল্প, পিডিবি-৫, জিপিএস প্রকল্পসহ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর বিদ্যালয় ভবন নিশ্চিত করা। এর মধ্যে দুটি প্রকল্প শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে এবং পিডিবি-৫ প্রকল্পটি ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের বয়স ও শেখার উপযোগিতা বিবেচনায় নিয়ে আরও উন্নত ও বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ চলছে। এ দায়িত্ব জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি) দেওয়া হয়েছে। নতুন শিক্ষাক্রমে বিদ্যালয়ের এক শিফট ও দুই শিফটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সময়ের বৈষম্য দূর করা, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা ও শিখনসামগ্রী সহজবোধ্য করা এবং নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল, ডব্লিউএফপির হেড অব প্রোগ্রাম জেসি উড, স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের হেড এমা লেফু, মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান, সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রাফিউর রহমানসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রতিমন্ত্রী জগদীশপুর চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:৪০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
২ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যালয়ে তদারকি জোরদার করা হবে : হবিগঞ্জে ববি হাজ্জাজ

আপডেট সময় ০৮:৪০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম তদারকি জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার ও আধুনিক ভবন নির্মাণ এবং শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নতুন মনিটরিং নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বিজ্ঞানসম্মত ও সহজবোধ্য শিক্ষাক্রম প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

বুধবার হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় এস এম ফয়সল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) স্কুল ফিডিং কর্মসূচি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, হবিগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থান দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন—এমন ধারণা সঠিক নয়। তবে এ জেলার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এস এম ফয়সল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪০০-এর বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টির কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন করে আমি মানসম্মত পাঠদান লক্ষ্য করেছি।

তিনি বলেন, সরকার দেশব্যাপী স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করেছে এবং আগামী বছরের মধ্যে এটি দেশের সব বিদ্যালয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, ডব্লিউএফপি মাধবপুর উপজেলায় ১৫০টির বেশি বিদ্যালয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের কর্মসূচির ভালো দিকগুলো অনুসরণ এবং সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে সরকারি কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নতুন মনিটরিং নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে। চলতি মাসেই নীতিমালাটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ এবং অবকাঠামোগত নানা সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে মডেল স্কুল প্রকল্প, পিডিবি-৫, জিপিএস প্রকল্পসহ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর বিদ্যালয় ভবন নিশ্চিত করা। এর মধ্যে দুটি প্রকল্প শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে এবং পিডিবি-৫ প্রকল্পটি ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের বয়স ও শেখার উপযোগিতা বিবেচনায় নিয়ে আরও উন্নত ও বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ চলছে। এ দায়িত্ব জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি) দেওয়া হয়েছে। নতুন শিক্ষাক্রমে বিদ্যালয়ের এক শিফট ও দুই শিফটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সময়ের বৈষম্য দূর করা, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা ও শিখনসামগ্রী সহজবোধ্য করা এবং নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল, ডব্লিউএফপির হেড অব প্রোগ্রাম জেসি উড, স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের হেড এমা লেফু, মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান, সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রাফিউর রহমানসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রতিমন্ত্রী জগদীশপুর চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।