ঢাকা ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হবিগঞ্জে ৩টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা Logo আজমিরীগঞ্জে শ্রমিক ও মেশিনের অভাবে মাঠেই নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় বোরো ধান Logo স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও অবহেলিত মাধবপুরের শামসুন্নাহার Logo হবিগঞ্জ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন, ভোগান্তি চরমে Logo হবিগঞ্জে ভুল প্রশ্নে দাখিল পরীক্ষা, তিনজনকে অব্যাহতি Logo শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে ডিসপেন্সারিতে চিকিৎসক নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন Logo নিখোঁজের ৪ দিন পর চুনারুঘাটে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় নারীর মরদেহ উদ্ধার Logo সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেলেন হবিগঞ্জের শাম্মী আক্তার Logo নবীগঞ্জে জমিজমা নিয়ে সংঘর্ষে এক কলেজ ছাত্র নিহত ও আহত ২০ Logo হবিগঞ্জে বেপরোয়া ট্রান্সফরমার চোরচক্র, সংকটে চা শিল্প

আত্মগোপনে ব্যারিস্টার সুমন

শায়েস্তাগঞ্জের বাণী ডেস্ক ,

চুনারুঘাট আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে গেছেন। মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে তাদের। আওয়ামী লীগ সরকারের আচমকা পতনের পর নেতাকর্মীরা মনোবল হারিয়ে অনেকটা নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। তৃণমূল পর্যায়ের নগণ্যসংখ্যক কর্মীদের বাজার-হাটে দেখা গেলেও নেতারা কেউই রাস্তাঘাটে চলাফেরা করছেন না।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই চুনারুঘাট আওয়ামী লীগে ভাঙন দেখা দেয়। এ সুযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ সায়েদুল হক (ব্যরিস্টার সুমন) বিপুল ভোটে নৌকার প্রার্থী এডভোকেট মাহবুব আলীকে পরাজিত করেন। নির্বাচনের পর ব্যরিস্টার সুমন নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসাবে জাহির করার চেষ্টা চালান এবং পছন্দমতো ছাত্রলীগ কমিটি গঠনে মনোনিবেশ করেন। ৫ই আগস্ট দলের সভাপতি শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পরপরই দাপুটে নেতারা আত্মগোপন করেন। ছাত্রদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ভবিষ্যৎ আঁচ করতে পেরে ব্যরিস্টার সুমন এলাকা ছেড়ে চলে যান এবং নিজেকে লুকিয়ে রাখেন। তিনি দেশের ভেতরে কোথাও লুকিয়ে আছেন নাকি আমেরিকা তার পরিবারের কাছে চলে গেছেন তা এখনো স্পষ্ট নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু জানান, ব্যরিস্টার সুমন বর্তমানে আমেরিকা আছেন যদিও এ তথ্যের কোনো নির্ভরযোগ্যতা নেই। এদিকে চুনারুঘাট আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আকবর হোসেন জিতু, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আলী, সাবেক সম্পাদক আবু তাহের, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির লস্করসহ দলের শীর্ষ নেতারা আত্মগোপনে রয়েছেন।

আত্মগোপনে রয়েছেন চুনারুঘাট পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা, পাইকপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াহেদ আলী, রাণীগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, মিরাশি ইউপি চেয়ারম্যান মানিক সরকারসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী। গত ৫ই আগস্ট দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরেই চুনারুঘাট পৌর শহরকে দখলে নেয় ছাত্ররা। এ সুযোগে পৌর শহরে অবস্থিত ‘মুক্তিযোদ্ধা চত্বর’র নামফলক পাল্টে ‘মেয়র মোহাম্মদ আলী চত্বর’ ব্যানার টানিয়ে দেয় একটি পক্ষ। এদিন রাতে ব্যারিস্টার সুমন ফুটবল একাডেমির বাস ও তার বাসায় আক্রমণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয় দুর্বৃত্তরা। তবে উপজেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ের অদূরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আক্রমণ করে একদল বিক্ষোভকারী। দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর চুনারুঘাটে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:১৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৪
১৫৬ বার পড়া হয়েছে

আত্মগোপনে ব্যারিস্টার সুমন

আপডেট সময় ০৭:১৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৪

চুনারুঘাট আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে গেছেন। মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে তাদের। আওয়ামী লীগ সরকারের আচমকা পতনের পর নেতাকর্মীরা মনোবল হারিয়ে অনেকটা নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। তৃণমূল পর্যায়ের নগণ্যসংখ্যক কর্মীদের বাজার-হাটে দেখা গেলেও নেতারা কেউই রাস্তাঘাটে চলাফেরা করছেন না।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই চুনারুঘাট আওয়ামী লীগে ভাঙন দেখা দেয়। এ সুযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ সায়েদুল হক (ব্যরিস্টার সুমন) বিপুল ভোটে নৌকার প্রার্থী এডভোকেট মাহবুব আলীকে পরাজিত করেন। নির্বাচনের পর ব্যরিস্টার সুমন নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসাবে জাহির করার চেষ্টা চালান এবং পছন্দমতো ছাত্রলীগ কমিটি গঠনে মনোনিবেশ করেন। ৫ই আগস্ট দলের সভাপতি শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পরপরই দাপুটে নেতারা আত্মগোপন করেন। ছাত্রদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ভবিষ্যৎ আঁচ করতে পেরে ব্যরিস্টার সুমন এলাকা ছেড়ে চলে যান এবং নিজেকে লুকিয়ে রাখেন। তিনি দেশের ভেতরে কোথাও লুকিয়ে আছেন নাকি আমেরিকা তার পরিবারের কাছে চলে গেছেন তা এখনো স্পষ্ট নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু জানান, ব্যরিস্টার সুমন বর্তমানে আমেরিকা আছেন যদিও এ তথ্যের কোনো নির্ভরযোগ্যতা নেই। এদিকে চুনারুঘাট আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আকবর হোসেন জিতু, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আলী, সাবেক সম্পাদক আবু তাহের, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির লস্করসহ দলের শীর্ষ নেতারা আত্মগোপনে রয়েছেন।

আত্মগোপনে রয়েছেন চুনারুঘাট পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা, পাইকপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াহেদ আলী, রাণীগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, মিরাশি ইউপি চেয়ারম্যান মানিক সরকারসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী। গত ৫ই আগস্ট দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরেই চুনারুঘাট পৌর শহরকে দখলে নেয় ছাত্ররা। এ সুযোগে পৌর শহরে অবস্থিত ‘মুক্তিযোদ্ধা চত্বর’র নামফলক পাল্টে ‘মেয়র মোহাম্মদ আলী চত্বর’ ব্যানার টানিয়ে দেয় একটি পক্ষ। এদিন রাতে ব্যারিস্টার সুমন ফুটবল একাডেমির বাস ও তার বাসায় আক্রমণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয় দুর্বৃত্তরা। তবে উপজেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ের অদূরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আক্রমণ করে একদল বিক্ষোভকারী। দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর চুনারুঘাটে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।